শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭


হোমনায় ৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্র


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.11.2017

মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, হোমনা :


কুমিল্লার হোমনায় অপহৃত হয়েছে মো. রিয়াদ (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র, উদ্ধার হয়নি চারদিনেও। এ নিয়ে এক মাসের মধ্যে দুটি অপহরণের ঘটনা ঘটলো। অপহৃত স্কুলছাত্র উপজেলার নিলখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। অভাব অনটনের সংসারে ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে পড়াশুনার খরচ জোগাতে গিয়ে অপহৃত হয় সে। গত শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার পঞ্চবটি এলাকা থেকে যাত্রীবেশী কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অপহরণ করার অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে পুলিশ ওই দিনগত রাতে ইজিবাইকসহ মুরাদনগর উপজেলার কোম্পাণীঞ্জের ত্রিশ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ গ্রেপ্তারদের সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে কোর্টে হাজির করলে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তারের আদলত। রিয়াদ হোমনা উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের মিরাশ গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, রিয়াদ এক দরিদ্র ও সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রিয়াদ সবার ছোট। তার বাবার একার পক্ষে সংসার চালিয়ে তাদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। তাই নিজের পড়ালেখার খরচ জোগানো ও বাবার ওপর সংসারের অতিরিক্ত চাপ কমাতে গিয়ে স্কুলশেষে ভাড়ায় ব্যটারিচালিত ইজি বাইক চালাতো রিয়াদ। প্রতিদিনের মতো ওইদিনও নিলখী বাজার থেকে পঞ্চবটি ট্রিপে গিয়ে অপহৃত হয় সে।
পুলিশ ও রিয়াদের মামা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানায়, গত শনিবার বিদ্যালয় ছুটির পর রিয়াদ নিলখী বাজার থেকে উপজেলার পঞ্চবটি ট্রিপে যায়। সেখান থেকেই তিতাস উপজেলার মাছিমপুরের উদ্দেশ্যে রিজার্ভ ভাড়ায় নিয়ে যাত্রীবেশে কয়েক ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে। এর মধ্যে বিকেলে রিয়াদের সাথে পরিচিত এক চালকের মোবাইল ফোনে কথা হয়। সন্ধ্যার পর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে না পারলে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায় ওই চালক। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি শুরু করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিয়াদের মোবাইল থেকেই এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ইজিবাইকসহ তাকে ফিরে পেতে চাইলে ইজিবাইকের মালিক মো. বাবুল মিয়ার মোবাইলে ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কথামত রাতেই পরিবারের সদস্যরা মুরাদনগর থানাকে বিষয়টি অবহিত করে ফোনে দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী মুরাদনগর উত্তর ত্রিশ কলাবাগানে যায়। সেখানে মুক্তিপণের জন্য অপেক্ষারত তিন যুবককে ইজিবাইকসহ গ্রেফতার করে মুরাদনগর থানা পুলিশ। পরে গ্রেফতার তিনজনকে হোমনা থানায় সোপর্দ করা হয়। এরা হলো- দেবিদ্বার উপজেলার শিবনগর বক্স বেপারী বাড়ি গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৮), মুরাদনগর উপজেলার উত্তর তিরিশ গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে মো. হেলাল (২৩) এবং একই গ্রামের বারিক মিয়ার ছেলে খাবির হোসেন (২৮)।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সামসুল হক সরকার বলেন, রিয়াদের অপহরণের ঘটনা খুব দুঃখজনক। সে আমার বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। সে বিদ্যালয়ের পড়াশুনার পাশাপাশি ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ নির্বাহ করতো ।
হোমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হক বলেন, মোবাইলে মো. রিয়াদকে অপহরণের অভিযোগে মুক্তিপণ দাবির সূত্র ধরে
মুরাদনগর থানা পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করে হোমনা থানায় সোপর্দ করে। গ্রেপ্তারদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ‘ক্লু’ পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু রিয়াদকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় রিয়াদের মামা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে হোমনা থানায় একটি অপহরণ মামলা করেছে। সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিদের আজ (গতকাল) মঙ্গলবার কোর্টে পাঠানো হলে কুমিল্লার সিনিয়র জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার তিনজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর উপজেলার দুলালপুর হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জাহিদকে অহরণের পর খুন করে মুক্তিপণ দাবী করে। লাশ গুম করর উদ্দেশ্যে জাহিদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। পরে ঘাতকদের দেওয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক জাহিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
বর্তমানে অপহৃত স্কুল ছাত্র রিয়াদ বেঁচে আছে না-কি তাকেও খুন করা হয়েছে এ নিয়ে রিয়াদের পরিবার, তার শিক্ষক- শিক্ষার্থীসহ উপজেলার সর্বত্র উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।