বুধবার ৩ জুন ২০২০


বাচ্চুই ‘লম্পট-ভয়ংকর খুনি’!


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.03.2018

আবদুর রহমানকুমিল্লার মনোহরগঞ্জে দশ বছর বয়সী শিশু সিমু আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বাচ্চু মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকালে বাচ্চুকে সিমু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তারকৃত বাচ্চু মিয়া এলাকার একজন চিহিৃত লম্পট বলে দাবি করেছেন মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুজ্জামান। তাঁর দাবি, বাচ্চুই ধর্ষণের পর ভয়ংকরভাবে খুন করেছে শিশু সিমুকে।
গত সোমবার দুপুরে উপজেলার উত্তর হাওলা ইউনিয়নের হাতিমারা গ্রামের কৃষক সাইদুল হকের ঘরের খাটের নিচ থেকে তাঁর মেয়ে সিমু আক্তারের ক্ষতবিক্ষত-রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশ। শিশু সিমু স্থানীয় হাতিমারা মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় ওইদিন রাতে বাচ্চু মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে অভিযুক্ত করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সিমুর পিতা সাইদুল হক। বাচ্চু মিয়া একই গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। সে পাশের নাথেরপেটুয়া বাজারে বিকেল বেলায় ফুটপাতে হালিম বিক্রি করতো।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর আমরা হত্যাকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালাই। এছাড়া ওই শিশুর পিতাও মামলায় বাচ্চুকে সন্দেহভাজন হিসেবে একমাত্র অভিযুক্ত করেছেন। পরে আমরা বাচ্চু মিয়াকে ধরতে তার বাড়িতে অভিযান চালাই এবং তাকে আটক করি।
ওসি সামছুজ্জামান জানান, আমরা বাচ্চুর ঘরে অভিযানকালে একটি শার্ট পেয়েছি যার মধ্যে রক্তের দাগ রয়েছে। এছাড়া তাঁর পিঠে ও কানের মধ্যে নখের আঁচড় রয়েছে। যার কারণে আমাদের ধারণা বাচ্চুই ধর্ষণের পর ভয়ংকরভাবে খুন করেছে শিশু সিমুকে। এছাড়া আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি বাচ্চু গত দেড় দুই বছরের মধ্যে নিজ গ্রামেই দু’টো শিশুকে ধর্ষণ করেছে। পরে সেগুলো একটি ৫০ হাজার এবং আরেকটি এক লক্ষ টাকায় গোপনে মিমাংসা করেছে। আর সে নাথেরপেটুয়া বাজারেও বিভিন্ন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার খবর পাওয়া গেছে। বাচ্চুকে আটকের পর আজ (গতকাল বুধবার) সিমু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আরো ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।
শিশু সিমুর পিতা কৃষক সাইদুল হক ঘটনার পর থেকে এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। গতকাল দুপুরে তিনি বলেন, আমার মেয়েটাকে কতটা কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। সিমুর জন্য আমার পরিবারের সবাই এখন পাগলের মতো হয়ে গেছে। মেয়েকে হারিয়ে আমিও কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাচ্চু মিয়া নিজ গ্রামে অতীতেও ধর্ষণের বেশ কয়েকটি ঘটনায় জড়িয়েছে। এর মধ্যে শিশু ধর্ষণও রয়েছে। আর তার চরিত্র মোটেও ভালো না। শিশু সিমুদের বাড়ি ফসলের মাঠের মধ্যখানে। বাচ্চু সিমুদের বাড়ি লাগোয়া একটি জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে। ঘটনার দুই/একদিন আগেও সে ওই শিশুদের বাড়িতে গিয়ে তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়–য়া বড় বোনকে অনৈতিক কথা বলে ফোন নম্বর দিয়ে আসে। তখন সিমু ও তার বোন বাড়িতে একাই ছিল। তাদের মা ঘটনার এক সপ্তাহ আগে থেকে সিলেটে রয়েছে আত্মীয়ের বাড়িতে, আর বাবা তখন ছিল ফসলের মাঠে। যার কারণে পুলিশের মতো গ্রামের অধিকাংশ মানুষের সন্দেহ সেদিন হয়তো সিমুকে একা পেয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বাচ্চু। সিমুর বোনও সেদিন মাদ্রাসায় ছিল।
উল্লেখ্য, উপজেলার হাতিমারা গ্রামের পূর্ব-উত্তর পাশের ফসলের মাঠের মধ্যখানে বাড়ি নির্মাণ করে সেখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন কৃষক সাইদুল হক। হত্যার ঘটনার এক সপ্তাহ আগে সাইদুলের স্ত্রী রাবেয়া বেগম সিলেটে বেড়াতে যায়। গত সোমবার সকালে সাইদুল মাঠে কৃষি কাজ করতে ঘর থেকে বের হয়। ওইদিন দুপুরে মাঠের কৃষি কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সাইদুল দেখেন ঘরের দরজা খোলা। এরপর ঘরে প্রবেশ করে সব কিছু এলোমেলো দেখতে পান তিনি। এক পর্যায়ে খাটের নিচে সিমুর ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে ওইদিন লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর পুলিশের সদস্যরা দেখতে পান শিশু মেয়েটির উপর অমানবিক নির্যাতনের পর তাকে দা ও বটি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত দা ও বটিও ঘর থেকেই উদ্ধার করে পুলিশ।