শনিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭


ধুঁকে ধুঁকে চলছে জেলার নয়টি সিনেমা হল


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.12.2017

মহিউদ্দিন মোল্লা:


শিক্ষা-সংস্কৃতির রাজধানী বলে খ্যাত কুমিল্লা নগরীর একমাত্র সিনেমা হলটিও বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে। নগরীর চকবাজারে অবস্থিত রুপালী হলটি লোকসানের কারণে কিছুদিনের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হবে। হলটিতে গিয়ে দেখা যায়,প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী মিলিয়ে সেখানে তিন বারো ছত্রিশজন দর্শক রয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাকী নয়টি হলও এখন ধুঁকে ধুঁকে চলছে।
সিনেমার প্রবীণ দর্শকরা জানান,পঞ্চাশের দশকে কুমিল্লায় প্রথম সিনেমা হল নির্মিত হয়। ষাট এবং সত্তরের দশক ছিলো সিনেমা হলের রমরমা সময়। বিত্তবান লোকজন পরিবার নিয়ে সিনেমা হলে আসতেন। ৮০দশকে ভিসিআর আসার পর হলে মানুষের ভিড় কমতে থাকে। পাঁচ বছর আগেও কুমিল্লা নগরীতে হাফ ডজন সিনেমা হল ছিলো। তা বন্ধ হতে হতে একটিতে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ বন্ধ হয় নগরীর ছাতিপট্টির মধুমিতা হল। এর আগে বন্ধ হয় কান্দিরপাড়ের দীপিকা ও দিপালী হল। দীর্ঘদিন আগে বন্ধ হয় লিবার্টি ও রুপকথা হল। অনেক হল মালিক আধুনিক সিনেপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলে হল ভেঙ্গে গুলো ফেললেও তারা সেটি নির্মাণ করবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দর্শকদের মাঝে।
এদিকে কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে সদর দক্ষিণ,লালমাই,বরুড়া,মনোহরগঞ্জ,নাঙ্গলকোট,তিতাস ও মেঘনায় কোনো সিনেমা হল নেই। ব্রাহ্মণপাড়ার রুপসী,বুড়িচং সদরের ছবিঘর,চৌদ্দগ্রামের পুলক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। পুলক সিনেমা হল এখন ভাঙারি পণ্যের গোডাউন। অন্য হল গুলো এখন শপিং কমপ্লেক্স। ধুঁকে ধুঁকে চলছে লাকসামের পলাশ,পড়শী। চান্দিনার পালকী। দাউদকান্দির গোমতী ও ঝুমকা। হোমনার মুন। মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পূর্ণিমা হল। ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গ্যারিসন ও বুড়িচং কংশনগর বাজার এলাকার স্টার ভিউ। হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর শত শত কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছে। মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে নির্মল বিনোদন থেকে।
নগরীর রুপালী হলে একটি দুপরের শো‘তে গিয়ে দেখা যায়, সুপার স্টার শাকিব খানের সিনেমা ‘ভালবেসে মরতে পারি’ চলছে। এসময় হলে মোট ছত্রিশজন দর্শক ছিলো। তাদের জন্য চলছে ৪০টি ফ্যান। হল কর্তৃপক্ষের দাবি- রাতের শোতে মাঝে মাঝে দর্শকই থাকে না। কখনও চার/পাঁচজন নিয়ে শো চালাতে হয়।
৩৭বছর ধরে রুপালী হলের ম্যানেজার শ্যামল সাহা। তিনি বলেন,সিনেমা শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। সর্বশেষ ভালো ব্যবসা হয়েছে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ ছবিটিতে। প্রশাসন নজরদারী করায় সেটি পাইরেসি হয়নি। এখন পাইরেসির কারণে হল ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই হলটিও লোকসানের মধ্যে আছে। মালিকপক্ষ এখানে মার্কেট নির্মাণ করতে পারে।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন,সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-সংস্কৃতির জন্য সুখকর বিষয় নয়। শুধু পাইরেসি নয়,ব্যবসা খারাপের জন্য হল মালিকরাও দায়ী। কারণ যুগের সাথে তাল না মেলালে দর্শক ধরে রাখা যাবে না। হলের সুন্দর পরিবেশ সবার কামনা। সিনেপ্লেক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিনেমা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।