মঙ্গল্বার ২৫ †m‡Þ¤^i ২০১৮


দাউদকান্দিতে আ.লীগে অন্ত:দ্বন্দ্ব- দৌঁড়ের ওপর বিএনপি সরব জাতীয় পার্টি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.02.2018

ওমর ফারুক মিয়াজী,তিতাস।। দাউদকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগ রয়েছে নিজেদের মধ্যে অন্তঃর্দ্বন্দ্বে। হামলা-মামলা খেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা আছে দৌড়ের ওপর। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি আছে সরব অবস্থানে। এদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নেই বললেই চলে।
আওয়ামী লীগ:
দাউদকান্দি উপজেলা দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের সম্মেলন হয়। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে এমপি সুবিদ আলী ভুইয়া গ্রুপ ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক বাদল রায়ের একটি গ্রুপে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সম্মেলনের পর আবদুল আওয়াল সরকার একক স্বাক্ষরে সভাপতি আহসান হাবিব ও আবদুস সালামকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন। পরে বাদল রায়ের নেতৃত্বে আহসান হাবিব সভাপতি ও মহিউদ্দিন সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে আরেকটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার স্বাক্ষরিত পুনরায় কমিটি ঘোষণা করায় পরের কমিটি এলাকায় আসতে পারেনি। তাদের কার্যকলাপ ঢাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। প্রথম কমিটি দিয়ে বর্তমান এমপি মেজর জেনারেল অবঃ সুবিদ আলী ভুইয়ার নেতৃত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান হাবিব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালামের নেতৃত্বে তৃণমূল আওয়ামী লীগ কাজ করছে। অপরদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদল রায়ের আশীর্বাদপুষ্ট কমিটি ঢাকায় বসে কলকাঠি নাড়ছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের মধ্যে যে গ্রুপিং রয়েছে আগামী নির্বাচনে তা আওয়ামী লীগের পরাজয়ের জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে।
প্রথম কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সালাম বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার স্বাক্ষরিত যে কমিটি আমাদেরকে দিয়েছে, পার্টির গঠনতন্ত্র অনুসারে আমাদের কমিটিই বৈধ কমিটি। অপরদিকে অপর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
বিএনপি:
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে এক থাকলেও বর্তমানে তাদের কার্যকলাপ দৃশ্যমান নয়। মামলা হামলায় দলের নেতাকর্মীরা বিপর্যস্ত হয়ে আছে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ অঙ্গসংঠনের নেতৃবৃেন্দর অধিকাংশই হামলা-মামলার শিকার হয়ে দৌঁড়ের ওপর রয়েছে। তারা ঠিকমত এলাকাতেও আসতে পারে না। গত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হলেও সরকারী দলের প্রভাবের কারণে নির্বাচনী এলাকায় তারা দাঁড়াতেই পারেনি ঠিকমত। তাছাড়া তৃণমূল নেতাদের সাথে রয়েছে উপজেলার নেতাদেরও সাংগঠনিক দূরুত্ব।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. সামছুল আলম বলেন, অবৈধ সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে দৌঁড়ের মধ্যে রেখেছে। তারপরও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। যদি নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে আমাদের দল অবশ্যই ক্ষমতায় আসবে।
জাতীয় পার্টি:
দাউদকান্দি উপজেলার জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা-২(তিতাস-হোমনা) আসন থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন সরকারের নেতৃত্ব দল সরব রয়েছে। বিএরপির পরই উপজেলায় জাতীয় পার্টি শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এ উপজেলা এক নেতার নির্দেশে চলায় সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। এক সময় জাতীয় পার্টি শুধু উপজেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন সরকারের নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটিসহ এর অঙ্গ সমূহের কমিটি করে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে। আবার জাতীয় পার্টি থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য অনেকে আবার জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে আগের চেয়ে জাতীয় পার্টি অনেক শক্তিশালী। এব্যাপারে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আবু জায়েদ আল মাহমুদ মাখন বলেন, কুমিল্লা জেলার মধ্যে এক সাথে দুটি কলেজ ও একটি হাইস্কুল জাতীয়করণ করায় দাউদকান্দিবাসী যুগযুগ ধরে কৃতজ্ঞ থাকবে। এখানে পল্লীবন্ধু এরশাদকে মানুষ যেভাবে গ্রহণ করেছে মূলত তার কারণেই দাউদকান্দিতে জাতীয় পার্টির অবস্থান অনেক ভাল।
জামায়াত:
দাউদকান্দিতে জামায়াতে ইসলামের অবস্থান ভালো ছিল। তবে যুদ্ধাপরাধীদের রায় দেয়ার পর থেকে তারা গা ঢাকা দিয়ে আছে। বর্তমানে তাদেরকে এলাকায় দেখা যায় না।