রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭


রেল স্টেশনে চোর-ছিনতাইকারী বিরোধী অভিযান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.10.2017

কুমিল্লায় তিনদিনে আটক ৮০জন

মাহফুজ নান্টু: কুমিল্লাসহ সারাদেশে দূরপাল্লা -লোকাল ট্রেনসহ ও স্টেশনগুলোকে চোর-ছিনতাই ও গণউৎপাতমুক্ত করার লক্ষ্যে রেল পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে গত ৭ অক্টোবর থেকে পরিচালিত অভিযানে ৮০জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী মুচলেকা থেকে শুরু করে জেল জরিমানা করা হচ্ছে।
কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো: নজরুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি রেলওয়ে পুলিশ সুপার মহোদয়ের কার্যালয় থেকে একটি চিঠি পাই। এ চিঠিতে বলা হয়েছে ইদানিং যাত্রীবাহী ট্রেনে ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে অবৈধ হকার,ভিক্ষুক এবং হিজড়াদের দৌরাত্মসহ এবং গণউৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে মহিলা,শিশু ও বয়স্ক সাধারণ যাত্রীদের অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব অপ্রীতিকর ঘটনায় ট্রেনের মতো সাশ্রয়ী ও জনবান্ধব পরিবহনের প্রতি সাধারণ যাত্রীদের অনীহা তৈরি হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ট্রেন ও রেলওয়ে স্টেশন থেকে অবৈধ হকার,ভিক্ষুক এবং হিজড়াদের দৌরাত্মসহ অন্যান্য গণউৎপাত বন্ধের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। আর এমন চিঠি পাওয়ার পর থেকে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে গত ৭ অক্টোবর থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে যেসব যাত্রী টিকিটবিহীন,অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে করে ভ্রমণ করে এবং রেলওয়ের ফ্লাটফর্ম দখলকরে হকারিসহ পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তি করে যাত্রীদেরকে হয়রানি করছে এসব লোকদেরকে আটক করা হচ্ছে। গত তিন দিনে এমন অপরাধের ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের মধ্যে কাউকে অপরাধের মাত্রানুযায়ী মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আবার কোন কোন অপরাধীকে আদালতের মাধ্যমে অর্থ দন্ড, কাউকে কারাদন্ড আবার কাউকে উভয় দন্ডে দন্ডিত করেছে আদালত। কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো: নজরুল ইসলাম আরো জানান, রেলওয়ে স্টেশনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাসহ যাত্রীসেবায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে ।
এদিকে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত অর্ধশতাধিক যাত্রী পুলিশের এমন অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন অভিযান অনেক আগে থেকে পরিচালনার প্রয়োজন ছিলো। তবে অভিযান যেন বন্ধ হয়ে না যায়।
তবে কুমিল্লা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রেলওয়েকে নিরাপদ রুট বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন থেকে উত্তরে সদর রসুলপুর, রাজাপুর,শশীদল ও সালদানদী স্টেশনগুলোতে লোকাল ট্রেনগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অনেক। মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে মাদক বোঝাই করার অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলার সালদানদী ও শশীদল এবং বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর স্টেশনে এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশী ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে করে সাধারণ যাত্রীরা কর্মস্থলে যথাসময়ে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটলেও মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে কেউ কোন প্রকার প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
তবে এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:জাহাংগীর আলম জানান, আমরা ইতিমধ্যে বুড়িচং ও ব্রাক্ষ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের বলা হয়েছে, যেন এমন পরিস্থিতির কোন খবর পাওয়া গেলে সাথে সাথে যেন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।