সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮


কুমিল্লা প্রেস ক্লাব ও বাবুলের সাথে নির্বাচন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
10.01.2018

রেজাউল করিম শামিম:

নজরুল ইসলাম বাবুল। এক সময় কুমিল্লাতে সাংবাদিকতা করেছে বহু বছর। বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী। বছরে/দু’বছরে সময় করে কুমিল্লা আসে ঠিকই। আমার সাথে দেখা নাই দীর্ঘদিন। তবে এবার দেখা হয়ে গেছে ঠিকই। ভাগনির বিয়ে উপলক্ষে কুমিল্লা যাওয়া আর বাবুলের মোগলটুলির বাসায় দাওয়াতের বিষয়টি মিলে যায় কাকতালীয় ভাবে। আর তাই বাবুলের সাথে দেখা হওয়ার পাশাপাশি কুমিল্লার সাংবাদিকদের অনেকের সাথেই দেখা হয়ে এবার।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালীন নানা ঘটন-অঘটনের পাশাপাশি অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে বাবুলের সাথে ।বিশেষ করে একটি ঘটনাতো আমার কোনদিনও ভুলবার নয়্। আমাদের পেশাজীবীদের জন্যে ‘প্রেস ক্লাব’একটি মর্যাদা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। শুধু আমাদের জন্যই বা বলি কেন? প্রেস ক্লাবতো সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের একটি অন্যতম মাধ্যমও। তা যাই হোক, শুনতে খারাপ শোনালেও একথা বলতে হয় যে, একটা সময় দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো আমাদের কুমিল্লাতেও দুটি প্রেস ক্লাবের অস্তিত্ব ছিল।

প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাদের হাত দিয়েই। সেই ’৭৩ সালের দিকেই আমরা যে ক’জন সাংবাদিকতার সাথে সংপৃক্ত ছিলাম, তারাই প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলে ছিলাম। তখন ঐ সাংগঠনিক কাঠামোই ছিল। ক্লাব বলতে কোন নির্দিষ্ট আবাস ছিল না। আমরা মূলত কান্দিপাড়ে কলেজ রোডের রহমান ভাইয়ের বইয়ের দোকান ‘রহমান ব্রাদার্স’-এ, পরবর্তীতে বাদুরতলার সিংহ প্রেসের দোতলায় মুকুট’দা ওখানে বসেই আমাদের কাজকর্ম চালিয়ে নিতাম। পাশাপাশি আমাদের চেষ্টা ছিল সরকারি এক টুকরো জমি বরাদ্দ পাওয়ার্। কিন্তু উপযুক্ত কোন জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি সময়, আফতাব ভাই ও মোস্তফা ভাইয়ের সাথে মিলে টাউন হলের ভিতরে একটি স্থান দেখেছিলাম্। টাউন হলের কেয়ার টেকার ছাত্তার ভাইয়ের বাসার সামনে, মন্দির সাদৃশ্য একটি পরিত্যক্ত ইমারত ছিল। সেটা ভেঙে সেখানে ক্লাবের নতুন করে ভবন নির্মাণ করার কথা চিন্তা করা হয়েছিল্। সেই ’৭৩ সালের দিককার কথ্।া ঐ স্থানটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রেস ক্লাবের জন্য দিতে কোন আপত্তি ছিল না। তবে টাউন হল কতৃপক্ষের আপত্তির জন্যে তা আর হয়ে উঠেনি। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। পরবর্তীতে রূপকথা সিনেমা হলের উপর তলা অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে প্রথমে সাংবাদিক সমিতির নামে এবং পরবর্তীতে প্রেস ক্লাবের জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ নেয়া হয়।

কিন্তু, পত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংবাদিককের সংখ্যাও বেড়ে যেতে থাকে। তখন প্রেস ক্লাবের নিজস্ব একটি স্থান অনিবার্য হয়ে ওঠে। জাতীয় পাটির সরকারের সময় সে সুযোগ এসে যায়। আনসার ভাই (প্রয়াত আরসার আহাম্মদ)তখন সদরের এমপি এবং জেলা পরিষদেরও চেয়ারম্যন। এ সময় মোস্তফা ভাই, আফতাব ভাই, আলী হোসেন চৌধুরী, প্রদীপ সিংহ রায় মকুট, তপন সেন গুপ্ত আমরা অনেক বার আনসার ভাইয়ের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেছি। আনসার ভাই আমাদের খুবই আদর করতেন। জ্যোৎস্নার প্রতিবেশী, ইমেজ ফিল্ম সোসাইটি কিংবা জনান্তিকের হয়ে আমরা যখনই যে কাজে ওনার কাছে গিয়েছি তিনি আন্তরিকভাবে আমাদের সহযোগিতা দিয়েছেন। মোস্তফা ভাই, শিল্পকলা একাডেমির পাশে সিএন্ডবির পরিত্যক্ত একটি গোডাউনকে প্রেস ক্লাবের জন্যে পছন্দ করলেন।আমাদেরও পছন্দ হলো স্থানটি। সেখানে কিছুটা আপত্তি ছিল শিল্পকলা কর্তৃপক্ষের। সেসময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহাম্মদ। কুমিল্লা সফরে এলে জাফর ভাই, সার্কেট হাউজে অবস্থান করছিলেন। প্রেস ক্লাবের বিষয়টি আনসার ভাই আগেই বলে রেখেছিলেন। পরদিন খবর পাঠালে আমি আর আলী হোসেন সার্কেট হাউজে গেলাম জাফর ভাইয়ের সাথে দেখা করতে। তখন ওনার কক্ষে অন্য কেউ ছিলো না। আমি আর আলী হোসেন অনেকক্ষণ কথা বলেছিওনার সাথে, একান্তে। রাজনীতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় এমনকি তৎকালীন সরকারী পত্রিকা দৈনিক বাংলার জন্য একটি নতুন মেশিন ভারত থেকে আনার বিষয় নিয়ে পর্যন্ত কথা হয়। সেই ফাকে কথা হয় আমাদের প্রেস ক্লাবের জায়গার বিষয়টি নিয়েও। পরবর্তীতে পিডব্লিওডি মাধ্যমে বরাদ্দকৃত স্থানে ভবন নির্মাণ করা হয়। আর এই নির্মাণ কাজের দেখাশোনর অন্যতম দায়িত্ব পালন করেছেন আলী হোসেন চৌধুরী।এর মাঝে অনেক ঘটনা ঘটেছে। যত সহজে বলা গেলো, তত সহজে কাজ সম্পন্ন হয়নি। তবে বিস্তারিত নাই বললাম।

তা যাই হোক,নতুন ভবন তৈরির পূর্বে আমাদের প্রেস ক্লাব দুটি অংশে বিভক্ত ছিল। বর্তমানে প্রবাসী দেলোয়ার জাহিদের নেতৃত্বে একটি অংশ পৃথকভাবে প্রেস ক্লাবে কর্মকা- পরিচালনা করতো। অনেক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা রচিত নতুন ঘটনতন্ত্রের আলোকে নির্বাচনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রেস ক্লাব গঠনে সক্ষম হই।যথারীতি তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়। রূপসী বাংলার সম্পাদক আমাদের শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আবদুল ওহাব স্যার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমি এবং নজরুল ইসলাম বাবুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। প্রচার-প্রচারণার কিছুদিন পর বুঝতে পারি, তখনকার কুমিল্লাতে যেসব পত্রিকার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিরা ভোটার, তার মধ্যে একমাত্র আমি ছাড়া আওয়ামী লীগ করে এমন কেই ছিল না। তবে মোস্তফা ভাই, আলী হোসেন চৌধুরী, মুকুটদা, নুরূর রহমান বাবুল, নাসির উদ্দিন, তপন সেন গুপ্ত, দুলাল ভাই, বাকীন রাব্বী-এমন যারা প্রগতিশীল চিন্তা-ভাবনা করতো তারই ছিল আমার পক্ষে। সঙ্গত কারণেই আমি হেরে যাওয়াই কথা। তারপরও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে আমার পক্ষে আরো কিছু ভোট জুটে ছিল। তাতে ভোটের ব্যবধান কমেছে বটে কিন্তু, আমি মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারিনি। তখন ছাত্রলীগের সক্রিয় অনেক নেতা-কর্মীরা বিক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায়। নির্বাচন ভ-ুল করে দেবে এমনি খবর পৌঁছালে আমি বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে তাদের শান্ত রাখতে সক্ষম হই।

এরপর থেকে আমার চিন্তাভাবনা ছিল ইতিবাচক কর্মকা-ের মাধ্যমে প্রেস ক্লাবের সকলের সাথে একটা ঘনিষ্ঠ সুসম্পর্ক গড়ে তোলার। আমি তাতে সফল হয়েছিলাম। দু’বছর মেয়াদ শেষ হলে সকলেই ভেবেছে আমি নির্বাচনে অংশ নেব। সে ভাবেই আলাপ-আলোচনা চলছিল। একটি পর্যায়ে আমাদের স্বপক্ষের সকলে যখন একত্রে বসলাম, তখন আমি জানালাম, আমি নির্বাচণে অংশ নিচ্ছি না। তবে আমার ইচ্ছা অনুযায়ীই সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক হবে। সকলেই অবাক বিস্মিত হলেও কেউ বিরোধিতা করেনি। সে সময় প্রথম আলোর প্রতিনিধি নাছির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সকলেই মেনে নিলো। আর সভাপতি, বাবুলদের পক্ষ থেকে হবে এটাই সকলে নিশ্চিত। আমাদের প্রিয়জন দুলাল ভাই তখন আফতাব ভাইয়ের সম্পাদনায় ’ফলক’ পত্রিকার সাথে যুক্ত। ওনাকে নিয়ে কুমিল্লা ক্লাবে বসলাম। আমি আর আলী হোসেন অনেকক্ষণ আলোচনা করে ঠিক করলাম।পরে দুলাল ভাইকে বললাম, উনি যেন বাবুলদের পক্ষ থেকে সভাপতি প্রার্থী হন।বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এবং নির্বাচন করা লাগবে না এমনি পরিস্হিতির কথা বলে ওনাকে রাজি করালাম। পরিকল্পনা মাফিক সব কিছু ঠিকঠাক চলে। ফলাফল হলো, সে বছর নির্বাচন আর করতে হয়নি। দুলাল ভাই আর নাছির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ পুরো কমিটি বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়।

তার দু’বছরের মেয়াদ শেষ করার পর অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে বাবুলদের পক্ষ থেকেই আমাকে সভাপতি পদে নির্বাচনের কখা বলা হলো। আর সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান বাবুল। সে বছরও নির্বাচনের কোনই প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু, বিসিকের ময়দার মিল মালিক আফজল ভাই(আফজল খান)এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ, মফিজুল ইসলাম সভাপতি হয়ে একটি প্যনেল দেয়ায় আমাদেরকে নির্বাচন করতে হয়। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মফিজ সাহেবকে বুঝিয়েছি যে, নির্বাচন করলে তিনি বড়জোর ১৩টি ভোট পেতে পারেন। খামোখা নির্বাচন করে অপমানিত না হয়ে একত্রে থাকাই ওনার জন্য মঙ্গলজনক। উনি তা বুঝতে রাজি নন। ওনার একটাই কথা ছিল। আফজল ভাই বললেই কেবল তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন। সেটা অবশ্য ছিল বিসিক এবং চেম্বার অফ কর্মাসের পলেট্রিক্স্।যাক আফজল ভাই তাকে বলেনি, সে ও তার প্যনেল প্রত্যাহার করেনি।

একদিক দিয়ে ভালোই হয়েছে। সেবার নির্বাচন অত্যন্ত কালারফুল নির্বাচন হয়েছিল। বহুরঙ্গা প্যনেলে,গাড়ির মিছিলের আর তখনকার বড় রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া হয়েছে প্রচুর। আমি আমার দলের অনেকের সহযোগিতা না পেলেও অন্যান্যদের সহযোগিতা পেয়েছিলাম অফুরান। মনে দুঃখ ছিল এই জন্যেই যে ,দল করতে এসে সব সময়ই বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই চলতে হয়েছে। বিশেষ করে কালাম ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে।তা যাই হোক, সে বছর নির্বাচন নিয়ে সকলেই ছিল অত্যন্ত সিরিয়াস। মানসন্মানের বিষয় হিসাবেই দেখছিল সকলেই।সকলেই ধরে নিয়েছিল আফজল ভাই যেহেতু মফিজ সাহেবের পক্ষে, তখন আমাদের বিজয় ঠেকানোর অপচেষ্টা হতে পারে। টানটান একটি উত্তেজনা।কিন্তু আমাদের ভোটের হিসাব ছিল। যদি নিজেদের মধ্যে কেউ ব্ইেমানি না করে তবে ফলাফল আমাদের পক্ষেই। আর শক্তি প্রয়োগেরও সুযোগ নাই ।
কারণ জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের সকলেই আমাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই আমাদের পক্ষে। সকাল থেকেই ছাত্রলীগের ছেলেরা মটর সাইকেলে মহড়া দিচ্ছিল। পুলিশের এসবি, ডিবি সকলেই খোঁজখবর নিচ্ছিলো। কোন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন কিনা জানতে চাইছিল। ছাত্রলীগের ছেলেরা ছাড়াও আওয়ামী লীগের মুজিব ভাই, ইলিয়াস ভাই, বিএনপির সহসভাপতি ফজলু ভাই, তাদের সাবেক সাংসদ ইয়াসিন ভাইসহ অন্যান্যরা বারবার খোঁজখবর নিয়েছেন । আমার এখনো মনে পরে আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ওহাব স্যারের উৎবেগ-উৎকণ্ঠার কথা। তিনি এতটাই সিরিয়িাস হয়ে পরেছিলেন যে, সে সময় নিজে নামাজ না পড়লেও তিনি বাবুল ও আমাকে ওজু করে আসতে বললেন। তারপর ওনার মাইক্রোবাসে উঠিয়ে সোজা নিয়ে গেলেন দারোগা বাড়ির মাজারে। সেখানে স্যরসহ আমরা নামাজ পড়ি। তারপর রওয়াজায় বিশেষ প্রার্থনা করতে হয়। সেই নির্বাচনের আমাদের পূর্ণ প্যনেল বিজয়ী হয়। প্রতিপক্ষ সভাপতি প্রার্থী মফিজ সাহেব মাত্র ১২টি ভোট পেয়েছিলেন।

আমাদের মেয়াদে প্রেস ক্লাবের চেহারাটাই আমরা বদলে দিয়েছিলাম। ক্লাবের একটি ভালো সাইনবোর্ড ছিল না, সেখানে আমরা নিয়োন সাইবোড্র্,পানির ব্যবস্থা ছিল না আমি আর বাবুল পাবলিক হেল্থ অফিসে গিয়ে বুজিয়ে শুনিয়ে একটি টিউবওয়েল বসানোর ব্যবস্থা করি। এমনকি ভবনের রং আর স্থানে স্থানে প্লাস্টার উঠে গিয়ে বাজে একটি অবস্থা হয়ে গিয়েছিল । ক্লাবের পাশেই পিডাব্লিওডি অফিস। সেখানকার ইঞ্জিনিয়ারকে অনুরোধ করে সেগুলো সারাইয়ের কাজ করানো হয়।পরবর্তীতে কামাল ভাইকে (আ হ ম মুস্তফা কামাল) ধরে কনফারেন্স সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবস্থা ইত্যাদি মৌলিক কিছু কাজ আমরা সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

সেই নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মাঝে যে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিল,তা এখনো অটুট আছে। বাবুল আমেরিকা চলে গেছে, আলী হোসেন,সাংবাদিকতা ছেড়ে পিএইচডি করে বিশ্ব বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছে, তপনও সাংবাদিকতায় নেই, বাবুল একুশে টিভিতে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে, নাছির বড় ব্যবসায় যুক্ত বাকীনও আমেরিকায় স্থায়ী হতে যাচ্ছে, নুরুর রহমান আইনজীবী হিসাবে নিয়োজিত- এমনি অনেকেই অনেক স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমাদের সাথে সম্পর্কের কোনই কমতি হয়নি। প্রেস ক্লাবেরও কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে, মর্যাদা বেড়েছে কিনা বা সাংবাদিকদের সাথে সম্পক্র্ ঘনিষ্ঠ হয়েছে কিনা এখন আমি আর তা বলতে পারবো না। তবে এটুকুই বলা যে আমাদের কষ্টের ফসল, সাংবাদিকদের ঐক্যে যেন ফাটল না ধরে।
লেখক : কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি। লেখাটি তাঁর ফেস বুক থেকে নেওয়া।