মঙ্গল্বার ২৩ অক্টোবর ২০১৮


পিপিএম-বিপিএম পদক পেলেন কুমিল্লা পুলিশের ৪জন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.01.2018

স্টাফ রিপোর্টার:


সততা, সাহসিকতা ও পেশাদারীত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ কুমিল্লা জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের ৩ কর্মকর্তা ও একজন কনস্টেবলসহ ৪জন বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার রাজারবাগ প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁদের হাতে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁদের এ পদক অর্জনে জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। পিপিএম পদক প্রাপ্তরা হলেন- কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-এ সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন, কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া, হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মোস্তফা কামাল এবং হাইওয়ে পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া পেয়েছেন বিপিএম পদক।
* কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর-এ সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন :
২০১৬ সালে এ জেলায় যোগদান কনে তানভীর সালেহীন ইমন। এরপর তাঁর দিকনির্দেশনায় অস্ত্র, মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে ডিবি ও থানা পুলিশ। এসময়ে ২৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯ হাজার ৫৫১ কেজি গাঁজা, ২ লাখ ৫১ হাজার পিস ইয়াবা, মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ৩২টি গাড়ি উদ্ধারসহ ৯৩০টি মাদক মামলায় ১ হাজার ১৫৭ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক, ৫টি ডাকাতি মামলা, আলোচিত ৪০ লাখ টাকা ছিনতাই, ২টি শিশু ধর্ষণসহ অধিকাংশ মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া জেলা পুলিশের আয়োজনে আন্তঃজেলা মাদক ইভটিজিং ও জঙ্গিবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ৭১টি বিতর্ক অনুষ্ঠান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অবদান নিয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম এর নির্দেশনায় মামুন সিদ্দিকী রচিত গবেষণা গ্রন্থ ১৯৭১ ঃ কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে গত বছর তিনি আইজিপি ব্যাজ লাভ করেন। তানভীর সালেহীন ইমন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আয়লা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইকবাল এবং মর্জিনা আক্তারের ছেলে।
অনুভূতি ব্যক্ত করে পদকপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি কর্মস্পৃহাকে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং অধিক দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ হবে জনগণের পুলিশ যাদের নিয়ে গর্ব করা যাবে’, সেই চেতনাকে ধারণ করে জনগণের আস্থা, সততা ও দেশপ্রেমে অবিচল থেকে কাজ করতে চাই।
* কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া :
তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিডিএমএস ও সিআইএমএস-এ ৩৭ হাজার ৩৪৩টি ডাটা এন্ট্রিসহ বিডি পুলিশ হেল্প লাইন এ্যাপস ব্যবহারে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানা। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, জনসচেতনতামূলক ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তঃজেলা মাদক, ইভটিজিং ও জঙ্গীবাদ বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে ভূমিকা রাখেন কোতয়ালী মডেল থানা ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া। সূত্র জানায়, মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়ার দিকনির্দেশনায় ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩৫টি কার্তুজ, ৪৮টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারসহ ৮জন অস্ত্রধারী ও ৭৭ জন সন্ত্রাসী এবং ৩৮৬টি মাদক মামলায় ৪৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া তার নেতৃত্বে টিম ওয়ার্ক ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৬৫টি সাজা পরোয়ানা ও ৪ হাজার ৬৪টি পরোয়ানা তামিলসহ গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন এবং রুজুকৃত ১ হাজার ১৬৪ মামলার মধ্যে ১ হাজার ৩৮টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। এর মধ্যে আলোচিত রেলওয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের ৪০ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করে ১টি পিস্তল, ১টি মাইক্রোবাস, ২টি মোটর সাইকেলসহ লুণ্ঠিত নগদ ১৩ লাখ ১১ হাজার টাকা উদ্ধার করে বিভিন্ন মহলে তিনি প্রশংসিত হন। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য দেশ সেরা ওসি’র সম্মাননা লাভ করেন। আবু ছালাম মিয়া শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলা সদরের নড়িয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. শাহেদ আলী মিয়া ও মোসা. ছায়েদা বেগমের ছোট ছেলে।
* পদক পেলেন হাইওয়ে পুলিশের দুইজন :
গত বছরের ৭ মার্চ চান্দিনার তীরচর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশীকালে হাইওয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশ্ববর্তী খাদঘর এলাকা থেকে দুই জেএমবি সদস্য আটক করেন হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির সার্জেন্ট ও টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার সন্তান সার্জেন্ট মোস্তফা কামাল পিপিএম পদক লাভ করেন। চান্দিনায় সার্জেন্ট মোস্তফা কামালের ওই সাহসী অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত মোবাইলের সূত্র ধরে পরে চট্টগ্রামের মীরসরাই জঙ্গি আস্তানা থেকে ২৯টি গ্রেনেড উদ্ধারসহ সিলেটের আতিয়া মহলে অভিযান চালিয়ে জঙ্গী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সমূহ। বর্তমানে তিনি মিরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে একই বছরের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরিপুর এলাকায় দুর্ঘটনা কবলিত বাসের ৩৪ জন যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করার জন্য হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল পারভেজ মিয়া বিপিএম পদক লাভ করেছেন। বর্তমানে পারভেজ হাইওয়ে পুলিশের ঢাকাস্থ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত রয়েছেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার হোসেনদি এলাকায়।