রবিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯


স্বজনদের খাবার পৌঁছেনি খালেদা জিয়ার কাছে ঈদের দিন সাক্ষাৎ পাননি বিএনপি নেতৃবৃন্দ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.08.2018

কারাবন্দি থাকা অবস্থায় চতুর্থ ঈদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। তাই এদিনটিতে দলটির নেতাকর্মীরা কারাগারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান বরাবরের মত। তার পরিবারের স্বজনরাও খালেদা জিয়ার পছন্দের খাবার নিয়ে যান কারাগারে। সাক্ষাৎ প্রার্থী স্বজনদের মধ্যে ছয়জনকে কারা কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেও সাক্ষাতের অনুমতি মেলেনি দলের সিনিয়র নেতাদের।

এর আগে ঈদের দিন সকালে খালেদা জিয়ার নামে একটি গরু ও দুটি ছাগল কোরবানি দেওয়া হয়। গুলশান ২-এর বাসভবন ফিরোজায় পশু তিনটি কোরবানি দেওয়া হয়। এ কোরবানি তত্ত্বাবধান করেন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী আবদুস সাত্তার বিষয়টি জানান।

আর খালেদা জিয়ার জন্য ঘরের তৈরি খাবার নিয়ে পরিবারের সদস্যরা যান কারাগারে। তারা যে খাবার তার জন্য নিয়ে যান তা পৌঁছাতে পারেনি বলে অভিযোগ চেয়ারপারসনের মেজো বোন সেলিমা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের তৈরি রান্না করা খাবার নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু আমাদের তা ভেতরে নিয়ে যেতে দেয়নি। আমরা যখন উপরে গেলাম, তখন খালেদা জিয়া জানতে চাইলেন, বাকি আত্মীয়-স্বজনেরা কোথায়? আমরা তাকে বলেছি, আমরা ২০ জন যেতে অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের ছয়জনকে ভেতরে যেতে অনুমতি দেওয়া হয়।

মেজো বোন সেলিমা ইসলাম, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, তার মেয়ে জাহিয়া রহমান, বড় ভগ্নিপতি রফিকুল ইসলাম, তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের বোন শাহিনা খান জামান ও খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দরের স্ত্রী নাসরিন ইস্কান্দর দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। সেলিমা ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার শরীর অনেক খারাপ। ঈদের দিন বিকাল পর্যন্তও কিছু খাননি তিনি।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের দিন খালেদা জিয়াকে বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। তবে তিনি স্বজনদের দেয়া খাবার খেয়েছেন।

এরআগে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে গেলেও কারাফটক পর্যন্তও তারা পৌঁছাতে পারেনি পুলিশের বাধায়।

ব্যারিকেডের কাছে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে মির্জা ফখরুল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠি দেখালেও কর্মকর্তারা জানান, কারও সাক্ষাতের বিষয় তাদের জানা নেই। পরে পুলিশের ব্যারিকেডের পেছনে আধঘণ্টার মতো অবস্থান শেষে বিএনপির নেতারা ফিরে যান। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ফখরুল কারা কর্তৃপক্ষের এ আচরণের নিন্দা জানান।