রবিবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭


মুরাদনগরের নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি, সভা বর্জন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.10.2017

আজিজুর রহমান রনি, মুরাদনগর ।।

মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব নির্ধারিত মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ওই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধানদের নিকট থেকে ১০ শতাংশ হারে কমিশন আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছিলেন জনপ্রতিনিধিরা। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার ওই ইউএনওর বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।
বুধবার এ বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে ওই জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সাংবাদিকদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা করে অশালীন ভাষায় মানহানীকর মন্তব্য তার ফেসবুক পেজে প্রচার করেন। তার এ ধরনের মন্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়লে জনপ্রতিনিধিরা পূর্বনির্ধারিত মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন করেন।
এতে বিগত সভার সিদ্ধান্ত অনুমোদন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও উপজেলার বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রমসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং এতে উন্নয়ন কর্মকা- ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টনকি ইউপির চেয়ারম্যান জাকির হোসাইন বলেন, ইউএনও রাসেলুল কাদের একজন চিহ্নিত ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ। আমরা তার আহ্বানে আর কোনো সভা বা সেমিনারে অংশগ্রহণ করব না। তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে আমরা আন্দোলনে নামব।
নবীপুর পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে ইউএনও’র অশালীন মন্তব্য, জনপ্রতিনিধিদেরকে কটূক্তি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে আমরা সকল চেয়ারম্যানগণ মাসিক সমন্বয় সভা বর্জন করেছি। নবীপুর পুর্ব ইউপির চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের বলেন, ইউএনও রাসেলুল কাদেরের ঘুষ কেলেংকারী, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে আমরা অতিষ্ঠ। এ ধরনের দুর্নীতিবাজ আমরা চাই না। তাই আমরা সকল চেয়ারম্যানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমন্বয় সভা বর্জন করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু বলেন, ইউএনও রাসেলুল কাদেরের অনিয়ম-দুর্নীতির বেশ কিছু তথ্য চেয়ারম্যান মেম্বারগণ আমাকে জানিয়েছে। উপজেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিরা সমন্বয় সভা বর্জন করায় আমিও অংশগ্রহণ করিনি। তিনি বলেন, ইউএনও’র এসব কর্মকা- তদন্ত করে তাকে প্রত্যাহারের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আমি কথা বলবো।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার পূর্ব নির্ধারিত সমন্বয় সভা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সভাস্থলে গিয়ে দেখি উপজেলা চেয়ারম্যানসহ কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বারই সভায় আসেনি। তাই কোরাম সংকটের কারণে এ সভা স্থগিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের বলেন, কী কারণে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বয় সভায় আসেনি সেটা আমার জানা নেই। কোরাম সংকটের কারণেই সভা স্থগিত করেছি।