বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » দাউদকান্দি-হোমনা নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্বোধন আজ


দাউদকান্দি-হোমনা নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের উদ্বোধন আজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.10.2017

উদ্বোধন করবেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার।।
বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সার্বক্ষণিক সচল রাখতে দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুর ৫০ কিলোমিটার নৌপথ ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ কাজও শেষ হয়েছে। সে অনুযায়ী উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান নৌপথের ডিজাইন কাজ সম্পন্ন করেছে। ইতিমধ্যে ড্রেজিং কাজও শুরু হয়েছে। ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে দাউদকান্দি থেকে হোমনা ও রামকৃষ্ণপুর এলাকায় নৌপথে সরাসরি নৌযোগাযোগ চালু হবে এবং সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান।
অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান নির্বিঘেœ ও নিরাপদে চলাচলের জন্য আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। দাউদকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন পার্কের পাশে অনুষ্ঠিত মঞ্চে সভাপতিত্ব করবেন বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনের এমপি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, নৌ সচিব মো. আবদুস সামাদ, বিআইডব্লিউটিএ সচিব কাজি ওয়াকিল নওয়াজ উপস্থিত থাকবেন।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপথে ৫৩টি রুটে (প্রথম পর্যায়ে ২৪টি রুট) নদী খনন প্রকল্পের আওতায় দাউদকান্দি, হোমনা ও রামকৃষ্ণপুর নৌপথের ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়।

বিআইডব্লিটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের ৫৩টি নৌপথ আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে না। ১৯ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে। নৌপথের মার্কিং হিসেবে প্রয়োজনীয় লাইটেড বয়া, বিকন বাতি স্থাপন করা হবে। এতে সারাবছর ৪ মিটার গভীরতার নৌযানগুলো চলাচল করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ৫০ কোলোমিটার নৌপথের মধ্যে দাউদকান্দি ব্রিজ থেকে হোমনা হয়ে রামকৃষ্ণপুর পর্যন্ত নৌপথটি ২০০ ফুট প্রশস্ততা ও ১২ ফুট গভীরতায় খনন করা হবে বলে জানা গেছে। দাউদকান্দি, হোমনা ও রামকৃষ্ণপুর নৌপথের মধ্যে গোমতী, মেঘনা ও তিতাস নদীও রয়েছে।

বিআইডব্লিউটএ সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর সংরক্ষণ, খনন কর্মসূচির আওতায় নৌচলাচলে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ফেরি ও নৌপথগুলোর নাব্য অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোর নাব্য উন্নয়ন কল্পে ৫৩টি নৌপথে ৯ বছর মেয়াদি ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

এ পরিকল্পনার আওতায় আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদীভুক্ত মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ নৌপথের নাব্য বৃদ্ধির জন্য মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া-টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ-নৌপথে ড্রেজিং শীর্ষক একটি প্রকল্প ২৫ জানুয়ারি একনেক অনুমোদন দিয়েছে এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি নৌপথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (১ম পর্যায় ২৪ নৌপথ) শীর্ষক একটি প্রকল্প এবং ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ড্রেজিং শীর্ষক অন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ৫৩টি পথে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (১ম পর্যায় ২৪ নৌপথ) প্রকল্পের ডিপিপির ওপর পরিকল্পনা কমিশনে ২০১০ সালের ২২ আগস্ট পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ড্রেজিং দরপত্র পুনঃনির্ধারকপূর্বক ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়।

প্রথম পর্যায়ে যে ২৪টি পথে ড্রেজিংয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম-পথ, চাঁদপুর-হিজলা-বরিশাল পথ, গাশিয়াখালী-বরিশাল- কালিগঞ্জ-চাঁদপুর-আরিচা নৌপথ, ভৈরব বাজার-লিপসা-চটক-সিলেট নৌপথ, গাজলাজর-মোহনগঞ্জ পথ, লোয়ারগা-দুলোভপুর পথ, চিটরি-নবীনগর-কুটিবাজার নৌপথ, নরসিংদী-কাটিয়াদী নৌপথ, নরসিংদী-মরিচাকান্দি- সেলিমগঞ্জ-বাঞ্জারামপুর-হোমনা নৌপথ, দাউদকান্দি-হোমনা-রামকৃষ্ণপুর পথ, চাঁদপুর-ইচুলি-ফরিদগঞ্জ পথ, বরিশাল-ঝালকাঠি-পাথরঘাটা নৌপথ, খুলনা-গাজিরহাট- মানিকদা পথ, নন্দীবাজার-মাদারীপুর নৌপথ, দিলালপুর- গৌরাদিঘার-চামড়াঘাট-নীলকিয়াটপাড়া-নেত্রকোনা পথ, মনুমুখ-মৌলভীবাজার নৌপথ, মিরপুর-সাভার নৌপথ, শ্রীপুর- ভোলা খেয়াঘাট-গঙ্গাপুর-ভোলা নৌপথ, চৌকিঘাটা- কালীগঞ্জ পথ, পটুয়াখালী-মীর্জাগঞ্জ পথ, হোসনাবাদ-টরকী-ফাঁসিতলা নৌপথ এবং দালারচর-বালিয়াকান্দি-বোয়ালমারী- কাশিয়ানি নৌপথ।

অপর যে ১২টি নৌপথ ড্রেজিংয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো ঢাকা-তালতলা-ডহুরী, জারিরা-মাদারীপুর-কবিরাজপুর-চৌধুরীরহাট-পিজাখালি-চরজানাজাত- কেওড়াকান্দি নৌপথ, লাহার হাট-ভেদুরিয়া নৌপথ, শাহেবের হাট-টঙ্গীবাড়ি-লাহারহাট পথ, ঢাকা সদর ঘাট-ভিরুলিয়া-পাটুরিয়া-বাঘাবাড়ী পথ, ডেমরা-ঘোড়াশাল-পলাশ পথ, ঢাকা-রামচর-মাদারীপুর নৌপথ, ঢাকা-শরীয়তপুর নৌপথ, চাঁদপুর-নন্দীরবাজার-শিকারপুর- হুলারহাট পথ, হুলারহাট-চরচাপালি-গোপালগঞ্জ পথ, নারায়ণগঞ্জ-দাউদকান্দি পথ এবং ঢাকা-সুরেশ্বর- আঙ্গারিয়া-মাদারীপুর-নৌপথ।

এ প্রসঙ্গে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, দেশের অনেক নদী নাব্য হারিয়ে ফেলেছিল, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনা ও খননের কাজ গতিশীল করেছে। ২০০৯ সাল থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত ১৪টি ড্রেজার কিনেছে সরকার।

তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আরো ২০টি ড্রেজার কেনার কাজ চলছে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে আরো ৫০টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ড্রেজার দিয়ে নদী খননের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮০ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হয়েছে। নদী খনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য তিনটি এক্সাভেডর ক্রয় করা হয়েছে, আরো ৬টি এক্সাভেডর ক্রয়া করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।