মঙ্গল্বার ২৫ †m‡Þ¤^i ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » sub lead 3 » দাউদকান্দিতে সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন ঘটনায় তদন্ত কমিটি


দাউদকান্দিতে সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন ঘটনায় তদন্ত কমিটি


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.08.2018


মাসুদ আলম
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সামাজিক বিচারের নামে জনসম্মুখে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসা নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজর মীর। এর আগে শুক্রবার রাতে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে “সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন, আটক ২” শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজর মীর জানান, শনিবার সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা আসে। আমি স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা একটি তদন্ত কমিটি করতে নির্দেশ দিয়েছে।

দাউদকান্দি থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম জানান, নির্দেশ অনুযায়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কার্ণিজ আফরোজকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। গত ১ আগস্ট দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামের সামছু ব্যাপারীর ছেলে প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রীকে সালিশ বৈঠকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নারীর বোন বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করে। ওই সালিশি বৈঠকে স্থানীয় ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে এমন নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটলো উত্তর চেয়ে একটি শোকজ নোটিশ দিয়েছি। শোকজ নোটিশ সন্তোষজনক না হওয়ায় তদন্ত পূবর্ক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ‘পরকীয়ায় জড়িত’ অভিযোগে দাউদকান্দি বারপাড়া গ্রামের আলম নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে জোর করে ওই গৃহবধূর ঘরে আটকে রাখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। আটক দু’জনের ওপর রাতভর দফায় দফায় নির্যাতন চালায় প্রবাসী কবিরের ভাই সাইফুল, বাবুল, মিন্টু, মোস্তাক ও আরেক ভাই খোকনের স্ত্রী। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে সামাজিক বিচারের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠক চলাকালে প্রতিবেশী মিন্টু মাতব্বরদের নির্দেশে লাঠি দিয়ে ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া, বেধড়ক পেটানো হয় আটক আলমকেও।
তাদেরকে নির্যাতনের ঘটনায় ১ আগস্ট ওই নারীর বোন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আসামি সাইফুল ও একই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে বাবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছে একই গ্রামের মোবারকের ছেলে মিন্টু, বারেক মিয়ার ছেলে মোস্তাক ও নির্যাতনের শিকার ওই নারীর দেবর খোকনের স্ত্রী শিল্পী।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মামলায় প্রধান আসামি সাইফুলসহ আরেক আসামি বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।