বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮


থেমে যেতে পারে স্মৃতির পথচলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
05.01.2018

স্টাফ রিপোর্টার।।


কুমিল্লায় জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও হাসি নেই মেধাবী শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা স্মৃতির মুখে। শনিবার ফল প্রকাশের পর সবাই যখন উৎসবে মাতোয়ারা তখন জিপিএ-৫ পেয়েও ছন্দহারা জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত কুমিল্লা হাইস্কুলের অদম্য মেধাবী ছাত্রী সাদিয়া সুলতানা স্মৃতি। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এ শিক্ষার্থী সামনের পথচলা।

সাদিয়া সুলতানা স্মৃতি জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের মো. জামাল হোসেন সরকার ও বেগম তাছলিমা জামালের মেয়ে। বাবা মায়ের ইচ্ছা স্মৃতিকে ডাক্তার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। স্মৃতির স্বপ্নও তাই।

স্থানীয়রা জানায়, জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের জামাল হোসেন পত্রিকা বিক্রি করতেন। সংসার চালাতে না পেরে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে পাড়ি জমান কুমিল্লায়। নগরীর ছোটরা মধ্যপাড়া মসজিদ সংলগ্ন একচালা জরাজীর্ণ ভাড়া ঘরে বসবাস এ পারিবারের। বর্তমানে মগবাড়ি চৌমুহনী বাজারে তরকারি বিক্রি করে চলে এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ ৫ জনের সংসার।

সাদিয়া সুলতানা স্মৃতি তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড়। জন্মের পর থেকে অভাব অনটনেই বেড়ে ওঠা তার। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতেই বাবার হিমশিম। এরই মাঝে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে সকাল বিকেল প্রাইভেট পড়ায় স্মৃতি। কিন্তু নিজের প্রাইভেট পড়ার কোনো সুযোগ হয়নি তার। সারাদিন স্কুল আর প্রাইভেট পড়ানো শেষে রাতে এক সুযোগে নিজের পড়া। এমনি যুদ্ধ করে মেধাবী এ শিক্ষার্থীর জেএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন।

এর আগে একইভাবে পঞ্চম শ্রেণিতেও জিপিএ-৫ অর্জন করে স্মৃতি। কিন্তু মেধাবী এ শিক্ষার্থীর সামনের পথচলা ও লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে পরিবারের অভাব আর অর্থ সংকটে। জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও আর্থিক দৈন্যতার কারণে হাসি নেই পরিবারটিতে। অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত পরিবারটি।

বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে স্মৃতির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নও পূরণ সম্ভব বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

স্মৃতির মা তাছলিমা বেগম বলেন, ছেলে মেয়েসহ আমাদের পাঁচজনের সংসারে সামান্য আয়ে চালডাল কেনাই দায়। কী করে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব। মেয়ের লেখাপড়া জন্য যদি বিত্তবানরা সহযোগিতা করে তাহলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।

কুমিল্লা হাই স্কুলের শিক্ষক নুরুন্নাহার বলেন, স্মৃতি খুব মেধাবী। ওর বাবা খুব গরিব। তাই বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সহজ হতো।