শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭


ছাত্রলীগের হামলায় আহত এসআই’র মামলা নিচ্ছেনা ওসি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
01.12.2017


স্টাফ রিপোর্টার।। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটকের জেরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে চার পুলিশ সদস্যকে পেটানো ঘটনায় ৪দিন অতিক্রম হলেও এখনো থানায় মামলা হয়নি। হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা জানান, হামলার ঘটনায় থানায় ছাত্রলীগের সম্পাদকে প্রধান আসামী করে ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করা হলেও বিভিন্ন রহস্যজনক কারণে অভিযোগগুলোকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করছেনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার খোদাইভিটা এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত দলের সদস্য মো.শহিদ নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। আটকের জের ধরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সদস্যকে পিটিয়ে ও ইট-পাটকেল মেরে আহত করা হয়। আহত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো.কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয়েছে।

হামলায় আহত হন মনোহরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিন্টু মোল্লা, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মামুন মিয়া, পুলিশ সদস্য আনিস ও নায়েব আলী আহত হয়।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্য মনোহরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিন্টু মোল্লা জানান, আমি বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো.কামাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৯জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করি থানায়। কিন্তু আজ চারদিন অতিক্রম হলেও রাজনৈতিক তদবির ও বিভিন্ন রহস্যজনক কারণে লিখিত অভিযোগটিকে মামলা বা এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করছে না থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

মামলা না নেওয়ার অভিযোগে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা দুইজকে আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, থানায় এখনো কোন মামলা হয়নি। আসামী গ্রেফতারের পর মামলা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ, গত মঙ্গলবার বিকেলে মনোহরগঞ্জ বাজারের খোদাইভিটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯পিস ইয়াবাসহ উপজেলার দিশাবন্দ গ্রামের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত দলের সদস্য মো.শহিদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে রাজনৈতিক তদবির চালিয়ে ওসি’র কাছ থেকে তাকে (ইয়াবা ব্যবসায়ীকে) ছাড়িয়ে নেন উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো.কামাল হোসেন। এরপর ওইদিন রাত ৭টার পর খোদাইভিটা এলাকায় অভিযানকালে রেখে আসা পুলিশের মোটরসাইকেল আনতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা কামালের নেতৃত্বে একদল মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে পুলিশকে উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।