বৃহস্পতিবার ১৯ জুলাই ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » Uncategorized » কুমিল্লায় তিন উপজেলার প্রশাসন চলছে নারী নেতৃত্বে


কুমিল্লায় তিন উপজেলার প্রশাসন চলছে নারী নেতৃত্বে


আমাদের কুমিল্লা .কম :
08.03.2018


মাসুদ আলম।।
বাংলাদেশ নারী ক্ষমতায়নে অনেক পথ এগিয়ে গেছে। বর্তমানে প্রশাসনে নারীদের দাপট বেড়েছে। শুধু প্রশাসন নয় রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, চাকরিসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নারীর অগ্রগতির প্রশংসা করছে সারাবিশ্ব। নারীর এই অগ্রযাত্রায় পিছিয়ে নেই কুমিল্লা জেলাও। তিনটি উপজেলার প্রশাসন দাপটের সাথে সামলাচ্ছেন তিন নারী ইউএনও। জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে সদর দক্ষিণ, মুরাদনগর ও মেঘনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন ওই তিন নারী ইউএনও।
জেলা প্রশাসক সূত্রে জানা যায়, সমাজ উন্নয়নে পুরুষ কর্মকর্তারাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, এ ধারণা ভুল প্রমাণিত করে ওই নারী কর্মকর্তারা সফলতা আর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া এই তিন নারী কর্মকর্তারা সফলতার সঙ্গে উপজেলার সব বিভাগের কাজকর্মের সমন্বয় ও তদারকি এবং জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়নমূলক কর্মকা- তদারকি-বাস্তবায়ন, মাদক নির্মূল, ইভটিজিং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধ, শিক্ষার উন্নতকরণ, জনদুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তৃণমূলের নানা কাজ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিনিয়তই সম্পন্ন করছেন।
তিন নারী ইউএনও হলো কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রূপালী মন্ডল, মুরাদনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম এবং মেঘনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা পারভীন।
নারী ইউএনও রূপালী মন্ডল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রায় দুই বছর যাবৎ সফলতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২৮ তম ব্যাচ বিসিএস এর সদস্য। রূপালী মন্ডলের আগে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসিল্যান্ড হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানান। তিনি বলেন, আমি নারী ইইএনও হওয়ার পথে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মোকাবেলা হতে হয়নি। তবে নারীর অধিকার আদায়ে আমাদের পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে। নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে নারীর অধিকার আদায়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারলে, চলার পথে নারীরা কোন সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হবে না। রূপালী মন্ডল বলেন, প্রশাসন, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, চাকরিসহ নানা ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী এখনো পিছিয়ে রয়েছে। পুরুষের সমান পর্যায়েও নেই। তৃণমূলের নারীরা এখন মা-বাবা, স্বামী, পরিবার ও সমাজের কাছে অবহেলিত এবং সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার। এছাড়াও নারীরা ধর্ষণ ও বাল্যবিবাহ এবং যৌতুকের দায়ে স্বামীর হাতে নির্যাতন হচ্ছেন। আমাদের সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে পারলে নারীরা অধিকার আদয়ে আরো অগ্রগামী হবে। তবে রাষ্ট্র যে হারে নারীর ক্ষমতায়নে এগিয়ে আসছে, আশা করি খুব শীঘ্রই নারীর সমান অধিকার হবে।
আরেক নারী ইউএনও মিতু মরিয়ম জেলার মুরাদনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুই মাস পূর্বে তিনি মুরাদনগরে যোগদান করেন। তিনি ২৭ তম ব্যাচ বিসিএস এর সদস্য। মিতু মরিয়ম এর আগে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে। তার অবস্থান থেকে তিনি বলেন, ইউএনও একটি পদের নাম। সেই ক্ষেত্রে তিনি নারী না পুরুষ তাহা কোন বিষয় না। নারী ইউএনও হওয়ার আগে ও পরে কোন প্রতিবন্ধকতা সামনে আসেনি। এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও কোন অসুবিধায় পড়তে হয়নি। মিতু মরিয়ম বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারীরাই। বর্তমান প্রধান মন্ত্রী ও সংসদের স্পিকার নারী। এছাড়া দেশের রাজনীতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং চাকরির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিচালনা করছেন নারীরা। তবে এটাও ঠিক এখনো দেশের সর্বস্তরের সমাজ ও পরিবারের নারীরা তাদের সঠিক অধিকার ভোগ করতে পারছে না। তারা প্রতিদিন বিভিন্ন কারণে, অকারণে সহিংসতা, বৈষম্য এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তবে বর্তমান সমাজের নারীরা প্রতিবাদ করতে শিখেছে। তারা সমাজের বাল্যবিবাহ, স্বামীর নির্যাতন, যৌতুদের দায়ে নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা ও বৈষম্য, ইভটিজিং ইত্যাদি প্রতিরোদে নারীরা মুখ খুলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করছে।
জেলার আরেক নারী ইউএনও আফরোজা পারভীন মেঘনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২৯ তম ব্যাচ বিসিএস এর সদস্য। আফরোজা পারভীন কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলায় এসিল্যান্ডের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কিছুদিন থাকার পরে প্রায় ১১ মাস পূর্বে তিনি
মেঘনা উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে বলে তিনি বলেন। তিনি বলেন, নারীরা অনেক সময় অনেক সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা রোধ করতে হয়। মানুষ অনেক সময় চিন্তা করে, যে নির্বাহী কর্মকর্তা নারী। তিনি ওই কাজটা করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে পারবে কিনা এমনটি প্রশ্ন থেকে যায়। যখন নারীরা ওই কাজটা সফলভাবে শেষ করতে পারে, তখন ওই মানুষগুলোই আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করে। তিনি বলেন, আমি বলতে পারবো না, যে আমাদের সর্বস্ততরের নারীরা অগ্রগামী। তারা তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছে। এখনো প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশি নারী অবহেলিত। তারা এখনো তাদের পরিবারের কাছ থেকে সমান অধিকার আদায় করতে পারছে না। নারীরা সমাজে এখনো নির্যাতনের শিকার। সমাজ ও পরিবারে সচেতনতা আসলে দেশে নারী দিবস পালন করতে হবে না নারী ইউএনও আফরোজা পারভীন জানান।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নারীবান্ধব প্রশাসন পরিচালনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কুমিল্লায়ও নারীবান্ধব প্রশাসন পরিচালনায় বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। জেলায় ১৭টি উপজেলা মধ্যে কর্মরত ৩ জন নারী নির্বাহী কর্মকর্তা নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। নারী হয়েও দায়িত্ব পালনে তারা কখনো সমস্যার মুখমুখি হতে হয়নি। জেলা প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগিতা করছে এবং আগামীতেও করবে।