শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭


বারী সিদ্দিকীকে নিয়ে গুজব, অবস্থা অপরিবর্তিত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
19.11.2017


বিনোদন রিপোর্ট
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও নন্দিত বংশীবাদক বারী সিদ্দিকীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মৃত্যু’র গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার, ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় যখন বারী সিদ্দিকীর বড় ছেলে সাব্বির সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফ করছিলেন বাবার বর্তমান অবস্থা নিয়ে, ঠিক সে সময়ে বিনোদন অঙ্গনের বেশ কজন তারকা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ‘মৃত্যুর খবর’ নিশ্চিত করেন! যা শুনে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিল্পীর ঘনিষ্ঠজনরা।
হাসপাতালের আইসিইউ-এর সামনে রবিবার সকাল থেকে অপেক্ষায় থাকা গীতিকবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী এমন ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা কেমন ধরনের বিষয় হলো, আমি বুঝি না। যেখানে আমিসহ বারী ভাইর পরিবারের সদস্যরা বসে আছি, প্রেস ব্রিফিং হলো মাত্র সেখানে ফেসবুকে অনেকেই ঘরে বসে এমন একটি বাজে খবর প্রচার করছেন! এটা খুবই দুঃখজনক।’
এর কিছুক্ষণ আগে বারী সিদ্দিকীর বড় ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আব্বার অবস্থা প্রায় অপরিবর্তিত আছে। তিনি এখনও লাইফ সাপোর্টে আছেন। ডাক্তার বলেছেন, আপনারা দোয়া করেন। এছাড়া আপাতত কিছু করার দেখছি না।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আসলে দেশের বাইরেও উনার আর কোনও চিকিৎসা নেই। গেল দুই বছর ধরেই তিনি কিডনি ডায়ালাইসি করে চলছেন। যদিও এতদিন তিনি কাউকে সেটা বুঝতে দেননি। উনি নিজের কষ্টের কথা সহজে আমাদেরও বলতে চাইতেন না। এখন যে অবস্থায় আছেন- তাতে করে আমাদের সবার দোয়াই উনাকে ফিরিয়ে আনতে পারে স্বাভাবিক জীবনে। এর বিকল্প নেই।’
এর আগে শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে বারী সিদ্দিকীকে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেন এই শিল্পী। আধাঘণ্টার মধ্যে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্ট দেন।
সাব্বির সিদ্দিকী জানান, শুক্রবার রাতে মেজর হার্ট অ্যাটাক করেন বারী সিদ্দিকী। হাসপাতালে আনার পর ডাক্তাররা লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান তাকে।
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, বারী সিদ্দিকীর দুটি কিডনি অকার্যকর।
বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’ প্রভৃতি গানের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলায় এক সংগীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।
সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন বারী। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের উপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।
দীর্ঘদিন সংগীতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও সবার কাছে বারী সিদ্দিকী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর। এই ছবিতে তার গাওয়া ছয়টি গানই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।