সোমবার ২৪ †m‡Þ¤^i ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » sub lead 1 » সক্রিয় আওয়ামী লীগ, নির্বাচনের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন নেতারা


সক্রিয় আওয়ামী লীগ, নির্বাচনের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন নেতারা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.08.2018

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে জোরেশোরে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছে ক্ষমতাসীন দলটি। দিনে দিনে প্রচারণার মাত্রা আরও বাড়ানো হবে। দলটির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ কথা জানা গেছে।

অবশ্য দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই অন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। সেই হিসেবে তারা সব সময়ই নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে মাঠে রয়েছে। আর তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এ বছরের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় রয়েছে। ক্রমে এই গতি বাড়ছে। আগামীদিনেও বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ আগামী ২৮ জানুয়ারি শেষ হবে। সে অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের তফসিল হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ফলে নির্বাচনের জন্য আর মাত্র চার মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ১৫টি টিমে বিভক্ত হয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন। ওই টিম এরই মধ্যে সাংগঠনিক জেলায় সফর শেষ করেছে। এছাড়া দলের প্রতিটি সংসদীয় আসনে দলের নেতারা যাচ্ছেন; বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ জনগণ যেন আবারও নৌকায় ভোট দেন সে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর বাইরে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করছেন। প্রথমে তিনি বিভাগীয় শহরগুলোতে যান। এখন তিনি জেলা পর্যায়ে সফর করছেন। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের আগপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চলবে বলে জানা গেছে।

এদিকে নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন ও ভোটকক্ষে দলের পক্ষে দায়িত্ব পালনে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

নিজের সফর, সাংগঠনিক সফর ছাড়াও শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঈদের আগেও তিনি সবাইকে এলাকায় গিয়ে ঈদ উদযাপনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ দেন সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির কথা জনগণকে জানাতে।

জানা গেছে, নেতাকর্মীরা যাতে এলাকায় যেতে পারেন সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করে দেন। সে সময় তিনি নেতাদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা সবাই যার যার এলাকায় চলে যান। সরকার কী কী উন্নয়ন কাজ করেছে, তা তুলে ধরেন। জনগণ খুশি হয়ে ভোট দিলে আমরা ক্ষমতায় যাবো। না হলে নেই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এবার কোরবানির ঈদের দুই-তিনদিন আগেই ঢাকা ছেড়েছেন। ঈদের পরেও তারা কয়েকদিন এলাকায় থাকছেন। তারা ঈদের দিন ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামীদিনেও এটি অব্যাহত থাকবে।

জানতে চাইলে পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সব সময়ই এলাকার জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি আগেভাগেই এলাকায় এসেছেন। ঈদের আগে তিনি একাধিক স্থানে জনসংযোগ করেছেন। ঈদের দিন সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আরও কয়েকদিন এলাকায় থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাবেন। সরকারের উন্নয়নের কথা বলে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কোরবানির ঈদের আগেই একদফা নিজ নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে এসেছেন। ঈদের দিন ঢাকায় নামাজ আদায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি আবারও ছুটে গেছেন এলাকায়।

বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। দলীয় সভাপতি তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে ঢাকায় ডেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের পরে আমরা এর ফলোআপ বৈঠক করবো। আর আমাদের যারা প্রার্থী তারাও যার যার মতো করে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে। ঈদের সময়ও তারা প্রচারণায় চালিয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দলের সংসদ সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান ঈদের দিন ঢাকায় থাকলেও ঈদের আগে টানা চারদিন এলাকায় ছিলেন। এসময় তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। জনগণের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। সরকারের উন্নয়নের কথা বলেন। নৌকার জন্য ভোট চান।

ফারুক খান বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সব সময়ই নির্বাচনমুখী। কাজেই প্রতিটি পদক্ষেপই নির্বাচনি প্রস্তুতির মধ্যে পড়ে। আমি নিজেই এবার ঈদের আগে এলাকায় গিয়ে জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছি। নির্বাচনি প্রচারণা আমাদের অব্যাহত রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এর মাত্রা আরও বাড়বে।’