শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭


ঢাকা সিআইডিতে দিনভর তনুর পরিবার


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.11.2017

স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী নিহত সোহাগী জাহান তনুর পরিবার বুধবার দিনভর ঢাকা সিআইডি অফিসে ছিলেন। তনুর পরিবারের সূত্র জানায়,দিনভর পরিবারের পাঁচজন সদস্যের সাথে পুরানো বিষয় গুলো নিয়েই কথা বলেছেন ঢাকা ও সিআইডি কুমিল্লার কর্মকর্তারা। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তনুর পরিবার ঢাকা সিআইডি অফিসে অবস্থান করছিলেন।
তনুর পরিবারের সূত্র জানায়, গত বছরের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি তনু। পরে তার স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভেতর একটি জঙ্গলে তনুর মরদেহ পায়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ ও ডিবি’র পর গত বছরের পয়লা এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রানু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২৫ অক্টোর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।
তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসা থেকে সিআইডির গাড়ি যোগে ঢাকা যান তার বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম,চাচাতো বোন লাইজু ও চাচাতো ভাই মিনহাজ। রুবেল ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি ঢাকা থেকে সিআইডি অফিসে যান। তিনি বলেন, দিনভর পরিবারের পাঁচজন সদস্যকে পুরানো বিষয় গুলো জিজ্ঞেস করেন ঢাকা ও সিআইডি কুমিল্লার কর্মকর্তারা। রহস্য উদঘাটনে তার মা আনোয়ারা বেগম সিআইডির নিকট সার্জেন্ট জাহিদ ও তার স্ত্রীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। কারণ তাদের বাসায় টিউশনি করতে যাওয়ার পর জঙ্গলে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বরাবরের মতো বলছেন,তনু হত্যার সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিআইডি কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার তনুর পরিবার ঢাকা সিআইডি অফিসে যাওয়া নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।