মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭


আজ বেতিয়ারা শহীদ দিবস


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.11.2017

স্টাফ রিপোর্টার।।
১১নভেম্বর ঐতিহাসিক বেতিয়ারা শহীদ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বেতিয়ারায় ‘ন্যাপ- কমিউনিস্ট পার্টি- ছাত্র ইউনিয়ন’র যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘বিশেষ গেরিলা বাহিনী’র সদস্য মো. সিরাজুম মুনীর জাহাঙ্গীর, বশিরুল ইসলাম মাস্টার, নিজাম উদ্দিন আজাদ, শহীদুল্লাহ সাউদ, আওলাদ হোসেন, দুুদু মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, আবদুল কাদের ও মোহাম্মদ শফিউল্লাহসহ নয়জন তরুণ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

বেতিয়ারা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি জিয়াউল হক জিবু, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় লোকজন জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মন্জুরুল আহসান খানসহ যৌথ গেরিলা বাহিনীর ৭৮ জন সদস্য ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। দেশে ফিরে যুদ্ধে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে এসব গেরিলা যোদ্ধাগণ ভারতের বাইকোয়া বেইজ ক্যাম্প থেকে ১০নভেম্বর রাত ৮ টায় চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী ভৈরবনগর সাব-ক্যাম্পে (চৌত্তাখোলা ক্যাম্পের শাখা) পৌঁছেন। ভৈরবনগর সাব ক্যাম্পের দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের বিএসসি ও সামসুল আলম ১১ নভেম্বর রাতেই গেরিলা বাহিনীর ওই দলটির বাংলাদেশে প্রবেশের নকশা প্রণয়ন করেন। প্রণীত নকশা অনুযায়ী সাব ক্যাম্পের ৩৮জন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে বেতিয়ারা চৌধুরী বাড়ির দু’পাশে এ্যাম্বুশ পাতা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক শত্রুমুক্ত কিনা পরীক্ষা করার জন্য স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের ও আবদুল মন্নানকে ওই সড়কে পঠানো হয়।

৭৮জনের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধার দলটি ছিল একাত্তরের ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমান্ডে গড়ে তোলা বিশেষ গেরিলা বাহিনীর দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সদস্যদের একাংশ। ওই গেরিলা দলের কমান্ডার ছিলেন, তৎকালীন সময়ের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। ওই দলটিকে দু’টি গ্রুপে বিভক্ত করে ওই দিন রাতে আগে-পরে ‘ঢাকা-চট্রগ্রাম রোড’ পারাপারের সিদ্ধান্ত নেয়।

জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের ‘বেতিয়ারা’ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংকরোডে (মহাসড়ক) পাক-বাহিনীর নজরদারী ছিল বেশী। চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ দীঘিতে তাদের একটি শক্তিশালী ক্যাম্পও ছিল। গেরিলাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সোর্স আব্দুল কাদেরের পর্যবেক্ষণে সড়ক পারাপারে নিরাপদ নিশ্চিত ভেবে শহীদ নিজাম উদ্দিন আজাদ’র নেতৃত্বাধীন ৩৮জনের মুক্তিযোদ্ধার প্রথম দলটি বাক্সবন্দি ভারী আগ্নেয়াস্ত্রসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম রোড অতিক্রমের জন্য এগিয়ে আসেন। এ সময় সড়কের উত্তর পার্শ্বের গাছের আড়ালে স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী উৎপেতে থাকা পাক হানাদার বাহিনীর অ্যামবুশের মুখোমুখি হয়ে পড়েন। কিছু বুঝে উঠার আগেই পাক হায়ানাদের ব্রাশ ফায়ার চলতে থাকে। পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ সমরে বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি নিজামউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন দল। কারণ তাদের সাথে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকলেও গোলাবারুদগুলো ছিল বাক্সবন্দি। সোর্স’র সিগন্যাল ভুল থাকায় শত্রুদের পাতা ফাঁদে পড়ে ৭৮জনের মধ্যে শহীদ হন ৯জন, বাকি ৬৯জন সাহসী যোদ্ধারা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে প্রাণে বেঁচেছিলেন।