রবিবার ২২ GwcÖj ২০১৮


‘দেশকে এগিয়ে নিতে কোটা সংস্কার জরুরি’


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.04.2018

সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা বিদ্যমান :রাখায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্র সমাজ। সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কুমিল্লাসহ সারাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি-বেসরকারি কলেজে দফায় দফায় আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকে। এদিকে গতকাল সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটার কোনো দরকার নেই বলে মন্তব্য করেন এবং মন্ত্রী পরিষদ সচিব যদি মনে করেন, তাহলে এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়ে দেন। সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিকতা কতোটুকু কিংবা কোটা সংস্কার করে কত শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত তা নিয়ে কথা হয় কুমিল্লার বিশিষ্টজনদের সাথে। তারা বলেছেন-দেশকে এগিয়ে নিতে কোটা সংস্কার জরুরি। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আমাদের কুমিল্লার স্টাফ রিপোর্টার তৈয়বুর রহমান সোহেল।
২৫ শতাংশ কোটা থাকতে পারে- প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরীকুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আমীর আলী চৌধুরী বলেছেন, খুব বেশি হলে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে ২৫ শতাংশ কোটা থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোটাই এমন যেখানে কোটা পুরোপুরি বিলুপ্ত করার সুযোগ নেই। আমি মনে করি ২০ শতাংশ কোটা থাকা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কোটা করা যেতে পারে। এদেশের তরুণ মেধাবী সন্তানদের সরকারি চাকরিতে সুযোগ দিতে হবে। তাদের সুযোগ করে দিতে কোটা সংস্কার জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ চাকরিতে কোটার দরকার নেই- ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেরিটের প্রয়োজন যেখানে মুখ্য, সেখানে কোটার দরকার নেই। আবার মেরিটের প্রয়োজন যেখানে মুখ্য নয় সেখানে কোটা থাকতে পারে। তবে তা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হলে ভালো হয়। বাংলাদেশের বিসিএসসহ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে। কিছুটা কম গুরুত্বপূর্ণ যেখানে অতি মেধাবী হওয়া আবশ্যক নয়, যেমন পুলিশের কনস্টেবল বা সেনাবাহিনীর সৈনিক সেক্ষেত্রে কোটা থাকতে পারে, তবে তা ২০শতাংশের বেশি নয়। এদেশকে এগিয়ে নিতে হলে মেধার বিকল্প আর কিছু নেই।
কোটা পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে- অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান
এপেক্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এবং কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ নুরুর রহমান কোটা প্রথা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে কোনো কোটাই থাকতে পারে না। তা পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে। সকল সরকারি চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। মেধার বিকল্প কোটা নয়, কোটার বিকল্প মেধা।
কোটা সংস্কার নয়, সৎকার করতে হবেÑ রাশেদা আখতার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা আখতার বলেন, কোটা সংস্কার নয়, সৎকার করতে হবে। আমার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা। আমার সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি তাদের সাথে আলোচনা করেছি, তারা কোটার পক্ষে নয়। এদেশের মানুষ রাজাকারদের যেমন ঘৃণা করে, আমি চাই না কোটার কারণে এদেশের মেধাবী তরুণরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গালাগাল করুক। আগামী প্রজন্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোটা প্রথা থাকতে পারে না। পিছিয়ে পড়া জনপদের নারীদের জন্য কোটা থাকলে ভালো হয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সার্বজনীন, তার কাছে আমরা সাম্য প্রত্যাশা করি।