রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » লালমাইয়ে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী, গ্রুপিংয়ে কোণঠাসা বিএনপি


লালমাইয়ে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী, গ্রুপিংয়ে কোণঠাসা বিএনপি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
27.02.2018

শাহফয়সাল কারীম, সদর দক্ষিণ।।
কুমিল্লার ১৭তম উপজেলা হলো লালমাই উপজেলা। ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা গঠিত। উপজেলা হিসেবে এখনো পরিপূর্ন ভাবে কাজ শুরু না করলেও আস্তে আস্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে কর্মযজ্ঞে পা দেওয়া শুরু করেছে উপজেলাটি। রাজনৈতিক ভাবে এখনও এই উপজেলাটি চলছে পূর্বের সদর দক্ষিণ উপজেলার কমিটি দিয়ে। এখনো কোন রাজনৈতিক দলেরই এখানে উপজেলা ভিত্তিক কোন কমিটি গঠন না হলেও সম্ভাব্য পদ পদবী প্রত্যাশিত প্রার্থীরা বসে নেই নব গঠিত এই উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা নেতা হওয়ার জন্য। আওয়ামীলীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে এখনো খুব একটা হৈ চৈ না থাকলেও লবিং, গ্রুপিং এ ব্যস্ত হয়ে পড়ছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।অন্যদিকে, এখানে জামায়াতের কিছু নিরব সমর্থক থাকলেও জাতীয়পার্টির নেই কোন অস্থিত্ব।
আওয়ামীলীগ :
আওয়ামীলীগ এখানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। একদিকে দল ক্ষমতায় অপর দিকে, তাদের নেতা পরিকল্পনা মন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি লোটাস কামাল এই উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা। সুতরাং এখানে দলে নেই কোন নূন্যতম কোন্দল গ্রুপিং। মন্ত্রী লোটাস কামালই এখানে সর্বশেষ কথা।
আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এখানে সভাপতি পদে অন্যতম দাবীদার সদর দক্ষিণ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল মালেক বিকম। তার সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করার মত কোন নেতা এখানে নেই বলে জানা গেছে। সাধারণ সম্পাদকও একই রকম অবস্থায় আছে। আওয়ামীলীগ নেতা মমিন মজুমদার এখানে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছে।
বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. আবুল কাসেম বলেন, লালমাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে হবেন তা একমাত্র আমাদের নেতা মন্ত্রী মহোদয়ই ভাল জানেন। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে এখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মতো উপযুক্ত ব্যক্তি হচেছন মালেক ভাই ও মমিন ভাই।

বিএনপি :
নব গঠিত এই লালমাই উপজেলা এখনো সদর দক্ষিণ উপজেলার কমিটি দিয়ে চললেও এই উপজেলার রাজনৈতিক নেতারা উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছেন লবিং, গ্রুপিং ও তদবির। যদিও সদর দক্ষিনের মত এখানেও রয়েছে
বিএনপির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি মোবাশে^র আলম ভূঁইয়া এই দুই গ্রুপে বিভক্ত। এখানে মনিরুল হক চৌধুরীর গ্রুপরা দৃশ্যমান রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও কিছুটা সক্রিয় রয়েছে মোবাশ্বের আলম ভুইয়া গ্রুপ। যদিও এখানে এখনও প্রকাশ্যে উপজেলা ভিত্ত্বিক এখনো রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে পারেনি বিএনপির কোন গ্রুপেরই কেউ।
নবগঠিত লালমাই উপজেলায় সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছেন,সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য হোসেন মোহাম্মদ ইকবাল মজুমদার দুলাল। তিনি দৃশ্যমান আপাতত কোন গ্রুপেরই সাথে জড়িত না থাকলেও একজন ভাল সংগঠক হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। এ ছাড়াও সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থীরা হলেন, মোবাশ্বের গ্রুপের সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারউল্লাহ বিএসসি, মাওলানা জাকির হোসেন এবং মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপের সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হচেছন আমান উল্লাহ আমান।
আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন সদর দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের ছাত্রদলের সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন।দীর্ঘ দিন ধরে ছাত্র রাজনীতি করাতে এলাকায় তার একটা নিজস্ব বলয় তৈরী হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি আবার মোবাশ্বেও গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করেন। সাধারণ সম্পাদক দৌঁড়ে আরো রয়েছেন,মনির চৌধুরী গ্রুপের ভুলইন উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক সুমন ও রকেট মজুমদার।
মোবাশে^র আলম ভূঁইয়া গ্রুপের আনোয়ার উল্লাহ বিএসসি ও ছাত্রদল নেতা শাহআলম বলেন, “ অসংখ্য নেতা- কর্মীর নামে শত শত মামলা রয়েছে। আমিসহ অসংখ্য কর্মী অনেক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘুরছি। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে সব সময় মাঠে থাকার চেষ্টা করি। মনিরুল হক চৌধুরী গ্রুপের লোকেরা কোন আন্দোলনে নেই, বিভিন্ন সময় ঐক্যসংহতির ব্যানারে প্রোগ্রাম করেন, দলের কোন কাজ করেন না।
এ দিকে, সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সমন্বয়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, অসংখ্য মিথ্য ও বানোয়াট মামলা মাথায় নিয়ে এখনো মাঠে আছি। লালমাই উপজেলার প্রতিটি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই রয়েছে একাধিক মামলা। তারপরও মাঠ ছেড়ে যাইনি।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মনিরুল চৌধুরী সমর্থিত গ্রুপের নেতা আমান উল্লাহ বলেন, তাদের যে অভিযোগ, তা সঠিক নয়। তাদের এই কথাগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। নবগঠিত লালমাই উপজেলায় মনিরুল হক চৌধুরী নেতৃত্বে বিএনপির সকল কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এ দিকে নবগঠিত লালমাই উপজেলা জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশ বিভিন্ন কৌশলে রাজনৈতিকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। এ দিকে নবগঠিত লালমাই উপজেলায় জাতীয় পার্টির কর্মসূচি দৃশ্যমান নয়।