সোমবার ২২ জানুয়ারী ২০১৮


আখের গুড়ের গন্ধে মাতোয়ারা অরণ্যপুর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.01.2018

মাহফুজ নান্টু:

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম অরণ্যপুর। শহর থেকে পৌনে দু কিলোমিটার দূরে নিরিবিলি এ গ্রামটিতে রবি শস্যের পাশাপাশি পতিত জমিগুলোতে ব্যাপকভাবে আখের চাষ হয়। এসব আখের রস দিয়ে গুড় তৈরি হয়। বর্তমানে আখের রসে তৈরি গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা পুরো অরণ্যপুর গ্রাম। নাটোর জেলা থেকে অরণ্যপুরে এসে আখের গুড় তৈরি করছেন কারিগরদের একটি দল। গত ১০/১৫ দিন ধরে তারা আখের রস থেকে গুড় তৈরি করে বিক্রি করছেন। অরণ্যপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামে প্রবেশের মূল রাস্তার পাশের ঢালু জমিতে একজন জমি থেকে সংগ্রহ করা আখ মেশিনে দিচ্ছেন। সেখান থেকে পাত্রে জমা হওয়া রস এসে বড় চুল্লির উপর রাখা ড্রামে জমা করছেন। দ্বিতীয় জন জমি থেকে সংগৃহিত আখের ছোবড়া ও শুকনো পাতা দিয়ে জমা হওয়া রসগুলো আগুনে জাল দিচ্ছেন। আগুনের চুল্লির উপর ড্রামে রাখা রসগুলো দু-তিন ঘন্টা আগুনে জাল দেয়ার পর রসগুলো জমাট বেধে গুড়ে পরিণত হয়। অর্ধ তরল অবস্থায় রাখা রস ঠান্ডা হয়ে শক্ত হয়ে গুড়ে পরিনত হয়ে যায়।
গত শনিবার সরেজমিনে অরণ্যপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় আখের গুড় তৈরি করার কারিগর শুক্কুর আলীর সাথে। তিনি জানান, তার সাথে আরো যে দু’জন আছেন তারা হলেন শাহাদাত হোসেন ও সোহেল রানা। শুক্কুর আলীর সাথের সম্পর্কে অপর দু’জন মামা ভাগ্নে। এসেছেন নাটের থেকে। প্রতি বছরই শীতের সময় নাটোর থেকে কুমিল্লায় আসেন আখের গুড় তৈরি করার জন্য। কুমিল্লায় যে কদিন থাকেন ওই দিনগুলো বাদে বছরের বাকিটা সময় নাটোরে তারা মহিষের দুধ থেকে দই ও ক্ষির তৈরি করেন। শীতের সময় কুমিল্লায় আসেন আখের গুড় তৈরি করার জন্য। গুড় তৈরির কারিগর শুক্কুর মিয়া জানান,কুমিল্লার আখ চাষিদের সাথে তাদের চুক্তি মোতাবেক গুড় তৈরি হয়। প্রতি ড্রাম রস জাল দিয়ে গুড় তৈরি করে দিলে ৭শ টাকা দেয় আখ চাষিরা। খাবার ও থাকার ব্যবস্থা আখ চাষিদের। প্রতি ড্রাম রস জাল দিলে ১০/১৫ কেজি গুড় তৈরি হয়। মাটির হাড়িতে করে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হয় ১শ টাকায়। কারিগর শাহাদাত জানান, গুড় তৈরি করতে তারা শিমুল তুলা গাছের বাকলের রস ব্যবহার করেন। শিমুল তুলার বাকলের রস দিলে আখের রসে থাকা ময়লা পরিস্কার হয়। এটা একটা দেশীয় স্বাস্থ্য সম্মত পদ্ধতি। রস তৈরি করার জ্বালানি হিসেবে আখের ছোবড়া ও আখের শুকনো পাতা ব্যবহর করেন। এসে জ্বালানি খরচ লাগে না। সদ্য তৈরি হওয়া আখের গুড় কিনেছেন অরণ্যপুর ও পাশ্ববর্তী বিবির বাজার এলাকার দুইজন যুবক আহসান ও কবির। তারা দুজন ৩ কেজি করে মোট ৬ কেজি গুড় কিনেছেন। তার আগে সদ্য তৈরি হওয়া কুসুম গরম গুড় মুখে নিয়ে তৃপ্তিতে চোখ বন্ধ করে রাখেন। গুড় ক্রেতা ওই দুইজন যুবক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কিভাবে আখের রসে গুড় তৈরি হয় তা দেখেছি। একদম তরতাজা। স্বাদে ও মানে অন্যান্য। তাই আমরা দুজন তিন কেজি করে ৬ কেজি গুড় কিনেছি। বাড়িতে নিয়ে বাবা মা ভাইবোনদেরকে নিয়ে আখের গুড় দিয়ে পিঠা খাওয়া যাবে।
গুড় তৈরির কারিগর সোহেল রানা জানান, অরণ্যপুরসহ আশেপাশের অনেক লোকজন আখের গুড় কিনতে অগ্রিম টাকা দিয়ে যান। দৈনিক পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকার গুড় বিক্রি করতে পারি। এতে বেশ ভালো মুনাফা হয়।