শনিবার ২০ অক্টোবর ২০১৮


চৌয়ারায় পোকায় কাটছে কৃষকের স্বপ্ন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.04.2018

শাহাজাদা এমরান।।


এখনো পুরোপুরি ধানের শীষ বের হয়নি। পাকা ধান বাড়ি নেয়া তো আরো অনেক দূরের পথ। কিন্তু এখনই কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের কৃষকের ঘরে শোনা যাচ্ছে নীরব কান্নার শব্দ। এ কান্নার কারণ একটাই ধান ঘাতক ‘কারেন’ পোকার আক্রমণ। এক জোড়া ডিম থেকে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ৫ হাজার বাচ্চা দেয় বলে স্থানীয় ভাবে এই পোকার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কারেন’ পোকা। ধান বিধ্বংসী এই পোকার আক্রমণে বোরো আমন ধানের শীষগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অসংখ্য হেক্টর জমি মুহূর্তেই নি:শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদিও কুমিল্লা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, এই পোকার আক্রমণ এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মজুমদার বলেছেন, এটা নিউজ করার মত কিছুই না। মাত্র দুই হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। সব কিছু আমাদের মনিটরিংয়ে রয়েছে।
রোববার সরেজমিনে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমেজোড়া এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের কয়েকটি জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে, জমির পর জমি কারেন পোকার আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। সবুজের সমারোহে ভরা ধান গাছগুলোর শীষের দিকে তাকালেই বুঝা যায় পোকার আক্রমণে ক্ষত-বিক্ষত জমিগুলো। সাংবাদিক লেখা মোটর সাইকেল দেখেই ২নং চৌয়ারা ইউনিয়নের হেমেজোড় গ্রামের প্রায় ২৫/৩০ জন কৃষক জমি থেকে উঠে রাস্তার কাছে এল। উপস্থিত কৃষকরা জুড়ে হা হুতাশ করতে লাগল। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী পাকা দাড়িওয়ালা কৃষকদের আবেগ ভরা কথাতেই বুঝা যায় সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা ইউনিয়নের ঘরে ঘরে বিরাজ করছে নীরব কান্নার শব্দ !
হেমেজোড়া গ্রামের মো. আবদুল গফুরের পুত্র মো. আবুল কালাম আজাদ (৫০) জানান, এবার আমাদের গ্রামে গজব পড়েছে। তিনি বলেন, গেল বর্ষায় প্রবল বর্ষণে সেই সময়ের ধান গেল ভেসে। আর এবার খেয়ে ফেলছে কারেন পোকায়। তিনি জানান, আমার এই জীবনেও শুনিনি, কারেন পোকায় শীষ হয়ে যাওয়া ধানের ক্ষতি করে। শীষের ডোগায় ডোগায় পোকার বিচরণ বলে তিনি জানান। এখানকার কৃষকরা এই এলাকার প্রতিটি আক্রান্ত জমি দেখান এই প্রতিবেদককে।
কৃষকরা জানান, আমরা কৃষি অফিসকে অবহিত করার পর তারা এখন আমাদের কাছে বিভিন্ন অফিসার পাঠাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের ওষুধ দেবার পরামর্শ দিচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচেছ, এক একর জমিতে ৪৭০ টাকার ওষুধ লেগে যায়। এত টাকা আমরা গরিবরা কোথায় পাব! তারা সরকারের কাছে কারেন পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ দেবার দাবি জানান।
এদিকে, সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মজুমদার জানান, উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নে মোট ১৩২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হেমেজোড়া গ্রামের ২ হেক্টর জমি কারেন পোকায় আক্রমণ করছে। গেল সপ্তাহে এই পোকার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সাথে সাথে আমরা আমাদের পুরো টিম নিয়ে কাজ শুরু করি। ঢাকা থেকেও আমাদের এক্সপার্টরা এসেছে। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। একজন গরিব কৃষককে আমরা বিনামূল্যে ওষুধও দিয়েছি। এটা এখন কোন নিউজের মত ঘটনা না বলে তিনি জানান।
কুমিল্লা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী বলেছেন, কারেন পোকা বা বাদামী ঘাস ফড়িং এখন সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভয়ের কোন কারণ নেই। আমরা এ বিষয়ে টাইম টু টাইম মনিটরিং করছি।