সোমবার ২৪ †m‡Þ¤^i ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » নীরবে জ্বলছে আওয়ামী লীগ, গ্রুপিং-দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে বিএনপি


নীরবে জ্বলছে আওয়ামী লীগ, গ্রুপিং-দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে বিএনপি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
23.02.2018

আবদুর রহমান ও মাসুদ আলম।।
কোন্দল আর দ্বন্দ্বের আগুনে নিরবে জ্বলছে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। সাংগঠনিক অবস্থা খুব একটা ভালো নেই ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোতেও। উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রকাশ্যে তেমন হানাহানি না থাকলেও অন্তরালে সব কিছুই চলছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পরিবারভিত্তিক রাজনীতি এবং স্বজন প্রীতির কারণে মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে এক ধরণের নিরব দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও বিরোধীতা চলছে বেশ জোরেশোরেই। সাধারণ কর্মীদের মতে, সুবিধাভোগীদের দাপটে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন মাঠ ছাড়া। এসব দ্বন্দ্ব ও বিরোধের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মনোহরগঞ্জে বেশ বেকায়দায় পড়তে হবে বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূল কর্মীরা।
অপরদিকে, এক সময়ে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে জড়িয়েছে মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। দলে বিএনপি নেতা কর্ণেল (অবঃ) এম. আনোয়ারুল আজিম ও আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালামের অবস্থান ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে এখানে বিএনপি রাজনীতি এখন জিমিয়ে পড়েছে। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মামলা-হামলায় র্জজরিত মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। এ উপজেলায় কোন কোন বিএনপির নেতাকর্মীর নামে ২০/২৫টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তবে এখনও মনোহরগঞ্জে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম। কর্নেল (অব:) এম আনোয়ারুল আজিমের বাড়িও এই উপজেলাতে। দলের কোন্দল ও নেতাকর্মীদের উপর মামলার জটে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাজা ঘোষণা করা হলেও এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কোন কর্মসূচীতে মাঠে দেখা যায়নি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের। দ্বন্দ্ব ও কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করা গেলে আবারও যৌবন ফিরে পেতে খুব একটা কষ্টকর হবে না দলটির-মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, মনোহরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচী চালাতে দেখা যায় না। তবে নিরবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। দলটি বেশিরভাগ কার্যক্রমই বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে অত্যান্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। তবে জামায়াত বা শিবিরের মধ্যে কোন গ্রুপিং বা নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব নেই।
আওয়ামী লীগ ঃ
নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, পারিবারভিত্তিক রাজনীতি এবং স্বজন প্রীতির কারণে মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে এক ধরণের নিরব দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও বিরোধে বেড়েই চলেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজননীতিবিদের দাবি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে ত্যাগী ও তৃণমুলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় যতো দ্বন্দ্ব ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। যার একমাত্র কারণ স্থানীয় সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের ঘোষিত মনগড়া কমিটি। অভিযোগ উঠেছে, এমপি’র পারিবারভিত্তিক ও স্বজন প্রীতির রাজনীতি এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিমান আগামী নির্বাচনে টানাপোড়েনে পড়তে পারে দলটি। মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং। দলের কোন্দলের কারনে গেল উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির কাছে দলটিকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রতিটি কমিটি এমপি তাজুল ইসলামের অনুসারীদের নিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে ত্যাগী কর্মীরা পদবঞ্চিত হচ্ছেন। তবে হামলা নির্যাতনের ভয়ে দলের তৃণমূল ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। ওই উপজেলার কয়েকজন ত্যাগী আওয়ামী লীগ কর্মী জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিতে এমপির স্বজনপ্রীতি ও প্রবীণ ও নবীন ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হওয়ায় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে মনোহরগঞ্জে।
মনোহরগঞ্জের মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অহিদুর রহমান জয় বলেন, মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগীদের মূল্যায়ন করেননি। তিনি করেছেন স্বজনপ্রীতি ও কমিটির বিক্রয়ের ব্যবসা। ইউনিয়ন ছাত্রলীগ এবং যুবলীগকে নেতৃত্ব দেয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা। তাহলে উপজেলা আওয়ামী লীগ কই? নেতৃত্বে থাকা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মধ্যে অধিকাংশটি বিএনপি জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগের আসা। মামলা থেকে বাঁচতে তারা এখন আওয়ামী লীগ। আর শুধু দল নয়, পুরো মনোহরগঞ্জের নিয়ন্ত্রক হলো এমপির ভাতিজা আমিরুল ইসলাম, মামাতো ভাই আবদুল কাইয়ুম চৌধুরিসহ এমপি পরিবারের লোকেরা । এক কথায় বলতে গেলে মনোহরগঞ্জে আওয়ামী লীগকে ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন এমপি ও তাঁর পরিবারের লোকেরা। আর আওয়ামী লীগের পদ পায় বিএনপি-জামায়াতের চিহিৃত লোকেরা।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভূঁইয়া দীর্ঘ এক যুগ দলের জন্য কাজ করে গেছেন। কিন্তু এমপির এসব কর্মকান্ড নিয়ে মুখ খোলায় এখন তিনি কোনঠাসা। আবুল কাশেম ভূঁইয়া দলের বর্তমান অবস্থা দেখে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এছাড়া সারা জীবন দলের জন্য কাজ করে গেছি। জীবনের শেষ সময়ে এসে অসম্মান আর অবহেলাই পেতে হয়েছে এমপি সাহেবের কাছ থেকে। রাজাকারপুত্র আবদুল কাইয়ুম চৌধুরিকে দলের সভাপতি করা হয়েছে। কাইয়ুম এমপি তাজুল ইসলামের মামাতো ভাই। সে সব সময় বিএনপির রাজনীতিতে ছিল।
৫৫ বছর ধরে রাজনীতি করা প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যত এখন অন্ধকার। নতুন ও যোগ্য নেতৃত্ব না আসলে অন্ধকারে তলিয়ে যাবে আওয়ামী লীগ। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অথচ আমাকে জিজ্ঞাস না করে কমিটি করেন এমপি সাহেব। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়ন শান্তি কমিটির সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফুলপুকুরিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান। তার ছেলে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরিকে দলীয় গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঘোষণা দিয়েছেন এবং কৃষক হত্যা মামলার আসামী জাকির হোসেনকে করেছেন সাধারণ সম্পাদক। যার কারণে আজ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ নেই মনোহরগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সব জায়গায় শুধু খাই খাই লীগ, আর ত্যাগীরা পড়ে রয়েছেন অবহেলায়।
তবে এসব কথা মানতে রাজি নন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আবুল কালাম আজাদ। তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের উপজেলা থেকে গ্রাম পর্যন্ত সকল নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্য মো.তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ঐক্যবব্ধ। আমাদের দল আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত। ইনশাল্লাহ আমাদের সকল নেতাকর্মীরা এক সঙ্গে কাজ করে আগামী সংসদ নির্বাচনেও মো.তাজুল ইসলামকে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবে।
আর উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক দেওয়ান মো.জসিম উদ্দিন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশের ন্যায় লাকসাম-মনোহরগঞ্জেও উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করেছেন সংসদ সদস্য মো.তাজুল ইসলাম। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে মনোহরগঞ্জে দলীয় সকল কার্যক্রম পালিত হচ্ছে। আমাদের মাঝে কোন দ্বন্ধ বা গ্রুপিংয়ের কথা যদি কেউ বলে থাকে সেটা অবশ্যই ভুল।
বিএনপি ঃ
মনোহরগঞ্জে বিএনপির মূলধারা এখনও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি কর্ণেল (অবঃ) এম.আনোয়ারুল আজিমের হাতেই। তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ওরফে চৈতি কালাম মনোহরগঞ্জে নিজের অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েক মাস আগে তার অনুসারীদের দিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটির অনুমোদন কয়িয়েছেন তিনি। তবে বিএনপির মূলধারার নিয়ন্ত্রন আজিমের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে থাকা আগের কমিটিগুলো বাতিল বা বিলুপ্ত না করায় তারা নিজেদের নেতা দাবি করছেন। এতে বলা যায়, দুই নেতার দুই কমিটিতে চলছে মনোহরগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন ত্যাগী নেতাকর্মী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনোয়ারুল আজিম ও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা যেখানে মাঠ গোছাচ্ছেন সেখানে চৈতি কালাম ও তার অনুসারীরা পদ-পদবী নিয়ে লবিংয়ে ব্যস্ত। মনোহরগঞ্জের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী দিতে হলে আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প নেই। এলাকায় দলমত নির্বিশেষে বেশ সুনামও রয়েছে তাঁর।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি (আজিমের অনুসারী) এস এম মনসুর বলেন, বিএনপিতে কালামের দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মাত্র ৪৫৮ ভোটে হারতে হয় আজিম ভাইকে। যার কারণে গত ৯ বছর ধরে বিএনপি কঠিন সময় পার করছে। চৈতি কালামের বিতর্কিত কমিটি কারণে বর্তমানে মনোহরগঞ্জ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দল চলছে। অতীতের মতো নিজেদের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে সুযোগ করে দেয়ার মতো ভুল করা যাবে না। সেই ক্ষেত্রে বিএনপিকে এই আসনটি ফিরে পেতে হলে সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমকেই বেঁচে নিতে হবে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি (আজিমের অনুসারী) মো.ইলিয়াছ পাটোয়ারী বলেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপিতে কর্ণেল (অবঃ) এম.আনোয়ারুল আজিমের বিকল্প কোন নেতা নেই। আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ কর্ণেল আজিমকে তাঁদের মনে ঠাঁই দিয়েছেন। আজিম ভাইয়ের নেতৃত্বেই সকল দলীয় কর্মসূচী পালন হচ্ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজিম ভাই ছাড়া অন্য কাউকে এই আসনে চিন্তা করলে বিএনপিকে একটি নিশ্চিত আসন হারাতে হবে। আর আমি এখনও উপজেলা বিএনপির সভাপতি। কারন জেলা কমিটি এখনো আমার কমিটি বিলুপ্ত করেনি বা আমাদের কমিটির মেয়াদও শেষ হয়নি।
তবে আজিমের অনুসারীদের এসব কথার বিপরীতে ভিন্ন কথা বলছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (আবুল কালামের অনুসারী) সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যাকেই মনোনয়ন দেবেন আমাদের নেতা তিনিই হবেন। তবে দলের হাইকমান্ড সবুজ সংকেত দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.আবুল কালামকে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে কাজ করতে বলেছেন। কালাম ভাইয়ের নেতৃত্বে কয়েক মাস আগে দুই উপজেলায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল ইউনিটের কমিটি হয়েছে। এখন তাঁদের নেতৃত্বেই দলীয় সকল কর্মসূচী পালন হচ্ছে। আর মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। অন্য কেউ যদি নিজেকে সভাপতি দাবি করে সেটা সম্পূর্ণ ভুল।
জামায়াত ও অন্যান্য ঃ
প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক চাপ, হামলা, মামলা এবং পুলিশি বাধায় মনোহরগঞ্জে জামায়াত বেশ কৌশলীভাবে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন বৈঠক করে দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তবে তাদের রাজনীতিতে কোন গ্রুপিং বা দ্বন্দ্বের খবর আলোচনায় নেই। বলা যায় নিরবে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি। বিভিন্ন মহল থেকে জানা যায়, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বিএনপিতে ভাগ বসাতে সাবেক সচিব সোলায়মান চৌধুরী বেশ জোরেশোরে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি মনোহরগঞ্জে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে গণসংযোগও করেছেন।
এদিকে, মনোহরগঞ্জে অস্তিত্ব সংকটে আছে বর্তমান সরকারের শরীক দল জাতীয় পার্টি। বিরোধী দলের ভূমিকায় সংসদে থাকলেও এখানে তাদের কোন অস্থিত্বই খুঁজে পাওয়া যায় না।