বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭


ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলো ইউএনও


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.10.2017

স্টাফ রিপোর্টার,চাঁদপুর।।
কতই বা বয়স ওর। নবম শ্রেণিতে ভর্তির পর আর স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। চাঁদপুর মতলব উত্তর উপজেলার চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। কৈশোরের যে সময়টাতে ওর চোখে কুঁড়ি মেলছে আগামীর স্বপ্ন, ঠিক তখনই অসচেতন অভিভাবকের ভুল ও অদূরদর্শী সিদ্ধাস্তের বলি হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার উপক্রম হয়েছিল তার। উপজেলা প্রশাসনের তড়িৎ হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে তার বিয়ে। আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তার বিয়ে দেয়া হবে না মর্মে মা-বাবা ও মামা প্রশাসনের কাছে অঙ্গীকারনামা দাখিল করেছেন। ছাত্রীর স্কুলের পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার জন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজারের পশ্চিম দিকে রমনাথগঞ্জ গ্রামের সওদাগর পরিবারের ওই ছাত্রীর বিয়ের আগাম তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। ওই ছাত্রীর বাড়িতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জামানকে পাঠিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করা হয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে কনের বাড়ি ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজারের পশ্চিম দিকে রমনাথগঞ্জ গ্রামের বিল্লাল সওদাগরের মেয়ে বিয়ে দিন ধার্য ছিল।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশকিছু সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। মূলত তার ফলই এখন পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্রীরা স্ব-উদ্যোগে নিজেদের বাল্যবিয়ের তথ্য আমাদেরকে জানাচ্ছে। এটি খুবই ইতিবাচক। পাশাপাশি অভিভাবকরা সচেতন ও উদ্যোগী হলে মতলব উত্তরকে অচিরেই শতভাগ বাল্যবিয়েমুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। এমনকি সালমা আক্তার নামে এক কিশোরীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করে তাদের পড়া-লেখার দায়িত্ব নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।