শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » হতাশায় দিন কাটছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ২৮ হাজার কর্মীর


হতাশায় দিন কাটছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ২৮ হাজার কর্মীর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.01.2018

আবদুর রহমান:
৫৭ বছরেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতির কোন বিধিমালা তৈরি হয়নি। এতে এই অধিদপ্তরের অধীনে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের (এফডাব্লিউএ) সারা জীবন একই পদে থেকে অবসরে যেতে হচ্ছে। এতে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত প্রায় ২৮ হাজার কর্মীর দিন কাটছে হতাশায়।
২০১২ সালে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) পদে যোগদান করেন মো.জহির আহমেদ। কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের হাসনাবাদ ইউনিয়নে জহিরের দায়িত্ব হলেও পাশের বাইশগাঁও ইউনিয়নের কাজও করছেন তিনি। কাজের প্রতি মনোযোগী হওয়ায় এলাকাতেও বেশ সুনাম রয়েছে তার। কিন্তু অবসরে যাওয়া একই উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের এফপিআই মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের কথা মনে পড়লে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন জহির। কারণ মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামকে ১৯৭৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৯ বছর একই পদে থেকে অবসরে যেতে হয়েছে। শুধুমাত্র পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মচারীদের নিয়োগবিধি না থাকায় দীর্ঘ ৩৯ বছরের কর্ম জীবনে পদোন্নতির মুখ দেখেননি তিনি।
বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতির কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মো.জহির আহমেদ জানান, সারাদেশে মাঠপর্যায়ে আমাদের প্রায় ২৮ হাজার পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (এফপিআই) ও পরিবারকল্যাণ সহকারী (এফডাব্লিউএ) রয়েছে। এসব মাঠকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে চললেও অধিদপ্তরের জন্ম থেকেই এরা অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার। নিয়োগ ও পদোন্নতির কোন বিধি না থাকায় মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের সারা জীবন একই পদে থেকে এই বঞ্চনা মেনে নিয়েই অবসরে যেতে হয়েছে।
জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার বেলঘর ইউনিয়নের এফপিআই সামছুল হক বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে একই পদে কাজ করে চলেছি। চাকুরির শেষ দিকে চলে এসেছি। কিন্তু অবসরে যাওয়ার আগে পদোন্নতি পাবো কি না জানি না।
ভুক্তভোগী একাধিক মাঠকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়োগ ও পদোন্নতির বিধি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কমিটির সভার ভাতা বৃদ্ধি, এফপিআইদের স্যাটেলাইট ভাতা ও কাজের সুবিধার্থে মোটরসাইকেল প্রদান এবং নিয়োগবিধিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা উন্নতিকরণসহ বিভিন্ন দাবি দীর্ঘদিনের। প্রায় সময় এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তরে কিছুই হয় না।
বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা মাঠ কর্মচারী সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো.ফিরোজ মিয়া বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে থাকা আমাদের প্রায় ২৮ হাজার মাঠকর্মীর দুঃখ আর কষ্টের দিন যেন শেষ হবার নয়। নিয়োগ ও পদোন্নতির কোন বিধি না থাকায় এরা সব সময় অবহেলিত রয়ে গেছে। সরকারের অন্যান্য বিভাগে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি হলেও আমাদের অধিদপ্তরের কর্মীরা সেটা থেকে বঞ্চিত।
এসব বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো.রমজান আলী বলেন, আমাদের নিয়োগবিধি আছে এবং নতুন কিছু পদও সৃষ্টি হয়েছে। এখন সেটা সংশোধনের কাজ চলছে। এনিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি সভাও হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।