মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭


‘যা ধরি, তা-ই ১০০!’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.11.2017

তৈয়বুর রহমান সোহেল:


‘যা ধরি, তা-ই ১০০!’ গতকাল রাণীর বাজারে সবজি কিনতে আসা ঠাকুরপাড়ার গৃহিনী জয়া বিক্রেতার সাথে দাম কষাকষি করতে গিয়ে আক্ষেপের সুরে এ কথা বলতে থাকেন। শুধু জয়া নয় গগণচুম্বি বাজার দরে এমন নাভিশ্বাস কুমিল্লার সব মানুষেরই। কারণ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বাজারে নতুন সবজি আসতে থাকলেও কুমিল্লায় দাম কমেনি। বরং কুমিল্লার বাজারে দফায় দফায় বেড়ে চলছে কাঁচা তরকারির দাম। এদিকে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। বড় সাইজের ৮/১০টি পেঁয়াজে এক কেজি হয়। সে হিসেবে প্রতি হালি পেঁয়াজের দাম হচ্ছে ৩০টাকা।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলু ও কচুর ছড়া ছাড়া বাকি সব শাক-সবজির দাম কম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু সবজির বাজার দর ৮০টাকা ছাড়িয়েছে। যার মধ্যে লেবু, বেগুন, কাকরোল, বরবটি, ফুলকপি ও শিমের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন কাঁচা বাজারে গতকাল সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ সপ্তাহে প্রতি হালি মাঝারি ধরনের লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, প্রতিকেজি শিংনাথ বেগুন বিক্রি করা হচ্ছে ১০০টাকায়। গত সপ্তাহে কাকরোল প্রতিকেজি ৬০-৭০টাকায় বিক্রি করা হলেও এ সপ্তাহে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০টাকায়। কলা প্রতি হালি ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে ৪০ টাকায়। প্রতিকেজি শিমের দাম গত সপ্তাহে ৮০ টাকা থাকলেও এ সপ্তাহে তা বিক্রি করা হচ্ছে ১০০টাকায়। এছাড়া প্রতিকেজি টমেটো ১২০, কাঁচামরিচ ১৪০, পটল ৬০, ঢেঁড়স ৭০, করলা ৬০, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৪০, বেগুন ৮০, ফুলকপি ৬০-৭০, মুলা ৬০, শসা ৩০-৪০, পেঁপে ৩০, কচুর ছড়া ৩০, আলু ২০, লালশাক প্রতি আঁটি ২৫, লাউ আকারভেদে ৬০-১০০ ও গাজর ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকলেও দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানেন না কুমিল্লার খুচরা বিক্রেতারা। রাণীর বাজারের সবজি বিক্রেতা মমিন মিয়া জানান, নিমসার থেকে যে পাইকারি দরে সবজি ক্রয় করা হয়, সে অনুসারে আমরা তরকারি বিক্রি করে থাকি। তরকারির দাম বাড়ার সঠিক কারণ আমাদের জানা নেই।
রাজগঞ্জ বাজারের আড়তদার মো. জামাল হোসেন জানান, সরবরাহ বাড়লে দাম কমে। বর্তমানে শাক-সবজির সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।