শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » দেশ সেরা বিদ্যাপীঠ হবে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ


দেশ সেরা বিদ্যাপীঠ হবে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.01.2018

 

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট,মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও উচ্চ মাধ্যমিকে বোর্ডের সামগ্রিক বিপর্যস্ত ফলাফলের মধ্যেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারছে। বর্তমান সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রিয় সন্তানদের ভর্তি করানোর লক্ষ্যে অভিভাবকরা বছর জুড়েই সচেষ্ট থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে এত কম সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় সফলতার ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখতে পেরেছে সে কথাই দৈনিক আমাদের কুমিল্লার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান দিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড.একেএম এমদাদুল হক। সাক্ষাতকার নিয়েছেন স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজ নান্টু।

আমাদের কুমিল্লা: এখনো দশ বছর পূর্ণ হয়নি তার মাঝেই শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হলো, এমন সফলতার নেপথ্যের কথা শুনতে চাই?

অধ্যক্ষ ড. একে এম এমদাদুল হক: আমি এ প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি গত ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর। নি:সন্দেহে আমার আগে যে দু’জন অধ্যক্ষ ছিলেন তারা তাদের অর্পিত দায়িত্ব সূচারুরূপে পালন করেছেন। তাই আমি ও যোগদানের পর থেকে অতীতের কার্যক্রমের সাথে নতুনত্ব যোগ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছি।

আমাদের কুমিল্লা: নতুনত্ব বলতে কি বোঝাতে চেয়েছেন?

অধ্যক্ষ ড. একে এম এমদাদুল হক: দেখুন এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ। শুধুমাত্র তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষকদের মনিটরিং, যথাসময়ে পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণসহ যাবতীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। যেমন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্টাফরা তাদের উপস্থিতি জানান দেয় মেশিনের ভেতর আঙ্গুল চেপে। কে কয় দিন কিংবা কখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালো সেগুলো খুব সহজে মনিটরিং করা যায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক ডাটাবেজ অনলাইন বেজড করা হয়েছে। একজন অভিভাবক বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে তার প্রিয় সন্তানের লেখাপড়া মানোন্নয়ন সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আমি যে কোন এলাকা থেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমি সার্বক্ষণিক মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নজরদারি করতে পারছি। মূলত আমি প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে সভা করছি। যে কোন সমস্যায় তাৎক্ষণিক ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এতে করে স্কুল ও কলেজ শাখার লেখাপড়ার মনোন্নয়ন ঘটছে। এছাড়াও সেমিস্টার ও বার্ষিক পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্ন সেট তৈরি করছি। যাতে শিক্ষার্থীরা গদবাঁধা সিলেবাস নির্ভর শিক্ষার্থী না হয় কিংবা কোচিং প্রাইভেট নির্ভর না হয় সে জন্য এমন ব্যবস্থা করেছি। পাবলিক পরীক্ষায় নিয়ম নীতি মেনে আমি পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করি। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা আমাকে বেশ মর্মাহত করেছে। সে অভিশাপটাকে ধুয়ে মুছে দিতে আমি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা থেকেই একাধিক প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যা ইতিমধ্যে অভিভাবক মহলে বেশ সমাদৃত হয়েছে।

আমাদের কুমিল্লা: সহ-শিক্ষা কার্যক্রম বিস্তারে ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আপনার সুপারিশ বা নতুন কোন পদ্ধতি বেশ সময়োপযোগী বলে মনে করেন ?

অধ্যক্ষ ড.একে এম এমদাদুল হক: যে কোন মানের শিক্ষার্থীকে একটু বেশি সময় দিলে আর শিক্ষার্থীরা একটু আন্তরিক হলে যে কোন পরিস্থিতি ভালো ফলাফল করা সম্ভব। একটা উদাহারণ দিলে সহজ হবে, চলতি বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজে ১৩ জন জেএসসি পরীক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় এক বিষয়ে খারাপ করেছিলো। নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থীকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া যাবে না। ঠিক তারপর থেকে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি একটু বাড়তি নজরদারি করা হয়। ফলাফল জেএসসি ২০১৭-তে কুমিল্লা বোর্ডে শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজ শতভাগ পাস।

আমাদের কুমিল্লা: এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। শিক্ষকতার মত কঠিন ও মহান পেশায় আছেন। নেপথ্যের গল্পটা শুনতে চাই।

অধ্যক্ষ ড.একে এম এমদাদুল হক: আসলে আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন শিক্ষকতা পেশার প্রতি রোমঞ্চকর অনুভূতি জন্ম হতে থাকে। কারণ শিক্ষকরা ক্লাসে যখন লেকচার দেয় তখন ছাত্রছাত্রীরা কত সুন্দর মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের বক্তব্য শোনেন। এছাড়াও সত্যিকার অর্থে একটি মেধাবী জাতি গঠনে শিক্ষকতা পেশার বিকল্প নেই। এই একটা ঐশ্বরিক অনুধাবনটা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে মনে জাগ্রত হয়েছিলো। এখন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড মডেল কলেজের দায়িত্ব পালনকালে মনের গহীনে বারংবার বেজে উঠে আমি বোধহয় আমার স্বপ্নের পথে হাঁটছি।