সোমবার ২৪ †m‡Þ¤^i ২০১৮


আমার বাসায় তিন বিপ্লবী একসাথ হতেন-অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী


আমাদের কুমিল্লা .কম :
15.08.2018


স্টাফ রিপোর্টর।। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন রাজনীতির রাখাল-রাজা। তিনি সারা দেশ চষে বেড়াতেন । বাংলাদেশের মেঘনা নদীর পূর্ব অঞ্চলের একমাত্র রাস্তা ছিল দাউদকান্দি দিয়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তিনটি ফেরিঘাট ছিল গোমতী-মেঘনা, মেঘনা এবং শীতলক্ষ্যা। এই ফেরিগুলো রাতের দশটায় বন্ধ হয়ে যেত। শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে আসা-যাওয়ার সময় যদি কোন কারণে আসতে দেরি হয়ে যেত আমার বাসাই থেকে যেতেন। আমার বাসায় রাত্রি যাপন করতে আসলেও বঙ্গবন্ধু ঘুমাতেন না। আমার বাসায় এসেই বিপ্লবী অতীন্দ্রমোহন রায় এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ডাক দিতেন। শেখ মুজিব, অতীন্দ্রমোহন রায় এবং শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত একসাথ হয়ে তিন বিপ্লবী নেতা সারা রাত কথা বলতেন। আর আমি চা তৈরি করে দিতাম।
১৫ আগস্টকে নিয়ে অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নায়ক ছিলেন মেজর ডালিম। এই হত্যাকা-ে জিয়াউর রহমানের হাত ছিল। কারণ শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান মেজর ডালিমকে বলেছেন, “মেজর ডালিম ওয়েল ডান, সেট মি কিস ইউ”। পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত ছিল, জিয়াউর রহমান মেজর শফিউল্লাহকে ছাড়া বাকি সবাইকে একত্রিত করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা- ছিল পূর্ব পরিকল্পিত, যে পরিকল্পনায় ডালিমদেরকে সহযোগিতা করেছে পাকিস্তান।

বাস ভবনের ¯েœহ আর ভালোবাসার কথা ভুলবো না- রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব
রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাস ভবনে বঙ্গবন্ধুকে সালাম জানাতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে দেখে ¯েœহ আর ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করেছেন। বাস ভবনে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ¯েœহ, আদর এবং ভালোবাসা কখনো ভুলতে পারবো না। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা এই তিনটি শব্দ একটি অন্যটির সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনা করা যায় না।
রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বলেন, ডালিমরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকরা বঙ্গবন্ধকে ১৫ আগস্ট রাতে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। ঘাতকরা চেয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা করে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিবে, কিন্তুসেটা ছিল ব্যর্থ প্রয়াস। বর্তমানে যতদিন যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নাম বাংলার জমিনে আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। মানুষের হৃদয়ে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পৃথিবীর নামটা যতদিন থাকবে ততদিন বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বঙ্গবন্ধু বলতেন আফজাল আমার ছাত্রলীগটা কর-অ্যাডভোকেট আফজল খান
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আফজল খান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সিলেট, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং চাঁদপুর যাওয়া-আসার সময় অ্যাডভোকেট আহমেদ আলী চাচাকে খবর দিতেন। আহমেদ আলী চাচাকে তিনি বলতেন, ‘আমি তোমার এখানে এক কাপ চা খাবো, আফজালকে একটু খবর দিও।’ আমাকে প্রায় বলতো, আমার ছাত্রলীগটা কর, একটু ঠিকভাবে কর। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধু আমাকে কুমিল্লা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজী জহিরুল কাইয়ুককে খুব মানতেন। আমি দেখতাম কাজী জহিরুল কাইয়ুম যা আবদার করতেন শেখ মুজিবুর রহমান মাথা নেড়ে সম্মতি দিতেন।
জাতীয় শোকদিবস ও ১৫ আগস্টকে নিতে অ্যাডভোকেট আফজল খান বলেন, রাতে বাড়ি আসলাম। একটু পর আজিজ ভাই আমাকে কল দিয়ে বললো, কী একটা খবর পাইতাছি, তুই বাসা থেকে বের হওয়ার দরকার নেই। আজিজ ভাই ভোর ৫টার দিকে আমাদের বাসায় এসে বললো, আহারে বঙ্গবন্ধুকেতো মেরে ফেলা হয়েছে। তারপর আমি রেডিও অন করলাম। শব্দ আসছে আমি মেজর ডালিম বলছে, খুনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। পর আজিজ ভাই বলতেছে আমাদেরকেও মেরে ফেলবে, চল আমরা পালিয়ে যাই। গেলাম লালমাই, পরবর্তীতে রওনা দিলাম বরুড়া আজিজ ভাইয়ের শ্বশুর বাড়ি। বরুড়া বাজারে গেলাম সন্ধ্যা হয়ে গেল, অন্ধকারে মানুষ বাজার থেকে যাওয়া-আসা করে আর বলে কুমিল্লা থেকে আফজাল খান আর আজিজ সাহেব আসছে। তখন কিন্তু আমাদের মুখ ঢাকা। হঠাৎ তখনকার সময়ের ক্যান্টনমেন্ট মসজিদের ইমাম আমাকে দেখে বলে, কোথায় যাও? উনি আমার শ্বশুরের আত্মীয় ছিল। পরে আমাদেরকে নিয়ে ইচ্ছামতো সমাদর করতে দেখে আজিজ ভাই বলে আজই মনে হয় আমাদের শেষ দিন। যেভাবে খাওয়াচ্ছে, খাওয়া দাওয়ার পর মনে হয় আমাদেরকে মেরে ফেলবে।

বঙ্গবন্ধু পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে উৎসাহ দিতেন- আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার
কুমিল্লা ৬ অঅসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তখন আমি ঢাকায় ছিলাম। আমি এবং আমার বন্ধু আকবর কবির ও অ্যাডভোকেট সেলিম রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে ছিলাম ১৪ আগস্ট রাতে। কারণ ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসবেন এবং বক্তব্য দিবেন। আমাদের প্রস্তুতি ছিল বঙ্গবন্ধু ক্যাম্পাসে আসলে দেখা এবং সাক্ষাৎ হবে। খুব অপেক্ষায় ছিলাম সেই সকালটির জন্য। কিন্তু মেজর ডালিমরা তা হতে দেয়নি। সকাল বেলায় রেডিও বাংলায় মেজর ডালিমের কণ্ঠে শুনতেছি আমি মেজর ডালিম বলছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঢাকায় কারফিউ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সারা শহরে ট্যাংক নামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তারা সুবিধা করতে পারিনি। একটু পর হঠাৎ শুনতে পেলাম শুধু বঙ্গবন্ধু নয় শেখ কামাল, শেখ রাসেলসহ পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে ডালিমরা।
এমপি বাহার বলেন, বঙ্গবন্ধু সারাদেশ চষে বেড়াতেন। বঙ্গবন্ধু কুমিল্লার ওপর দিয়ে বিভিন্ন জেলায় যাওয়া-আসা করাতে কুমিল্লায় আসা পড়তো বেশি। কুমিল্লা সার্কিট হাউজে আসলে আমরা দেখা করতে যেতাম। পাশে বসিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন। সংগঠনের খোঁজখবর নিতেন। বার বার উৎসাহ দিতেন। বঙ্গবন্ধু একবার বুড়িচং এসেছিলেন। শারিরীকভাবে একটু অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় বুড়িচং অনেক দিন ছিলেন। আমরা গিয়ে গিয়ে দেখা সাক্ষাৎ করতাম।