মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » চান্দিনায় পরিত্যক্ত ভবনে পলিথিন টানিয়ে পাঠদান


চান্দিনায় পরিত্যক্ত ভবনে পলিথিন টানিয়ে পাঠদান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.11.2017

মাসুমুর রহমান মাসুদ,চান্দিনা।।
একতলা ভবনের উপরে ছাদ আর ছাদের নিচে পলিথিন টানিয়ে চালাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের পাঠদান! কখনও ধ্বসে পড়ছে ছাদের প্লাস্টার আবার কখনও ইট পাথর। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ ভেদ করে পড়ে ঝপঝপিয়ে পানি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘদিন যাবৎ শ্রেণী কার্য পরিচালিত হচ্ছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের লনাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দরা জানান, নব্বইর দশকে সারা দেশে যে সকল বেসরকারি রেজিষ্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো গড়ে উঠে তারমধ্যে চান্দিনা উপজেলার লনাই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ও একটি। ২০১৩ সালে সরকার সারা দেশের ২৬ হাজার রেজিষ্ট্রার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয় করণ করায় ওই বিদ্যালয়টিও সেই তালিকায় স্থান পায়। রেজিষ্ট্রার্ড বিদ্যালয় থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হলেও বিদ্যালয়টিতে গড়ে উঠেনি কোন সরকারি ভবন। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লগ্নে যে এক তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল সেই ভবনটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।


এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর ওই বিদ্যালয়ে অনেক বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষকের বিপরীতে ১৮৭জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর ও উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে গত ৭ বছর পূর্বে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও প্রায় দুইশ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পলিথিন টানিয়ে চলছে পাঠদান।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন ভূইয়া জানান, ১৯৯৪সালে পুরাতন ওই ভবনটি নির্মিত হয়। নির্মানের ১০/১২ বছর পর থেকেই ভবনের প্লাষ্টার ধ্বসে পড়া শুরু হলে ২০১০সালে ওই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে সরকারি বরাদ্দ পেয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট দো-চালা টিনের ঘর এবং দুই বছরের শ্লিপির টাকায় আরও একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সংকুলান হয় না। তাই স্থানীয়দের পরামর্শে বাধ্য হয়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই পাঠদান চালাচ্ছি।
এব্যপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান মোটেও উচিত নয়। ওই ভবনটির স্থানে চারতলা ফাউন্ডেশনের পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট্য নতুন ভবনের বরাদ্দ এসেছে। আগামী ৫-৬ মাসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।