বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮


সদর দক্ষিণে সংগঠিত আ’লীগ-বিপর্যস্ত বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে চায় জামায়াত


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.02.2018


শাহ ফয়সাল কারীম, সদর দক্ষিণ ।। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিন উপজেলা গঠিত। এই উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত কমিটি থাকলেও বিপরীত চিত্র রয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যে। বিএনপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোবাশ্বের আলম ভুইয়া গ্রুপের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক অভ্যন্তরীন কোন্দল। যদিও বর্তমানে উপজেলা বিএনপির যে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে তা মোবাশ্বের আলম ভুইয়া গ্রুপের নিয়ন্ত্রাধীন। দুই গ্রুপের কেউই উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে পুরাপুরি সক্রিয় না থাকলেও মামলা এবং হামলার শিকার হচেছন মোবাশ্বের আলম ভুইয়া গ্রুপের নেতৃত্বাধীন সিদ্দিক-মাহবুব কমিটির নেতাকর্মীরা। অপর দিকে, জামায়াত এখানে গোপনে গোপনে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করলেও এরশাদের জাতীয় পার্টি রয়েছে এখানে অস্তিত্ব সংকটে।
আওয়ামীলীগ :
২০১৬ সালের শেষ দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় আবদুল মালেক বি.কমকে সভাপতি ও প্রয়াত আবু তাহের মজুমদারকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়। গেল বছর আবু তাহের মজুমদার মারা গেলে যুগ্ম সম্পাদক মাসুম হামিদকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এই উপজেলাটি পরিকল্পনা মন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আহম মোস্তাফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এখানে স্বাভাবিক ভাবেই আওয়ামীলীগে কোন গ্রুপিং নেই। দল এখানে অত্যান্ত শক্তিশালী। মন্ত্রীর ভাই গোলাম সারওয়ার জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও সদর দক্ষিন উপজেলার চেয়ারম্যান। উপজেলা আওয়ামলীগ থেকে শুরু করে যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের প্রতিটি অঙ্গসংগঠন মন্ত্রী লোটাস কামালের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে উপজেলা সকল স্থরেই রয়েছে কমিটি। কেন্দ্রীয় যে কোন কর্মসূচীই তারা পালন করে সফলতার সাথে।
সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল মালেক বি.কম বলেন, আমাদের উপজেলায় আওয়ামীলীগের কোন দ্ধন্ধ সংঘাত নেই, নেই কোন অভ্যন্তরীন কোন্দল। আমরা দলকে শক্তিশালী করে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করছি।
বিএনপি : আজ থেকে ৯ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে সময় হাজী সিদ্দিকুর রহমানকে সভাপতি ও মাহাবুব চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩ বছর মেয়াদী এ কমিটি করা হলেও ইতিমধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়া এই কমিটি চলছে ৮ বছর ধরে। সরকারী দল ও প্রশাসনের নানামুখী হামলা মামলা ও হয়রানীর কারণে এমনিতেই দলীয় নেতাকর্মীরা বিপর্যস্ত তার উপর রয়েছে অভ্যন্তরীন তীব্র কোন্দল। উপজেলা বিএনপি নেতাদের দাবী, মনিরুল হক চৌধুরী চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হয়েও এলাকায় তিনি কিংবা তার গ্রুপের লোকেরা কোন আন্দোলন সংগ্রাম তো করেই না বরং ঐক্য সংহতি নাম দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করে আসছে। এ অভিযোগ অস্বিকার করে মনির চৌধুরীর অনুসারী শাহ আলম মজুমদার জানান, দলের পদ পদবীধারী নেতারা দলে দৃশ্যমান কোন আন্দোলন সংগ্রামে নেই।
জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে সদর দক্ষিন উপজেলা ছিল কুমিল্লা-৭ বরুড়া নির্বাচনী এলাকার সাথে সম্পৃক্ত। তখন এই উপজেলার নেতা ছিল সাবেক এমপি ও বিএনপির জেলা সহ সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন। কিন্তু ২০১৪ সালে এসে এই উপজেলাটি চলে যায়, কুমিল্লা ১০ নাঙ্গলকোট নির্বাচনী এলাকার সাথে। তখন এই সদর দক্ষিণ উপজেলার নেতা হন ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভুইয়া। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এখানে বিএনপি সংগঠিত না হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ। কারণ, তাদের এমপি প্রার্থী একেক সময় একেক জন আসে বলে অভিমত তাদের।
সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব চৌধুরী বলেন, বর্তমানে আমার নামে ৫টি ও সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমানের তিনটিসহ আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীদের নামে শত শত মামলা রয়েছে। আমিসহ অসংখ্য কর্মী হুলিয়া মাথায় নিয়ে ঘুরছি। তারপরেও রিস্ক নিয়ে সব সময়ই চেষ্টা করি মাঠে থাকার। দলকে সংগঠিত করার। কিন্তু মনিরুল হক চৌধুরী আমাদের নেত্রীর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কোন আন্দোলন সংগ্রামে নেই। এমনকি নেত্রী জেলে যাওয়ার পরেও তার লোকেরা পর্যন্ত কোন আন্দোলনে নেই। তাদের বিরুদ্ধে কোন মামলাও নেই। আমাদের অসংখ্য কর্মী আজ ঘরে থাকতে পারছে না। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। অথচ, উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি মনির চৌধুরীর গ্রুপে থাকলেও এরা এখন আন্দোলনে দৃশ্যমান নেই।
সদর দক্ষিণ উপজেলার বিএনপির সভাপতি হাজী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন আমরা সবসময় দলের কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পালন করছি, তবে সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন , তিনি সপ্তাহ সপ্তাহ বাড়ীতে এসে কিছু সংখ্যক নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে বৈঠক করেন। বিভিন্ন সময় দলের কর্মসূচী হিসেবে ঐক্য সংহতির ব্যানারে প্রোগ্রাম করেন, দলের কোন কাজ করেন না।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত গ্রুপের নেতা শাহআলম মজুমদার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করে তিনি বলেন, সদর দক্ষিনে আমরা মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সকল কর্মসূচী পালন করে আসছি।

জাতীয় পার্টি :
কুমিল্লার অধিকাংশ উপজেলা গুলোর মতো সদর দক্ষিণ উপজেলাতেও এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি অস্তিত্ব সংকটে আছে।নামকাওয়াস্তে উপজেলা কমিটির কয়েকটি পদ থাকলেও তাও দৃশ্যমান নয়। নেই কোন কার্যক্রম কিংবা সাংগঠনিক তৎপরতা। তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ উপজেলা জাপার সভাপতি সভাপতি সৈয়দ আবদুর রাজ্জাক বাদল । তিনি বলেন , আমাদের সদর দক্ষিণে জাতীয়পার্টির কোন গ্রুপিং হয় নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না বলে আশা করছি। তবে দলের জাতীয় যে কোন প্রোগ্রাম আমরা সফলতার সাথে পালন করি। সবসময় দলের নিয়মনীতি মেনে চলে আমরা কার্যক্রম চালাই। সদর দক্ষিণ উপজেলায় প্রত্যেকটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টি উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে কর্মীদের নিয়ে দলের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি
জামায়াত ইসলামী :
দেশের রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে আওয়ামীলীগ-বিএনপির পরেই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়ত ইসলামী। প্রশাসনের কঠোর নজরধারী ও ক্ষমতাসীন দলের হামলা মামলার ভয়ে তারা প্রকাশ্যে কোন কর্মকান্ড করতে না পারলেও গোপন বৈঠকের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত চলছে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ প্রসঙ্গে সদর দক্ষিণ উপজেলা জামাতের আমীর হোসাইন বলেন পূর্ব থেকে জামাতের সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক কর্যক্রম চলছে, তবে বর্তমান সদর দক্ষিণে আগের চেয়েও বিভিন্ন কৌশলে সাংগঠনিক কার্যক্রম ভালভাবে চালিয়ে যাচ্ছি, তবে প্রশাসনিক বাঁধাগ্রস্থের কারণে আগের তুলনায় অনেক কম সময় নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক চালাচ্ছি। সদর দক্ষিণ উপজেলায় জামাতের পূর্বে কোন গ্রুপিং ছিল না এবং বর্তমানেও কোন গ্রুপিং নেই।