বুধবার ২৩ †g ২০১৮
পরবর্তী


বিলীনের পথে পোনরা মেলা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
29.01.2018

শাহীন আলম, দেবিদ্বার।।


দেবিদ্বারের পোনরা কালীবাড়ির শতবছরের ঐতিহ্য বহন করা পৌষ সংক্রান্তি মেলা আজ ধ্বংসের পথে। বখাটে, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্মা, ছিনতাই, ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচার, প্রশাসনের গাফলতি, দুর্নীতি পরায়ণ ব্যবস্থাপনা, বিশেষ ব্যক্তিদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন, জুয়া, অশ্লিল গান-বাজনা নৃত্যসহ নানা অনিয়মে বিলীন প্রায় এ মেলাটি। এতে প্রায় ১৫/ ২০ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাতে বসেছে সরকার।
গতকাল সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাসব্যাপী এ মেলায় দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা নিজেদের মালামাল গুটিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। মেলায় ক্রেতা শূন্য প্রায়। ব্যবসায়ীরা বলছে, এ মেলায় আগে অনেক বিক্রি হতো এখন আসা-যাওয়া থাকা- খাওয়ার খরচও উঠে না। এরপর বিভিন্ন গ্রুপকে অতিরিক্ত চাঁদা দিতে হয়, না দিলে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়াসহ মারধর করে।
মেলায় ঘুরে আরও দেখা গেছে, ঐতিহ্যবহন করা পোনরার এ মেলা বসতো প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার সীমানা জুড়ে। বর্তমানে মেলাটি পোনরা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ পাশের কয়েকটি জমিতেই সীমাবদ্ধ। উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব পাশের মাঠ শূন্য। ধীরে ধীরে মেলার আকার-আকৃতিও ছোট হয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, মেলার অনুমতি নিয়ে চলে প্রশাসনিক তালবাহানা। এবার নানা কারণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক এ মেলার অনুমতি না দিলেও বৈধতার জন্য জেলা প্রশাসকের বারান্দায় ঘুরতে হয় মেলার আয়োজকদের। পরে অনুমোদন ছাড়াই গত ১৪ জানুয়ারি থেকে চলছে মেলা। চলবে কয়েক মাসব্যাপী।
আরও অভিযোগ রয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে পোনরা মেলার পাশে ধামতি গ্রামে বিজয় মেলার নামে মাসব্যাপী চলেছে বাণিজ্য মেলা, যার প্রভাব পড়েছে পোনারার এ মেলায়। পাশাপাশি দুটি মেলায় হওয়ায় ক্রেতা হারাচ্ছে আগ্রহ। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও দোকানপাট বসাতে অনীহা প্রকাশ করছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে মেলা পরিচালিত হলে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় পেত। এখন উলটো রাজস্ব হারাচ্ছে। এ মেলার ঐতিহ্য পুনরায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকেই উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি আয়োজকদেরও আরও নমনীয় হয়ে সকল অনিয়ম, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, সকল অনিয়ম বন্ধ করে এ মেলার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদেরকেই। পাশাপাশি স্থানীয়রা সহযোগিতা করলে এ মেলাকে পুনরায় উজ্জীবিত করতে উদ্যোগ নিবে উপজেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, এ মেলা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় মেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বড় বড় ট্রাকে করে বিভিন্ন ধরনের কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে আসা হতো। ছোট ছোট ছাউনি ও তাবু বানিয়ে মাসব্যাপী থাকতো কাঠ ব্যবসায়ীরা। শুধু এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল নয় সুদুর ইরান, পাকিস্তান, পাশ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও অসংখ্য ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীর ভিড় জমতো। এছাড়াও খেলনা, মিষ্টি ও কুটির,তাঁত, কামার ও কুমার শিল্পের বিভিন্ন সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে। সার্কাস, চরকি ও নাগরদোলা ছিলো মেলার অন্যতম আকর্ষণ।