রবিবার ২২ GwcÖj ২০১৮


শেখ ফরিদের জন্য কাঁদছে সিন্দুরিয়া পাড়া


আমাদের কুমিল্লা .কম :
03.04.2018

মাত্র সাড়ে তিন বছরের সুন্দর ফুটফুটে একটি মাছুম বা”চার জন্য অঝোর ধারায় কাঁদছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের সিন্দুরিয়া পাড়াসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম। বিশেষ করে সিন্দুরিয়া পাড়ার সকল পর্যায়ের মানুষের চোখে দেখা গেল শ্রাবণের বর্ষণ। কেন তারা এমনভাবে কাঁদছে ? একটি শিশুর মৃত্যু কিভাবে একটি গ্রামের শোককে শক্তিতে পরিণত করে তোলে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখে আসা হলো। ভ-,শট, ধূর্ত, চরিত্রহীন, লম্পট, নারী লোভী, সমকামী ও ধর্মব্যবসায়ী জিন হুজুর নামে কথিত মাহবুব হুজুরের নিমর্ম নির্যাতনে পৃথিবীর আলো বাতাস দেখার ও বুঝে উঠার আগেই বড্ড অসময়ে চলে যেতে হলো শিশু শেখ ফরিদকে। প্রিয় সন্তান হারানোর ব্যথায় বার বার জ্ঞান হারানো মা রোজিনাসহ এলাকাবাসীর একটাই বুক ফাটা আর্তনাদ-এই লম্পটের কবলে পড়ে আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়। গত ২৯ মার্চ শুক্রবার সু¯’ ছেলেকে বোনদের কথায় মাহবুব কবিরাজের কাছে ঝাড়-ফুঁক দিতে নিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালোর আশায় কবিরাজের জিম্মায় রেখে আসে সিন্দুরিয়া গ্রামের গ্রিস প্রবাসী জামাল হোসের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী রোজিনা বেগম। একদিন পড়েই ছেলেকে ফিরে পেল সাদা কাফনে মোড়ানো মৃত অব¯’ায়। কাফন খুলে দেখা গেল শেখ ফরিদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত সর্বাঙ্গে কামড়ের দাগ। এদিকে, ভ- মাহবুব কবিরাজ ভারতে পালিয়ে যেতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে তাকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে বলে জানান ওসি কোতয়ালী। এদিকে, মাহবুব কবিরাজের আদর্শ সদর উপজেলার বারপাড়া হিজবুল্লাহ আস্তানায় সোমবার গিয়ে দেখা গেছে পিনপতন নীরবতা। নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মাহবুব কবিরাজের খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা অজানা তথ্য, যা পাঠক মাত্রই শিহরিত হয়ে উঠার মত। ধর্মের ও জিনের নাম ব্যবহার করে এমন কোন হীন কাজ নেই যা তিনি করেন না। তবে সুন্দরী মেয়ে, প্রবাসী স্ত্রী ও অর্থ এই তিন হলো তার জীবনাদর্শন বলে নানা জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
এদিকে, কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে হয়তো অনেক কিছু বলা যাবে না। তবে লোক মুখে শুনেছি কবিরাজ মাহবুব ভারতে পালিয়ে যেতে পারে। তাকে ধরতে পারলেই বেরিয়ে আসবে হত্যার প্রকৃত রহস্য।
কে এই মাহবুব : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের মান্দারিয়া গ্রামের মৃত কৃষক মোকস আলীর পুত্র মাহবুব। তার পুরো নাম মো. মাহবুবুল চৌধুরী। নি¤œমধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান মাহবুব ছোট বেলায় মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছেন। তবে তার প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেনি তার গ্রামের ও শহরের বাড়ির কেউই। তবে একাধিক সূত্র জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অব¯’ান খুবই সামান্য হলেও ছোট বেলা থেকেই ধূর্ত ধরনের লোক ছিল এই মাহবুব।
কবিরাজি জীবন শুরু :
২ এপ্রিল সোমবার কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম ও বুড়িচং তিন উপজেলায় সরেজমিনে ঘুরে ও নানান জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৪ বা ১৯৯৫ সালের দিকে জিনের কাছ থেকে স্বপ্নে কবিরাজি করার অনুমতি পেয়েছেন, এ কথা নিজস্ব গ-ীর লোকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে তার কবিরাজি জীবন শুরু হয়। কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের অগ্রণী ব্যাংক রোড ঐতিহাসিক আমদিঘী সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাসা চার রুম বিশিষ্ট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তার কবিরাজি জীবন শুরু করেন। এখানে কয়েক বছর দাপটে কবিরাজি করার পর বাড়ির মালিক তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দিলে একই এলাকার গোল মাকের্টের পূর্ব পশ্চিম দিকে তিনি দ্বিতীয় বারের বাসা ভাড়া নেন। এরপর এখানে কয়েক বছর কবিরাজি করে হঠাৎ করে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ। কুমিল্লা শহরতলীর আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাতপুর ইউনিয়নের বারপাড়া নামক ¯’ানে বিশাল জায়গা কিনে তৈরি করেন অট্টালিকা।
বর্তমান আস্তানা : বারপাড়ার বর্তমান আস্তানায় একটি হিজবুল্লাহ মসজিদ, চারতলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি( এর মধ্যে রয়েছে আস্তানা বা খানকা শরিফ, কবিরাজি ঘর ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকার ঘর)। একই ক্যাম্পাসে রয়েছে আরেকটি দোতালা দালান। এর ওপরে আবার ছন দিয়ে দালানটিকে নান্দনিক করে রাখা হয়েছে। এর নিচতলায় রয়েছে কাচারি ঘর আর দোতালাকে করেছে গেস্ট রুম। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিশাল টিনের ঘর। যা তার বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। মূল দালানের পিছনে রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরে আছে একটি নৌকা। বিভিন্ন রোগীদের জিন চালানের কথা বলে রোগীর আর্থিক সার্মথ্য অনুয়ায়ী এক হাজার এক টাকা থেকে শুরু করে এক লক্ষ এক টাকা বার তার বেশি টাকা একটি প্লাস্টিকে মুড়িয়ে যাতে না ভিজে যায় এমনভাবে প্রস্তুত করে বলে, আমি টাকা নেই না। আপনি এই টাকাটা ওই পুকুরের পেছনে মুখ করে ফেলে চলে আসবেন কোনোভাবেই টাকা ফেরে পুকুরের পানির দিকে তাকাবেন না। তাহলে ক্ষতি হবে। তখন সহজ সরল রোগীরা এভাবে হাজার হাজার টাকা পুকুরে ফেলে আসে । পরে নৌকা দিয়ে তার নির্দিষ্ট লোকেরা টাকা উঠিয়ে তার কাছে পৌঁছে দেয়।
তার যত অপকর্ম :
ভ- মাহবুব কবিরাজ এমন কোন হীন কাজ নেই যা তিনি করেন না। তার স্ত্রী ও তিনটি সন্তান বর্তমান থাকলেও কবিরাজি জীবনের প্রথম থেকেই পরনারীদের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল অনেক বেশি। বিশেষ করে নারী খেকো এই নরপিচাশ ভ- মাহবুব কবিরাজের প্রধান টার্গেট হলো, ওই সকল নারী রোগী যারা সন্তান হয় না বলে তার কাছে তাবিজ বা পানি পড়া নিতে আসে। দ্বিতীয় টার্গেট বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে আসা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া সুন্দরী মেয়ে, আর তার তৃতীয় টার্গেট হলো প্রবাসী স্ত্রীরা। গত ১৫ বছর ধরে তার সাথে ঘনিষ্টভাবে চলে আসা এমন একাধিক সূত্র সামাজিক ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ পর্যন্ত কয়েক শতাধিক নারীর সতীত্ব হরণ করেছে এই ভ- মাহবুব কবিরাজ।
শুধু নারীরাই তার যে লালসার শিকার তা নয়, তার লালসার শিকার হয়েছে কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়–য়া অনেক যুবকও। যাদেরকে তিনি সমকামিতা করতে বাধ্য করেছেন। এই তালিকাও শতাাধিকের ওপর হবে বলে জানা গেছে।
মাহবুব কবিরাজ জিনকে বশ করতে হবে এই কথা বলে যারা বিদেশ যাবে কিংবা বিদেশে থাকে বা বিদেশ থেকে এসেছে এমন রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। তিনি তার এমন দুই নম্বরি অপকর্ম করার জন্য সব সময়ের জন্যই তার সাথে থাকে একাধিক চ্যালা চুমু-া। যাদেরকে তিনি মাসিক মাসোয়ারা দিয়ে থাকেন।
পৃথিবীর এমন কোন রোগ নেই যা তিনি চিকিৎসা করেন না। তার কাছে যেই যে সমস্যা নিয়ে আসেন না কেন প্রথমে এমন অভিনয় শৈলী প্রদর্শন করেন যে, যাতে প্রথম দর্শনেই মনে হবে তিনি একজন সত্যিকারের কামেল লোক। কিš‘ ক্রমান্বয়ে যখন তার প্রকৃত চেহারা ফুটে ওঠে, তখন আর কান্না ছাড়া তাদের আর করার কিছুই থাকে না।
তার কাছে চিকিৎসা নিয়েছে গত দুই দিনে এমন প্রায় অর্ধশতাধিক বিভিন্ন পেশার নারী পুরুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা তার কাছ থেকে কোন সমাধান পাননি। কয়েক মাস ঘুরে ঘুরে ফল না পেয়ে তার নিরবে তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
নিহত ফরিদ যেভাবে মাহবুব কবিরাজের কবলে পড়ল :
শেখ ফরিদের মা রোজিনা বেগমরা ৫ ভাই ও ৫ বোন। তার এক বোনের নাম রেজিনা। তার নাকি এক জিনের আছর আছে। এই রেজিনা যাকে বেশি আদর করবে তাকেই নাকি জিনে ধরবে। আর এই বদ জিন যাকে ধরবে তারই হাত পা নাকি চিকন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে নিহত শেখ ফরিদের মায়ের আত্মীয় স্বজনদের নাকি এই জিন ছোঁয়াতে রোগ সংক্রমণ করে ফেলছে। ফরিদের ছোট খালা তার এক ছেলে আর অপর বোনের আরেক ছেলেকে নিয়ে ২৫ মার্চ মাহবুব কবিরাজকে দেখিয়েছে। এখন বোন বড় বোন রোজিনার ভালর জন্য তাকে ফোন করে জানায়, শেখ ফরিদের তো এখনও কোন সমস্যা নেই। কিš‘ যেহেতু আমাদের বংশে জিনের আছরের সমস্যা আছে তাই সমস্যা হওয়ার আগেই মাহবুব কবিরাজকে দেখিয়ে যান। বোনের কথা মত সরল বিশ্বাসে নিজের সু¯’ সবল সন্তানকে নিয়ে ২৯ মার্চ বিকেলে রোজিনা বেগম বারপাড়া মাহবুব কবিরাজের আস্তানায় যান।
শিশু ফরিদ যেভাবে মাহবুবের বলি হলো :
রোজিনা বেগম তার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া বড় মেয়েকে নিয়ে মাহবুব কবিরাজের আস্তানায় যায় ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকালে। ২০ টাকা টিকিট কেটে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ডাক পড়ল রোজিনা বেগমের। বড় মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে প্রবেশ করল তার খাস কামরায় রোজিনা বেগম। শেখ ফরিদকে দেখেই গালে পিঠে টেনে টুনে কবিরাজ জানাল, এখনো তাকে জিনে পুরাপুরি পায়নি। তবে প্রতিরাতে জিনে এসে তাকে গালে কামড়িয়ে যায়। এই জিন থেকে তাকে রক্ষা করতে হলে আমার কাছে ৩দিন রেখে যেতে হবে। রোববার এসে নিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে মা রোজিনাকে পানি পড়া পান করায় কবিরাজ মাহবুব। ক্ষণিকের মধ্যেই পুরো কবিরাজের কন্ট্রোলে চলে যায় রোজিনা। কিš‘ ফুঁসে উঠে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী শেখ ফরিদের বড় বোন ফাতেমা আক্তার। মায়ের সাথে কথাবার্তাসহ কবিরাজের নানা অঙ্গভঙ্গি ফাতেমার মধ্যে মুহূর্তেই কবিরাজের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। মাকে জোর করে বলে, মা আমার ভাইয়ের যদি হায়াত না থাকে তাহলে বাড়িতে মরবে তারপরেও তুমি ফরিদকে এখানে রাখবা না। এখানকার পরিবেশ আমার পছন্দ হ”েছ না। কিš‘ মায়ের মন বলে কথা। মা রোজিনার মনে পড়ে গেল তার নিজের বোনের সন্তানদের কথা। যদি নিজের সন্তানের হাত-পাও চিকন হয়ে যায়। তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বুকের তাজা কষ্টকে ধামচাপা দিয়ে কবিরাজ মাহবুবের কাছে সন্তানকে সপে দিয়ে চলে এলেন বাড়িতে।
আম্মু-আম্মুগো যেও না , আমাকে নিয়ে যাও :
সন্তান হারানো রোজিনা বেগম কান্না করতেও যেন ভুলে গেছেন। কারো সাথে কথাও বলেন না। এক প্রকার বাকরুদ্ধ। এই প্রতিবেদক যখন জানতে চাইলেন, আপনি আসার সময় ফরিদ কাঁদেনি। ঠিক তখনি হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলেন রোজিনা বেগম। জানালেন, আমি যখন দিয়ে আসি তখন ফরিদ বার বার আমার আঁচলে ধরে রেখে আম্মু আম্মু বলে কান্না করছে। আমার ছেলে শুধু একটাই কথা বলছে , আম্মু গো আম্মু তুমি আমাকে নিয়ে যাও। রেখে যেও না। আমি তোমার ছাড়া থাকতে পারব না। তখন কি জানতাম আমি আমার ছেলেকে আজরাইলের কাছে দিয়ে আসছি- এই বলে আবারো কান্না শুরু করলেন রোজিনা বেগম। আপনার বোনের সন্তানদের হাত-পা চিকন হতো কিš‘ আপনার ছেলেরও কি এই সমস্যা হয়েছিল জানতে চাইলে রোজিনা বেগম বলেন, না ভাই, আমার ছেলের ছিল না। আমার বোন বলেছে, যেহেতু আমাদের ঘরের অন্যদের হয়েছে তাই ফরিদেরও হতে পারে। এই বিবেচনাতেই নিয়েছিলাম আমার কলিজার টুকরোকে।
আস্তানায় এখন সুনসান নীরবতা :
সোমবার দুপুরে আদর্শ সদর উপজেলার বারপাড়া ভ- জিন কবিরাজ মাহবুবের আস্তানায় গিয়ে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা । ভেতর থেকে গেটে তালা লাগানো। কয়েকবার নক করার পর ভেতর থেকে জানানো হলো এখানে কেউ নেই কেয়ারটেকার ছাড়া। সাংবাদিক বলতেই গেট খুলে দিল সদ্য নিয়োগ পাওয়া একই এলাকার মানিক মেম্বারের ছেলে মো. আবুল খায়ের। তিনি জানালেন, এই বাড়িটি লুটপাট হতে পারে এই ভয়ে এলাকাবাসী তাকে এখানে রোববার থেকে নিয়োগ দিয়েছে। আরেকজন থাকেন সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের আবদুস সাত্তার। তিনি এখানে প্রায় দেড় বছর ধরে থাকেন। জিনের আছর রয়েছে বলে তিনি এখানে থেকেই কাজ করেন আর তিন বেলা খাওয়া ধাওয়া করেন। বাড়িটি ঘুরে দেখা গেল চতুর্দিকে অসংখ্য ছোট ছোট রুম রয়েছে। আছে পুকুরও। যেখানে জিনের নামে রোগীরা প্লাস্টিক মোড়ানো প্যাকেটে হাজার হাজার টাকা ফেলে রাখে। পরে কবিরাজ তার লোক দিয়ে উঠিয়ে আনে। আস্তানা থেকে বের হওয়ার পড় এই প্রতিবেদককের জন্য অপেক্ষারত ¯’ানীয় ৮/১০ লোক জানালেন, প্রতি রোববারও বৃহস্পতিবারে ৭০০/৮০০ রোগী আসে। প্রতিজন থেকে ২০ টাকা করে টিকিট কাটে। প্রতি মাসে সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ লোকের খানা হয় তালিমের নামে। আর প্রতিদিনতো এখানে ৫০/৬০ জনের রান্না হয়। চুতুর্দিকে বিশাল জায়গায় দেখিয়ে বলেন, এর সবটাই মাহবুব কবিরাজের। এতটাকা তিনি কোথায় পান তার উৎস বের করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান ¯’ানীয়রা।
কান্না থামছে না সিন্দুরিয়া পাড়ায় :
দুপুর দেড়টায় যখন এই প্রতিবেদক সিন্দুরিয়া পাড়া নিহত শেখ ফরিদের বাড়ি পৌঁছল তখন দেখা গেল সেখানে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও রয়েছে। উপ¯ি’ত নারী পুরুষের বুক ফাটা কান্নাই বলে দেয় এই কান্না শুধু শেখ ফরিদের পরিবারের কান্না না এটা সিন্দুরিয়া পাড়া ও আশেপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের সম্মিলিত কান্নার আওয়াজ। রানু বিবি নামে ৫০ ঊর্ধ্ব বয়সের এক বৃদ্ধ জানান, ফরিদের জানাজায় যে লোক এসেছে এত লোক তিনি আর দেখেননি। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে সিন্দুরিয়া পাড়া আসতে ঠিকা জানার জন্য যেখানেই কথা বলেছি সেখানেই দেখেছি ফরিদের জন্য তাদের আবেগের বহি:প্রকাশ। নিহত শেখ ফরিদের বাড়ি থেকে রওনা হব এমন সময় হঠাৎ দেখলাম অসংখ্য মহিলা কোন কিছু না বুঝেই স্বে”ছায় স্লোগান তুলে দিল, ফরিদ হত্যার বিচার চাই, ভ- কবিরাজ মাহবুবের ফাঁসি চাই।
ফরিদের চাচা মাহবুবুর রহমান, ময়নামতি উ”চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. রাশিদুল হক , আলেয়া পারভীন, সাহেরা বেগমসহ অসংখ্য উপ¯ি’ত নারী পুরুষের আর্তনাদ, একটু লেখবেন, শেখ ফরিদের মায়ের মত যেন আর কোন মায়ের বুক কোন ভ- কবিরাজের হাতে খালি না হয়।
ফরিদের চাচি যা বললেন : নিহত শেখ ফরিদের আপন বড় চাচি জানালেন, শেখ ফরিদের সমস্ত শরীরে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। আর থিথুনিতে রয়েছে মাংস কাটা। গলায় সুস্পষ্ট দাগ রয়েছে। যা দেখে বোঝা যায়, গলা টিপে ধরছিল।
কোতয়ালী থানার ওসি যা বললেন : কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু ছালাম মিয়া বলেন, আমরা মামলা নিয়েছি। আসামি দুই জনের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছি। প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের অভিযান চলছে। তবে লোক মুখে শুনছি, সে নাকি ভারতে পালিয়ে চলে গেছে। এই শিশু মারা যাওয়ার দায় সে কিছুতেই এড়াতে পারবে না। কারণ, তার হেফাজত থেকেই ফরিদ মারা গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা যা বললেন : নিহত ফরিদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মারুফকে সোমবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে ফোন করলে তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে এবিষয়ে এখন কিছু বলা যাবে না। ।