মঙ্গল্বার ২১ নভেম্বর ২০১৭


কুমিল্লায় মাদক আগ্রাসনে প্রশাসনের উৎকণ্ঠা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.11.2017

মাহফুজ নান্টু:

কুমিল্লা জেলায় মাদকের আগ্রাসন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এখনই এই মহামারির বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুবা এই ভয়াবহ মহামারির কবল থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। মাদকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন রাতদিন অভিযান চালাতে প্রস্তুত। এখন প্রয়োজন জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ ও জেলাবাসীর স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সবার শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। গতকাল কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য জেলা প্রশাসক মো:জাহাংগীর আলম এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, নগরীর যানজট নির্মূলে সবাইকে আইন মানার প্রতি মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
সভায় উপস্থিত জেলা পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন জানান, গত ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাদক উদ্ধারের সংখ্যাটি অবস্থা এমন হয়েছে যে সারা দেশে মাদক উদ্ধারে কুমিল্লা জেলা এগিয়ে রয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য সুখকর নয়। ঐতিহ্যের জেলা কুমিল্লার জন্য বিষয়টি চরম লজ্জার। পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন জানান,আমি আগেও বলেছি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা,যানজট ও মাদকমুক্ত জেলা গড়তে সর্বাগ্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ জেলাবাসীকেই এক কাতারে আসতে হবে। কারণ একমাত্র পুলিশের মাধ্যমে সকল প্রকার সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
সভায় উপস্থিত বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন কুমিল্লা ১০ বিজিবির উপধিনায়ক মেজর শহীদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন ফেন্সিডিল,বিয়ার বোদকাসহ মদজাতীয় এলকোহল ছেড়ে ইয়াবা ব্যবসায়ে ঝুকে পড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন চেকপয়েন্টে বিজিবি সদস্যরা ইয়াবার ছোটবড় চালান আটক করছে। এ বিষয়টা আমাদের জন্য হুমকি স্বরুপ। এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
জেলায় মাদকের বিস্তার বিষয়ে নিজেদের উদগ্রীবের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে বক্তব্য রাখেন হোমনা পৌরসভার মেয়র এড.নহরুল ইসলাম,
এদিকে মাদকের ভয়াবহতা রোধে আর্দশ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এড.আমিনুল ইসলাম টুটুল জানান,বছর শেষে এখন স্কুল কলেজগুলোতে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হয় না। কিন্তু পুরস্কার বিতরণ হয়। এবার যদি বার্ষিক পরীক্ষা শেষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকের বিষয়ে সচেতনাতামূলক ক্যাম্পেইন করা যায় তা অনেক ফলপ্রসূ হবে।
সভায় আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ জেলার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পুলিশের ভূমিকা যথেষ্ঠ নয় উল্লেখ করে পুলিশ সুপার মো:শাহ আবিদ হোসেন বলেন,আইন মান্যতার সংস্কৃতি চর্চা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় যত পদক্ষেপ নেয়া হউক তা কোন কাজে আসবেনা।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো:আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় আইনশৃংখলা সভায় সরকারি দফতরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।