শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » মৃত্যুর ২৯ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মিলেনি সফিকের


মৃত্যুর ২৯ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি মিলেনি সফিকের


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.11.2017

স্টাফ রিপোর্টার।।


কুমিল্লার লাকসামের ৪নং বাকই ইউনিয়ন ভাবকপাড়া গ্রামের মৃত মাস্টার আজগর আলীর দ্বিতীয় সন্তান প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার সফিকুর রহমানের নামে গ্রামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর ২৯ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি তিনি। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকে দুরন্ত সাহসের অধিকারী লালমাই ( তৎকালীন লাকসাম) উপজেলার ভাবকপাড়া গ্রামের মাস্টার সফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে পায়ে হেঁটে গ্রামের বাড়িতে আসেন। ওই বছরের জুন-জুলাই মাসের কোনো একদিন তিনি ট্রেনিংয়ের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত গমন করেন। পরে বাংলাদেশে এসে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন তার একাধিক সাক্ষী এখনো জীবিত আছেন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম তার সহযোদ্ধা। একটি রেকর্ডে সফিকুর রহমানের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত আছে, রয়েছে মুক্তিবার্তা নম্বর। শুধুমাত্র গেজেটভুক্ত না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হন তিনি। তিনি আমৃত্যু চেষ্টা করেও স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন বলে পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর তার প্রয়াত স্ত্রী ও একমাত্র পুত্র সন্তান জিল্লুর রহমান চেষ্টা করেও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হন। বারবার উপজেলা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের শরণাপন্ন হয়েও অদৃশ্য কারণে স্বীকৃতি আদায় করতে পারেনি তারা। সর্বশেষে চলতি বছর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই ও হালনাগাদের সময়েও স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আবেদন করেছেন একমাস আগে প্রয়াত হওয়া সফিকুর রহমানের স্ত্রী ফজরের নেছা।
তার ছেলে জিল্লুর রহামানের দাবি, বাবা যুদ্ধ শেষে সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বদলি হয়ে এর কিছুদিন পর তিনি বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানেই চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮৮ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তার একাধিক প্রমাণ ও সাক্ষী রয়েছে। এলাকার সব মানুষই একবাক্যে বলবেন, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। জিল্লুর রহমান বলেন, বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেখতে না পারা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে লাকসাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুল বারী মজুমদার জানান, সাধারণত মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে এমন শতকরা ৬০ শতাংশ প্রমাণ থাকলে যাচাই-বাচাই কার্যক্রমে ওই ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। সফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন এমনটা তার এলাকা থেকে অনেকেই জানিয়েছেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, যার ৮০-৮৫ ভাগ প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তারপরও তিনি গেজেটভুক্ত না হওয়া দু:খজনক। তিনি আরো বলেন, পরিবার থেকে সঠিক সমন্বয় সাধন ও মন্ত্রণালয়ে চেষ্টা চালিয়ে গেলে ইনশাল্লাহ তিনি স্বীকৃতি পেয়ে যাবেন।