মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » মুখোমুখি কর্নেল আনোয়ারুল আজিম- মোহাম্মদ আবুল কালাম


মুখোমুখি কর্নেল আনোয়ারুল আজিম- মোহাম্মদ আবুল কালাম


আমাদের কুমিল্লা .কম :
02.11.2017

কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হল, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসন। এই আসনটিকে বিএনপি তাদের শক্তিশালী আসন হিসেবেও বিবেচনা করে। বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনে দেখা দিয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এই কোন্দলে এক দিকে রয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক এমপি কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিম আর অপর দিকে রয়েছে লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল কালাম। বর্তমানে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করা এই দুই নেতার সাথে কথা বলে সাক্ষাতকার ভিত্তিক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে দৈনিক আমাদের কুমিল্লার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শাহাজাদা এমরান। সাথে ছিলেন আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার তৈয়বুর রহমান সোহেল

বিএনপিতে থেকেও যারা নৌকায় ভোট দিয়েছে তারাই আবার আ’লীগকে সুযোগ দিতে মাঠে নেমেছে- কর্নেল আনোয়ারুল আজিম


বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিম বলেছেন, যে কতিপয় লোক ২০০৮ সালে বি এন পি তে থেকেও নৌকায় ভোট দিয়েছে বর্তমানে তারাই আবার ষড়যন্ত্র করে দলকে ভাগ করে আওয়ামী লীগকে সুয়োগ করে দেওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছে । পদের লোভ আর কিছু টাকার লোভে বিশাল জনগোষ্ঠীকে এবার বিভ্রান্ত করতে পারবে না ইনশাল্লাহ । দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। নিচে তার পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি দেওয়া হল।

আমাদের কুমিল্লা: লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে যে অচলাবস্থা চলছে এর কারণ কি বলে আপনি মনে করেন ?
আনোয়ারুল আজিম : দলের পরীক্ষিত জেল-জুলুমে নির্যাতিত নেতা কর্মীদের স্থলে অযোগ্য দলের দুর্দিনে নিষ্ক্রিয় কর্মীদেরকে নিয়ে কমিটি গঠন করার জন্যই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়নি। বরং মূল ¯্রােতের নেতা কর্মীরা আরো বেশী উজ্জীবিত হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের জন্য ২০০৮ সালের মতোই একটি প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। আমার বিশ্বাস ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
আমাদের কুমিল্লা : আপনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক,জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও কুমিল্লা ৯ নির্বাচনী এলাকার সর্বশেষ দলীয় নির্বাচিত এমপি। তারপরেও কেন আপনাকে পাশ কাটিয়ে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি ?
আনোয়ারুল আজিম : এ প্রশ্নটি আমারও। এটা দলের হাই কমান্ডের থেকে আসতে পারে না এ আমার দূঢ় বিশ্বাস। নাম ভাঙ্গিয়ে এ কাজটা করা হয়েছে। স্বর্ণ যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়,তেমনি লাকসাম-মনোহরগঞ্জের তৃণমূলের আবাল বৃদ্ধ জনতা-কর্মী এটা উপলব্দি করেছে যে, ঐক্যের বিকল্প নেই এবং তারা এখনও মূলধারার রাজনীতির সাথে মিশে আছে। তবে এটা ভুল পদক্ষেপ। দল যখন নির্বাচনমুখী ,আন্দোলনের তুঙ্গে থেকে মামলা হামলাকে তোয়াক্কা না করে ত্যাগী নেতারা এক প্ল্যাটফরমে থেকে জয় ছিনিয়ে আনার জন্য প্রস্তুত, এই প্রস্তুতিকে বানচাল করার জন্য সেই চেনা ২০০৮ সালের তথাকথিত বিএনপি নামধারী গুটি কয়েক লোক নিজেদের হীন স্বার্থ সিদ্ধ করার জন্যই এ কাজটা করেছে। বুমেরাং হয়েছে এবং তাহাই হবার ছিল।
আমাদের কুমিল্লা: আপনিসহ আপনার কর্মী সমর্থকরা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই বলে আসছেন, ঐ নির্বাচনে ধানের শীষকে ফেল করার জন্য যারা কাজ করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আবুল কালাম । তারপরেও আপনি কেন তাকে লাকসাম উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেছিলেন, আপনি কি মনে করেন আপনার ঐ সিদ্ধান্ত ভুল ছিল ?

আনোয়ারুল আজিম : আমি যেই কাজটি করেছি তা ছিলো বিরোধী দলে থেকে সবাইকে এক মঞ্চে আনার সদপ্রয়াস। কিন্তু অর্বাচীনদের ওটা বুঝবার মতো মন মানসিকতা নেই। দলকে ভালবাসলে, মানুষকে ভালবাসলে, কৌশলী মানুষ হলে দলের সকলের সাথে থেকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ উম্মুক্ত ছিল। কেননা এতো ত্যাগ, এতো অত্যাচার ,জেল-জুলুম, হামলা-মামলায় জর্জরিত নেতা কর্মীরা বুঝতো দুর্দিনে সবাই তাদেরকে সাহায্য করেছে। তাই এম পি বানাতেই হবে। মঞ্চের কেউ তখন নমিনেশন পেলে এম পি পাওয়া নিশ্চিত হতো। কিন্তু যারা সুবিধা ভোগী তারা তো এমপি চায়না। তারা চায় নগদ যাহা পাই হাত পেতে নেই। এটাই হলো সমস্যা।
আমাদের কুমিল্লা: আপনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। যদিও কেন্দ্র এখনো আপনার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেননি এবং আপনিও আপনার পদত্যাগপত্র তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন,আপনি আবেগের বশবর্তী হয়েই এ কাজ করেছেন। একজন রাজনীতিবিদের বাস্তবতা চিন্তা না করে আবেগকে প্রাধান্য দেওয়া কতটা সঠিক বলে আপনি মনে করেন।
আনোয়ারুল আজিম : আসলে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় আমি বিএনপির রাজনীতি আরও কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। প্রায় জায়গায় বিশেষ ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে কমিটি ভেঙ্গে দেয় আবার কমিটি গঠন করে। প্রক্রিয়াটি আতœঘাতী। একজন দলের সমর্থক হয়ে বিগত ১৭ বছর দলের সাথে নেতা কর্মীদের সাথে সকল কর্মকান্ডে জড়িত থেকে আমি বুঝতে পেরেছি আমাদের শেষ লক্ষ্য হলো নির্বাচনে জয়ী হওয়ার একমাত্র পথ নেতাকর্মীদের এক প্লাটফরমে রাখা। সে জন্য বিভাজন করা যাবে না । বিশেষ করে যখন আমরা বিরোধীদলের রাজনীতি করি তখন এ বিষয়টি আরও বেশি প্রয়োজন । এটা সমস্ত বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে যে ২০১৩ সালে এবং ২০১৪ সালে লাকসাম মনোহরগঞ্জের বি এন পি, যুবদল , ছাত্রদল সহ সকল নেতাকর্মীরা কি ভাবে আন্দোলনে সংগ্রামে নিজেদের কে সম্পৃক্ত করেছে , হাজার মামলায় তারা ঘর-বাড়ী ছেড়েছে ,ঘর বাড়ী জ¦ালিয়ে দেওয়া হয়েছে । ঘর ছাড়া নেতা কর্মীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। আমরা চেষ্টা করে ওদের মনোবল দৃঢ় রাখার জন্য যাহা কিছু সম্ভব তাই করেছি। কমিটি ভাংগা গড়ার চেয়েও রাজপথ দখল রাখার উদ্দেশ্য কে এক নাম্বার প্রায়রিটি দিয়েছি । লাকসাম -মনোহরগঞ্জ বিএনপির একটি দুর্গ । আওয়ামীলীগও সমীহ করে। কারণ আমরা অত্যন্ত দৃঢ়, প্রত্যয়ী । শৃঙ্খলা বোধের মধ্যে দল পরিচালিত হয়েছে। আমাদের অবস্থানে ভীত হয়ে ২০১৩ সালে আমাদের দু জন নেতা লাকসাম উপজেলা জাতীয়তাবাদী দলের সভাপতি প্রাক্তন এম,পি সাইফুল ইসলাম হিরু , লাকসাম পৌর বি এন পির সভাপতি হুমায়ন কবীর পারভেজকে র‌্যাব গুম করেছে । আজও তাঁদের কোন সন্ধান মেলেনি। এ যখন আমাদের অবস্থা তখন কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে সেই মানুষটি বি এন পির বিরোধী শক্তির মদদে চলে তাকে দিয়ে হাই কমান্ড এর নাম ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় যুবদল , ছাত্রদলের সভাপতি কর্তৃক জেলা যুবদল , ছাত্রদলের সভাপতি / সেক্রেটারীকে নির্দেশ দিয়ে অগনতাšিত্রক উপায়ে কমিটি গঠন করে তখন আমার আর কেন পথ খোলা ছিলো না । আবেগের চেয়েও দায়িত্ববোধকে প্রাধান্য দিয়েছি । আমি বিবেকের তাড়নায় এ কাজ টি করেছি । দলটিকে ভালবাসি,তাই দল ক্ষমতায় আসুক , মাননীয় চেয়ারপার্সন দেশের প্রধানমন্ত্রী হউক এ বিশ্বাস থেকেই প্রতিবাদ স্বরুপ সিদ্বান্ত নিয়েছি । পরে দেখলাম আমার এলাকার তৃণমূল নেতা -কর্মীরা আমার সিদ্ধান্ত পাল্টানোর জন্য উদ্বিগ্ন । তাই মাননীয় চেয়ারপার্সেনের নিকট আমার পদত্যাগ পত্র পত্রাহার করেছি জানিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে তাঁকে দরখাস্ত দিয়েছি ।
আমাদের কুমিল্লা: আপনি এবং আবুল কালাম সাহেব পরস্পর বিরোধী অবস্থান করলে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আপনাদের এই দুই নেতার দ্বন্দ্ব কবে অবসান হতে পারে বলে আপনি মনে করেন ?
আনোয়ারুল আজিম : আমি চেষ্টা করেছি তৃণমূলের নেতা কর্মীকে একটা চেতনা দেওয়ার । সেটা হলো আপনারা সকলেই ঐক্য বজায় রাখুন । যে কতিপয় লোক ২০০৮ সালে বি এন পি তে থেকেও নৌকায় ভোট দিয়েছে বর্তমানে তারাই আবার ষড়যন্ত্র করে দলকে ভাগ করে আওয়ামীলীগকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছে । পদের লোভ আর কিছু টাকার লোভে বিশাল জনগোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না ইনশল্ল্যাহ । ২০০৮ সালে ফকরুদ্দিন, মঈনউদ্দিনের নীলনকশার নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে মাত্র ৪৫৮ ভোটে বি এন পি হেরেছিল । আর এখন তো অত্যাচার ,জুলুম , জেল ,হামলা- মামলায় জর্জরিত জনপদ এ ষড়যšত্র কে প্রতিহত করে বি এন পি ক্যান্ডিডেটকে পাশ করাতে এতটুকু ও দ্বিধাবোধ করবে না, বরং যারা দলকে বিভক্ত করার চেষ্ঠা করেছে তারাই জনগণের রোষানলে পালাবে ।
আমাদের কুমিল্লা: লাকসাম-মনোহরগঞ্জের রাজনীতিতে আপনার একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং ভোটের রাজনীতিতেও আপনি এই নির্বাচনী এলাকায় একটি বড় ফ্যাক্টর। আগামী নির্বাচনে আপনি দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী ?
আনোয়ারুল আজিম : মনোনয়নটা একটা বড় ফ্যাক্টর বলে আমি মনে করি না। বিগত দিনে মাননীয় চেয়ারপার্সেন আমাকে তিনবার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি পরিস্থিতি বিবেচনা করে দলের এ আসনটি পুনরুদ্ধার করতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অবস্থা অনুধাবন করেই মনোনয়ন দেবেন। এ আসন টি হলো বি এন পি ’র আসন । আওয়ামী লীগের প্রাথী শুধু তাদের ভোটে পাশ করে না । বি এন পি নামধারী মোনাফেকদের ভোটেই তারা পাশ করে । সেই জন্যই এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে লোকের আগ্রহ খুব কম । এবার কিন্তুু ২০০৮ সালের মুনাফেকদের খবর আছে ।
আমাদের কুমিল্লা: কোন কারণে দল যদি আপনাকে মনোনয়ন না দেয় সেক্ষেত্রে আপনি কি করবেন বলে মনে করছেন ?

আনোয়ারুল আজিম : মনোনয়ন দেবেন মাননীয় চেয়ারপার্সন। যাকে দিয়ে এ আসন পাওয়া যাবে তাকেই মনোনয়ন দেবেন। ধারাবাহিকতায় মনোনয়ন চাওয়াটাই আমার দায়িত্ব – পাওয়া না পাওয়া তো আল্লাহর ইচ্ছা। এ ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নাই । ধানের শীষই আমাদের শেষ ঠিকানা ।
আমাদের কুমিল্লা: লাকসাম-মনোহরগঞ্জের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কি ?

আনোয়ারুল আজিম : আপনাদের সাথে বিগত ১৭ বছর রয়েছি । জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনাদের সাথেই থাকবো । জনগণ বি এন পি ’র দিকে চেয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ সমাজ ব্যবস্থা ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি হুমকি,এ সবকিছুর সুরাহা করতে পারেন আপনারা যারা বি এন পি করেন বা করি। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে থাকুন। চেনা ুূনাফেকদের থেকে দূরে থাকুন । ২০০৮ সালে চেনা মুখ গুলো সকলেরই চেনা । আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এত ষড়যন্ত্রও আপনাদের কে মূল ¯্রােতধারা থেকে সরিয়ে নিতে পারেনি । জনগণের আশা -ভরসার মূল আপনারা । তাই আপনাদের দায়িত্ব অনেক বেশী । ইদানিং এলাকায় ঘুরে আপনাদের মনোবলে আমি অত্যন্ত মুগ্ধ। আপনাদের প্রিয় প্রতীক ধানের শীষ আমাদের সকলের শেষ আশ্রয়স্থল ।
আমাদের কুমিল্লা : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আনোয়ারুল আজিম : আপনাকে এবং আমাদের কুমিল্লাকেও ধন্যবাদ

 

 

 

 

দলীয় মনোনয়ন পাবার বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী- আবুল কালাম

লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, আগামী নির্বাচনে যদি আমার দল অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে একজন প্রার্থী হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইব। ২০০১ সালে ও ২০০৮ সালেও মনোনয়ন চেয়েছি। দল এবার আমাকে সুযোগ দিয়েছে। আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে যে পরিশ্রম করার দরকার, তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। তিনি দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে এক একান্ত সাক্ষাতকারে এ কথা বলেন। নিচে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাতকারটি দেওয়া হলো।

আমাদের কুমিল্লা: লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে যে অচলাবস্থা চলছে এর কারণ কি বলে আপনি মনে করেন ?
মোহাম্মদ আবুল কালাম: লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে এখন সচল অবস্থা বিরাজ করছে। অচল অবস্থা ছিল আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগে,তখন আজিম সাহেব দলের দায়িত্বে ছিলেন। নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর দলের স্টিয়ারিং টেনে ধরেছি। দল এখন বেশ উজ্জীবিত। ইতোমধ্যে লাকসাম বিএনপির দল পুনর্গঠনের ৮০ ভাগ কাজ সমাপ্ত করেছি। মনোহরগঞ্জেও দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছেু।
আমাদের কুমিল্লা: বর্তমানে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল শুরু হয়েছে তার জন্য আপনাকেই দায়ী করছে সাধারণ নেতাকর্মীরা-এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
মোহাম্মদ আবুল কালাম: সাধারণ নেতাকর্মীরা উৎফুল্ল। আমাকে দায়ী করতে পারে আজিম সাহেব। যারা দলকে ভালোবাসে, নেত্রীকে ভালোবাসে তারা কখনো আমাকে দায়ী করতে পারে না। হিরু-হুমায়ুন গুম হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করি, সে সময় কর্নেল আজিমের হস্তক্ষেপের কারণে কাজ করতে পারিনি। এখন নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে দলকে ঢেলে সাজানোর জন্য। আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমাকে দায়ী করতে পারে আজিম সাহেব ও তার গুটিকয়েক অনুসারী। তবে আমি বিশ্বাস করি তারাও একসময় দলের পতাকাতলে এসে কাজ করবে।
আমাদের কুমিল্লা: দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক,জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আপনার এলাকার সর্বশেষ নির্বাচিত দলীয় এমপি ও নির্বাচনী এলাকার সাংগঠনিক নেতা আনোয়ারুল আজিমকে না জানিয়ে আপনি প্রভাব বিস্তার করে দুই উপজেলার বিএনপি,যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি কেন্দ্র থেকে নিয়ে এসেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে-এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
মোহাম্মদ আবুল কালাম: এ প্রশ্নের সাথে আমি দ্বিমত পোষণ করি। কর্নেল আজিম সাহেব এখন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নয়। আমি দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করছি। আমি প্রভাব খাটিয়ে কাজ করিনি। আমি দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। তাই ম্যাডাম ও বিএনপির রাজনীতিক নীতি নির্ধারকরা আমাকে দলের কান্ডারী করেছেন। কেন্দ্র আমাকে যোগ্য মনে করছে বিধায় আমি দলের জন্য কাজ করছি।
আমাদের কুমিল্লা: লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে যারা হামলা-মামলার শিকার হয়েছে, সরকারের দমন পীড়নে নিপীড়িত হয়েছে এমন নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে আপনি বিএনপিসহ যুবদল ছাত্রদলের কমিটি দিয়েছেন। এত করে দলের প্রতি ত্যাগী নেতাদের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হবেনা, আপনি কী মনে করেন?
মোহাম্মদ আবুল কালাম: সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজের পর দলের যেসব নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হয়েছে,তখন আজিম সাহেবের নেতৃত্বে তাদের জন্য কাজ করেছি। তারপরও আমার কাজের কোনো প্রচার হয়নি। আমি লাকসামের ৪০-৪৫টি মামলা ও মনোহরগঞ্জের ২০-২৫টি মামলা পরিচালনা করছি। এরপরও যারা যোগাযোগ করছে তাদের জন্য চেষ্টা করছি। মনোহরগঞ্জে দোলন সাহেব হামলা-মামলার শিকার হওয়াদের জন্য কাজ করছেন। যারা বিএনপি করে তারা আমার পরিবারের সদস্যদের থেকেও বেশী আপন। তারপরও দলের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করে আমি তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
দুই উপজেলায় আমরা এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি করিনি। দলকে ব্যক্তিকরণ ও আত্মীয়করণ করতে চাই না। যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে বাদ পড়েছেন এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থেকে থাকলে তাদেরকেও দলে উপযুক্ত ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
আমাদের কুমিল্লা: একদিকে দীর্ঘদিন ধরে আপনারা ক্ষমতার বাইরে অপরদিকে সরকারের দমন-পীড়ন, হামলা-মামলায় নেতাকর্মীদের অবস্থার চরম বিপর্যয়। এ অবস্থায় আপনার এবং কর্নেল আজিমের দ্বন্দ্ব দলের কতুটু কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ আবুল কালাম: একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার সাথে আজিম সাহেবের ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি যখন এমপি ছিলেন আমি তার সাথে এক হয়ে কাজ করেছি। বর্তমানে তিনি আমার সাথে অশোভনীয় আচরণ করছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধার সাথে বলতে চাই, উনি বর্তমানে দলের কেউ না। তিনি যেদিন পদত্যাগ করেছেন সেদিন তিনি নিজের কবর নিজে রচনা করেছেন। আমি তাঁকে বলবো তিনি নেত্রীর কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। দল যদি তাঁকে দায়িত্ব দেয় আমি তার পক্ষে কাজ করবো। ম্যাডাম যদি ওনাকে ক্ষমা করে দেয় তাহলে আমিও তার জন্য কাজ করবো। তবে এতো বড় দলে তার হয়তো আর আগের অবস্থায় ফিরে আসা সম্ভব না।
আমাদের কুমিল্লা : ২০০৮ সালের নির্বাচনে আপনাদের বিরোধীতার কারণেই ধানের শীষ পরাজিত হয়েছে- এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন ?
মোহাম্মদ আবুল কালাম: প্রথমত এটিএম আলমগীরসহ আমি ও আমরা যখন দলের মনোনয়ন পাইনি তখন আমাদের মনের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। ২০০১ সালেও আমাদের কেউ মনোনয়ন পায়নি। কর্নেল আকবর সাহেব ওনাকে যখন নির্বাচনের ৪৫ দিন পূর্বে দায়িত্ব প্রদান করে তখন আমরা তার জন্য কাজ করি। এটা ডাহা মিথ্যা কথা যে, ২০০৮ সালে তিনি আমার কারণে হেরে গেছেন। ওই নির্বাচনেও আমি তার জন্য ২০-২৫লক্ষ টাকা ব্যয় করি। হিরু ভাইয়ের মাধ্যমে আমি ওই টাকা ব্যয় করি। ২০০৮ সাল ছাড়াও আমি তার জন্য খরচ করেছি। হিরু ভাই আমাকে যা বলতো আমি তাই করতাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আজিম সাহেব আমাদেরকে মাঠে নামাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারপরও আমি ওই নির্বাচনে এলাকায় গিয়ে ভোট দিয়েছি। সেদিন আমি ধানের শীষে ভোট দিয়ে সবাইকে দেখিয়েছি। যদিও বিষয়টি আমি ঠিক করিনি। কারণ আমি সেদিন নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করেছি। বস্তুত আমি বাধ্য হয়ে নির্বাচন বিধি ভঙ্গ করেছি। এরপর যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সবকটি নির্বাচনেই তার মনোনীত প্রার্থীরা ফেল করেছে। তিনি দলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শত-শত নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। এটা কখনো ভালো নেতৃত্বের লক্ষণ হতে পারে না।
আমাদের কুমিল্লা: আজিম-কালাম দ্বন্দ্ব কবে নিরসন হবে বলে আপনি মনে করেন?

মোহাম্মদ আবুল কালাম:
আবারো বলছি, আজিম-কালামের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি যদি ম্যাডাম থেকে এজাজত নিয়ে আসেন আমি হ্যামিলনের বংশীবাদকের মত তার পিছে পিছে ঘুরবো।
আমাদের কুমিল্লা: আগামী নির্বাচনে আপনি অংশ নিতে চান কিনা, যদি অংশ নেন তবে মনোনয়নের বিষয়ে কতটুকু আশাবাদী?
মোহাম্মদ আবুল কালাম:
আগামী নির্বাচনে যদি আমার দল অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে একজন প্রার্থী হিসেবে আমি মনোনয়ন চাইব। ২০০১ সালে ও ২০০৮ সালেও মনোনয়ন চেয়েছি। দল এবার আমাকে সুযোগ দিয়েছে। আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে যে পরিশ্রম করার দরকার, তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ, দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
আমাদের কুমিল্লা: ধরুন আপনি মনোনয়ন পেলেন আর আজিম সাহেব স্বতন্ত্র নির্বাচন করলো কিংবা তিনি নির্বাচন না করেও আপনার পক্ষে কাজ করলেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কি মনে করেন আজিম সাহেবের সমর্থন ছাড়া আপনার পক্ষে এমপি নির্বাচিত হওয়া সম্ভব?
মোহাম্মদ আবুল কালাম:
ইনশাল্লাহ্। দলের কান্ডারী দেড় বছর আগে হয়েছি। দলকে গোছানোর জন্য নেতৃবৃন্দ আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন। আজিম সাহেব যদি দেড় মাসে এমপি নির্বাচিত হতে পারে, তবে আমি পারবো না কেন! যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তবে এবং সে নির্বাচনে আমার দল অংশগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে আমিও নির্বাচন করবো এবং অন্তত এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে পরাজিত করবো। মনোনয়ন পেলে কে কি করল তার দিকে তাকানোর সময় থাকবে না। তখন সবাই দলের জন্য কাজ করবে।
আমাদের কুমিল্লা: লাকসাম-মনোহরগঞ্জের জনগণের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কী?
মোহাম্মদ আবুল কালাম:
লাকসাম-মনোহরগঞ্জের জনগণের কাছে চাওয়া সবাই সুসংগঠিত থাকুক। আমাদের হারানো আসনটি এবার নেত্রীকে উপহার দিতে হবে। কিছু লোক কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। যারা কাদা ছোড়াছুড়ি করছে, মনোনয়ন পেলে তাদের প্রতি অনুরাগ থাকবে না। তাই কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সবাইকে সহবস্থানে থাকার সুযোগ দিন। ফেসবুকে আপনারা যে যার পক্ষেই লেখেন না কেন, ফেসবুক কাউকে মনোনয়ন দিতে পারে না। আমার কর্মীদের বলবো ফেসবুকে কারো বিরুদ্ধে যেন লেখালেখি না করে।
আমাদের কুমিল্লা: আপনাকে ধন্যবাদ।
মোহাম্মদ আবুল কালাম:
আপনাকেও ধন্যবাদ।