শনিবার ২১ অক্টোবর ২০১৭


খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.10.2017

কুমিল্লায় বাসে পেট্রোল বোমায় ৮ যাত্রী হত্যা মামলা
* দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক
স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা হামলায় ৮ যাত্রীকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৬জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেসমিন আরা বেগম এ আদেশ দেন। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রোল বোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহত ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় আদালত এ আদেশ প্রদান করেন। এদিকে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল মঙ্গলবার (আজ) দেশের সকল জেলা, উপজেলা, মহানগর, পৌর ও কলেজ ইউনিটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুর এলাকায় একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলে ৭জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন যাত্রী মারা যান। ওই ঘটনায় আহত হন অন্তত ২০ যাত্রী। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এ দুটি মামলায় ৬২ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চলতি বছরের গত ৬ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার প্রতিটিতে ৭৮ জনকে চার্জশিটভূক্ত করা হয়েছে। হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা চৌদ্দগ্রামের সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া চার্জশিটে ২০ দলীয় জোটের নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এম.কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী ও সালাহউদ্দিন আহমেদকে হুকুমের আসামি করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া এ দুটি মামলার চার্জশিটের ৫১নং আসামি। তদন্ত শেষে এ ২টি চার্জশিটে মামলার এজাহারভুক্ত ৮ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এদের মধ্যে চৌদ্দগ্রামের চান্দিশকরা গ্রামের সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী ‘বন্দুক যুদ্ধে’ ও জগমোহনপুর গ্রামের সোহেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এদিকে এ ২টি মামলার চার্জশিটে এজাহার বহির্ভূত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের আরও ৩০ জন নেতা-কর্মীকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় বেগম খালেদা জিয়া, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরসহ পলাতক বিএনপি-জামায়াতের ৪৬ জনের বিরুদ্ধে সোমবার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মোহাম্মদ ইব্রাহিম চলতি বছরের গত ৬ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৭৮ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সোমবার ওই চার্জশিট গ্রহণ করে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য- ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি নৈশকোচ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় আসার পর দুর্বৃত্তদের নিক্ষিপ্ত পেট্রোল বোমায় ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হন। তারা হলেন- যশোরের গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার জেলা সদরের ঘোপসেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা হাজী রুকনুজ্জামানের ছেলে নুরুজ্জামান পপলু (৫০), তার একমাত্র মেয়ে যশোর পুলিশ লাইন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী মাইশা তাসলিম (১৪), কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গাইনাকাটা গ্রামের মৃত ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলে আবু তাহের (৩৮) ও একই গ্রামের সালেহ আহম্মদের ছেলে আবু ইউসুফ (৪৫), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বালুরচর পাড়ার জসিম উদ্দিন মানিকের স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৮) ও তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শান্ত (১৩) এবং শরীয়তপুর জেলার ঘোষেরহাট থানার দক্ষিণ গজারিয়া গ্রামের মৃত নজরখার ছেলে ওয়াসিম (৩৮)। এ ঘটনায় আহত কক্সবাজারের রাশেদুল ইসলাম (৪৫) নামের আরও একজন ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মারা যান।

 

মামলার পলাতক অপর আসামিরা হলেন, বিএনপি নেতা ব্যরিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সালাহউদ্দিন আহমেদ মো. হাসান, আবদুল কাইয়ূম, জাহাঙ্গীর, লিয়াকত হোসেন লিটন, মোশাররফ হোসেন ওপেল, কফিল উদ্দিন মোল্লা, মো. বাদল, মো. তুষার আহমেদ, মো. শোয়েব, মো. সোহেল, মো. রুবেল, শাহ মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম রাজিম, আক্তার হোসেন সাদ্দাম, শাকিল, মোতাহের হোসেন মোল্লা, মো. আরজু, ফরহান, মিলন, সাইফুল, শাহিন, মহিন, আ: আউয়াল মেরিন, শাহআলম, মো. বশিরসহ ৪৬ জন।

কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির পর এর প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে ও নগরে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আমিরুজ্জামান আমির, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক, মহানগর যুবদলের সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু,দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন কায়সার, সাজ্জাদ হোসেন, সবুজসহ দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা এ মামলাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন। দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া জানান, চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল মঙ্গলবার (আজ) দেশের সকল জেলা, উপজেলা, মহানগর, পৌর ও কলেজ ইউনিটে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।