শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » sub lead 2 » কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে শীঘ্রই চিরুনি অভিযান


কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে শীঘ্রই চিরুনি অভিযান


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.04.2018

মাহফুজ নান্টু:

কুমিল্লা জেলায় মাদকের প্রসার রোধে শীঘ্রই পরিকল্পিত অভিযান শুরু হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না। র‌্যাব সদর দফতরের নির্দেশনায় সারা দেশের মত কুমিল্লাতেও চিরুনী অভিযান পরিচালিত হবে। মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃংখলা মিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা প্রশাসক সভায় আবুল ফজল মীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যবৃন্দ মাদকের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জাহিদ হাসান সিদ্দিকের সঞ্চালনায় জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মানজারুল ইসলাম জানান, মাদক নির্মূলে তাদের অব্যাহত অভিযানে বেশ বড় কিছু মাদকের চালান আটক হয়। তবে সাম্প্রতিককালে শাসনগাছায় কৌশলে উৎপাদন করা চোলাই মদের কারখানা আবিষ্কার করাসহ তিনজনকে আটক করেন। তিনি গত মার্চ মাসে পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবির মাদক আটক ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। মার্চ মাসে ১৩০টি অভিযান পরিচালনা করে ৩২ টি মামলা রজু করে। অভিযানে ৩২ জনকে আটক করে এবং ২৬ লাখ ৭১ হাজার ৬শ টাকার মাদক উদ্ধার করেন। কুমিল্লা জেলা পুলিশ মার্চ মাসে তাদের নিয়মিত অভিযানে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট ২০৩ টি মামলা দায়ের করেন। এতে ২৮৪ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৪৫০ টাকার মাদকদ্রব্য আটক করা হয়। এদিকে মার্চ মাসে ১০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের প্রায় ১৫শ ১৫টি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৯৮টি মামলায় ২১ জনকে আসামি করা হয়। মার্চের অভিযানে বিজিবি কর্তৃক ৭১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৭৫ টাকার মাদক দ্রব্য আটক করা হয়। র‌্যাব ১১ ব্যাটালিয়ন মার্চ মাসে ৯টি অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৬ মামলায় ১০ জনকে আটক করে। মাদকদ্র্ব্য উদ্ধার করে ৪০ লাখ ২ হাজার ৮শ টাকার। রেলওয়ে পুলিশ ৩মামলায় ২ জনকে আটক করে এবং ১লাখ ৩৫ হাজার টাকার মাদক উদ্ধার করে।
সভায় উপস্থিত র‌্যাব ১১ এর কর্মকর্তা উপ-অধিনায়ক কল্লোল কুমার দত্ত জানান, র‌্যাবের সদর দফতরের নির্দেশনায় সারা দেশেই মাদকের বিস্তার রোধে অভিযান পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে লক্ষ্য কুমিল্লা ১১ ব্যাটালিয়ন থেকে অভিযান পরিচালনা করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। অচিরেই মাদকের বিস্তার রোধে র‌্যাব ১১-এর অধীন জেলা সদরে অভিযান পরিচালিত হবে। এ ব্যাপারে বরাবরের মত র‌্যাব সদস্যরা জিরো টলারেন্স অবস্থায় থাকবে।
এদিকে জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর মাদকসেবীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে রিহ্যাব সেন্টার ও তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে কি অগ্রগতি এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রই অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো: মানজারুল ইসলাম জানান,জেলায় মোট ৬টি রিহ্যাব সেন্টার আছে। তাদের কার্যক্রম কেমন এ প্রশ্নের বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা:মজিবুর রহমান জানান, এ জেলায় মাদকসেবীদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে যে সব রিহ্যাব সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে সেগুলোর চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন আদৌ এসব রিহ্যাব সেন্টার থেকে কতজন রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তার সঠিক পরিখ্যান নেই। আর তাদের যে শর্ত মেনে চিকিৎসা দেয়ার কথা সে শর্ত কতটি রিহ্যাব সেন্টার পালন করছে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে সিভিল সার্জন বলেন, এসব রিহ্যাব সেন্টার মাদকসেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট নয়। সিভিল সার্জন বলেন,চাইলে কুমিল্লা মেডিকের কলেজের মনোরোগ বিভাগ রিহ্যাব সেন্টারে থাকা মাদকসেবীদের মনোরোগ বিষয়টি নিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এ সময় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো: মানজারুল ইসলাম জানান, একজন মাদকসেবী তার জীবনে মাদক সেবন করতে গিয়ে যে পর্যায়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সহায় সম্পত্তি শেষ হয়ে যায় তখন তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্বজনরা রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করায়। এক্ষেত্রে গড়ে ১০ হাজার টাকা ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে চিকিৎসার মাঝখানে ফিরিয়ে আনে স্বজনরা। এতে করে ওই মাদকসেবী আবারো মাদকাসক্ত হয়ে যায়। এ জন্য সরকারিভাবে নির্মিত রিহ্যাব সেন্টার প্রয়োজন।
এদিকে উপস্থিত সদস্যরা বলেন,কুমিল্লা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গনে,ঈশ্বরপাঠশালাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বিষয়ে দ্রুত কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এদিকে কুমিল্লা জেলায় পুরোনো গোমতী নদী দখলদারদের কবলে এবং মূল গোমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে দূষণের মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সে জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গোমতী নদী রক্ষা করার জন্য জনপ্রতিনিধি,জেলা ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংবাদকর্মীদের নিয়ে একটি কমিটি করে তারপরই নদী বেদখল হওয়া কিংবা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।
সভায় উপস্থিত ডিএসবির অতিরিক্ত ও সদ্য পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো:আলমগীর হোসেন জানান,মাদকের বিষয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন বদ্ধ পরিকর। এছাড়াও যদি পুলিশের কোন সদস্য মাদকসহ কিংবা কোন অপরাধের সাথে যুক্ত তাহলে ওই সব সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম সারওয়ার,কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মো:ওমর ফারুক,হোমনা পৌরসভার মেয়র এড.নজরুল ইসলাম, মেঘনা উপজেলার চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, হোমনা উপজেলা চেয়ারম্যান এড.আজিজুর রহমান মোল্লা, পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক-যুগ্ম সচিব মো:ছামছুল আলম, জেলা শিক্ষা অফিসার মো:আবদুল মজিদ, জেলা আনসার ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মুহাম্মদ মেহেদী হাসান,সিনিয়র জেল সুপার জাহানারা বেগম,হাইওয়ে সার্কেল এএসপি মো:শফিকুল ইসলামসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারও সংশ্লিষ্ট অফিসারগণ।