শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ »sub lead 1 » কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বদলী নিয়ে ফেসবুকে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ক্ষোভে মিশ্র প্রতিক্রিয়া


কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বদলী নিয়ে ফেসবুকে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ক্ষোভে মিশ্র প্রতিক্রিয়া


আমাদের কুমিল্লা .কম :
26.02.2018

স্টাফ রিপোর্টার: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বদলীর খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করার বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাসহ সাধারণ জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন চাকরি চলমান অবস্থায় এমন ক্ষোভ প্রকাশ সরকারি আদেশের পরিপন্থী। কিভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা সরকারি আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ফিরে বছরের পর বছর থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে নানা কারণে তাদের বদলির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার দুটি আদেশে ৩০ জন বিসিএস কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখা-২ এর সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমা তুল জান্নাত স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।
বদলির আদেশের ২২ নম্বর ক্রমিকে থাকা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে প্রেষণে কর্মরত ও বহুল আলোচিত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদকে (৩৫৪৫) সহযোগী অধ্যাপক (দর্শন) হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর সরকারি কলেজে এবং ১৮ ক্রমিকে থাকা একই বোর্ডে প্রেষণে কর্মরত বিদ্যালয় পরিদর্শক ইলিয়াস উদ্দিন আহম্মদকে (২৮৫৭) সহযোগী অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা) হিসেবে নওগাঁ সরকারি কলেজে বদলি করা হয়। বদলির এই আদেশ ই-মেইলে কুমিল্লা বোর্ডে পৌঁছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা কায়সার আহমেদ নিজেই মুঠোফোনে তার বদলীর বিষয়টি স্বীকার করেন।

তবে সরকারি এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম গত শুক্রবার বেলা ১১:১৮ মি: তার ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জনাব কায়সার আহমদ এর বদলি(আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি)– স্যার কুমিল্লা বোর্ড এ যোগদান করে যেসকল কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন— –১.বোর্ডকে দালাল মুক্ত করেছেন। ২. পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর কেন্দ্রিক বহুমুখী দুর্নীতি ভেঙে দিয়েছেন, ৩.অন্যায় ও অবৈধ তদবির /চাপের কাছে কখনও আপোষ করেননি, ৪.গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে পরীক্ষা ব্যবস্তাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন, ৫.প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষক নিয়োগ ডিজিটাল ও ১০০% দুর্নীতিমুক্ত করেছেন,৬.প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকগণের পারিশ্রমিক এক দেড় বছর পরে দেওয়ার রীতি পরিবর্তন করে ফলাফল প্রকাশের ২ মাসের মধ্যে অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করা নিশ্চিত করেছেন, ৭.উত্তরপত্র বস্তার পরিবর্তে কুমিল্লা বোর্ডের মনোগ্রাম যুক্ত চটের ব্যাগের মাধ্যমে বিতরণ করা। ৮.পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চেয়ারকে তিনি পুতুল চেয়ার হতে দেননি। এসব নানাবিধ সংস্কার কাজে অকুন্ঠ সমর্থন দিতে গিয়ে তাঁকে বোর্ডের ভিতর ও বাইরের বহু সুবিধাবাদী এবং অনৈতিক চক্রের চক্রান্ত মোকাবেলা করতে হয়েছে। আপনি অনেকদিন এই পদে সততা ও যোগ্যতার সাথে কর্মরত ছিলেন (এটাই অপরাধ), তাই বদলির জন্য উদগ্রীব ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে অনেকের সাথে আপনাকেও বদলি করায় আপনার সততা,অনৈতিক চাপকে মোকাবেলা করার দৃঢ়তা, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডকে গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়ার পুরস্কার বিজ্ঞ অঁঃযড়ৎরঃু এভাবে না দিলে আমরা জুনিয়ররা ভাল কাজে আরও উৎসাহিত হতাম। আপনার অধীনে দুই বছর উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক(মাধ্যমিক) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সঠিক,নৈতিক ও ভাল সকল কাজে আপনার আন্তরিক সমথর্ন ও উৎসাহ আমাকে ভবিষ্যৎ পথচলায় সাহস যোগাবে। দোআ করবেন কোনো অনৈতিকগ চাপ/পদ হারানোর আশংকা আমাকে যেন সঠিক দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত না করে। আপনার বদলির পর এই পদে যিনি আসবেন তাঁর নেতৃত্বে যেন কুমিল্লা বোর্ডের যে সঠিক পথ চলা তা আরও দুর্বার হয়। আপনি ভাল থাকুন,সেই সাথে ভাল থাকুক গুটিকয় ষড়যন্ত্রকারী।
স্ট্যাটাসটি দেয়ার পরে রবিবার পর্যন্ত ৫০ জনের মত মন্তব্য করেছে,শেয়ার করেছেন ২১জন। এদিকে ডেপুটি কর্মকর্তা ফেইসবুকে এমন স্ট্যাটাস দেয়া নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়। এছাড়াও একজন সরকারি কর্মকর্তা চাকুরিকালীন সময়ে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোড অব কন্ডাক্ট অমান্য করার শামিল। কোনভাবেই একজন সরকারি কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে এমন মন্তব্য করতে পারেন না।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরী বলেন, সরকারি আদেশের বিপক্ষে কোনভাবেই একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে পারেন না। সরকারি রুল অমান্য করা কোনভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, আমিও দেখেছি উনি (ডেপুটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) তার ফেইসবুক একাউন্ট থেকে একটি মন্তব্য করেছেন। সরকারি আদেশের বিষয়ে যদি কারো কোনরুপ অনুভূতি প্রকাশ করতে হয় তাহলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে করা শোভনীয় নয়। কারণ সরকারি আদেশের প্রতি সম্মান জানানো একজন সরকারি চাকুরীজীবীর জন্য শোভনীয়।
সরকারী আদেশের বিরুদ্ধাচরণ আইনত দন্ডনীয় উল্লেখ করে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:জাহাংগীর আলম বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি আদেশের বিষয়ে গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ্য মাধ্যমে কোনরুপ মন্তব্য করতে পারেন না। সরকারি আদেশের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে কোন মন্তব্য করা মানে সরকারি আদেশের বিরুদ্ধে অসদাচরণ করার শামিল।

সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন কোন মন্তব্য করতে পারেন কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বুঝবেন বলে তিনি ফোন কেটে দেন।