বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮


কুমিল্লায় দুই ডজনের বেশি হায় হায়- যায় যায় কোম্পানি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
11.01.2018

আবু সুফিয়ান রাসেল।।


আপনি যদি সোনার হার পুকুরে হারিয়ে থাকেন, নদী বা সাগরে খুঁজে সোনার হার পাবেন না। আপনি যদি এমএলএম (মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং) এর মাধ্যমে টাকা পায়সা লস করে থাকেন, তাহলে একমাত্র এমএলএম এর মাধ্যমে সম্ভব আপনার হারানো সে সোনার হার খুঁজে পাওয়া। এমন ভঙ্গুর যুক্তি দিনে আবার সংগঠিত ডেসটিনি, নিউ ওয়ে, ইউনিপে-টুসহ এমএলএম কোম্পানির পুরাতন প্রশিক্ষিত কর্মীরা।
যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে…. হবেই হবে দেখা, দেখা হবে বিজয়ে……
সফল হওয়ার জন্য সফলতার গান শুনিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে কুমিল্লায় সক্রিয় এমএলএম বা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং। সফল হওয়ার লক্ষ্য অটুট কিন্তু রাস্তা ভিন্ন হতে পারে, এমন যুক্তি দিয়ে মাসে মাসে তৈরি হয় এমএলএম। অন্যকে সফল করানোর স্বপ্ন দেখায়। ঢাকা- চট্টগ্রামের মাঝামাঝি কুমিল্লা। যাতায়াত, যোগাযোগ অর্থনীতিসহ সার্বিক সুযোগ সুবিধা এ জেলায় থাকায় এমএলএম কোম্পানির জন্ম হয়েছে। ডেসটিনি, নিউওয়ে, ইউনিপে-টু, যুবক, র‌্যাবনেক্স, ইলিংস, এম ওয়ে, আপট্রেন ইত্যাদি এমএলএম এর নামে হায় হায় কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর ওই সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষিত কর্মীরা ভিন্ন নামে, ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন কৌশলে আবারও মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গতবছর কুমিল্লা থেকে যাত্রা শুরু করে মাই ড্রিম ই শপ এবং বাইট ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ৭-৮ মাস ব্যবসা করে, গ্রাহকে পণ্য দেয়ার আশা দিয়ে, কৌশলে নিয়ে গেছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
কুমিল্লায় প্রকাশ্য ও গোপনে কাজ করে যাচ্ছে এমন কিছু এমএলএম এর মধ্যে রয়েছে, তিয়ানশি বাংলাদেশ লিঃ, মানি লজি, মানি ব্রুস্টার, তামা ডিল, এন. এক্স, কে লিংক, ফর ইভার লিবং লিঃ, এম. এক্স, এন মডার্ন হারবাল, সেলস- বাই, ওয়ার্ড মিশন-২১, ডিজিটাল মার্কেটিং লিঃ, ডিএমএল-৭১, রিচ বিজনেস, তামা ডিল, ডি এক্স এন সহ ২, ডি-৭১, ডিএমএল, এমএক্সএন, ডবলিওএম-২১।

এমএলএম কর্মীরা বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করতে করতে এখন হাঁপিয়ে উঠেছেন। প্রতারণার নানান কৌশল আয়ত্ব করেছেন। ফিল্ড থেকে টাকা সংগ্রহ করে তারা আর অফিসে টাকা দিয়ে অন্য কোন ব্যক্তিকে বড়লোক বানাতে চান না। তাই তারা এখন এমএলএম বিধর্মী হয়ে নিজেই কোম্পানি করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন। নিজেরা এমএলএম না করে অন্যদেরকে দিয়ে এমএলএম করাচ্ছেন। কেউবা মাত্র দুই মাস কোন একটি এমএলএম কোম্পানিতে কাজ করে সামান্য কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেই খুলে ফেলেছেন একটি এমএলএম কোম্পানি। আঠারো বছর বয়স হয়নি এমন ব্যক্তিও এমএলএম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা চেয়ারম্যান! কারণ তাদের কথা, দোকান খুলে বসলে ক্রেতা আসবেই। যায় আসুক না কেন তাই লাভ। পুঁজি ছাড়া জগতে এতো বড় ব্যবসা করার সুযোগ কী আর কোথাও আছে ? তাই তারা এই সুযোগ হাত ছাড়া করতে চান না। এভাবেই বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন এমএলএম কোম্পানির জন্ম।

কথিত এমএলএম কোম্পানিগুলো মানুষ থেকে নানা কৌশলে টাকা নিয়ে যাচ্ছে।
কিছু কোম্পানি মানুষ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসা করে ২গুণ তিন গুণ লাভ দিবে এমন কথা বলে টাকা হাতিয়ে দিচ্ছে।
কিছু কোম্পানি নিম্ন মানের পণ্য উচ্চ মূল্যে বিক্রি করছে। কোম্পানির লোকদের দেশ- বিদেশ ভ্রমণ, মোবাইল, ল্যাপটপ, নগদ অর্থ প্রধান সহ নানা লোভনীয় অফার দেখিয়ে কোম্পানিতে ভর্তি করে। পরে তাকে বলা হয়, নিদির্ষ্ট সংখ্যক লোক ভর্তি করালে কমিশন দেয়া হবে। এভাবে একের পর এক লোক ভর্তি করে সাধারণ মানুষ থেকে টাকা আদায় করছে। নামে বেনামে এ সকল কোম্পানির সরকারি অনুমতি নেই। তাদের কেউ কেউ দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন রেস্তরাঁয় তারা গোপনে মিটিং করছে। কে হোসেন চাইনিজ রেস্তারাঁয় তাদের মিটিং করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন,তাদের নবম-দশম শ্রেণীতে পড়–য়া ছেলে-মেয়েদের ভুল তথ্য দিয়ে মাথা নষ্ট করা হচ্ছে। তারা লেখা পড়া ছেড়ে গোল্ডেন,ডায়মন্ড হয়ে যাচ্ছেন।
কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন,অনুমতি বিহীন কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার সুযোগ দেয়া হবে না। এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।