সোমবার ২৪ †m‡Þ¤^i ২০১৮
  • প্রচ্ছদ » Uncategorized » ‘চিকিৎসার ব্যয়ের কারণে সন্তানকে ফেলে চলে যাই’ দায়িত্ব নিলো প্রশাসন


‘চিকিৎসার ব্যয়ের কারণে সন্তানকে ফেলে চলে যাই’ দায়িত্ব নিলো প্রশাসন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.09.2018


মাহফুজ নান্টু।।

১২দিন পর মায়ের দেখা পেলেন সেই শিশুটি! বুধবার দুপুরে শিশুটির মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
সূত্র জানায়, কুমিল্লা ঝাউতলায় মা ও শিশু হাসপাতালে ছাব্বিশ সপ্তাহের পর ভূমিষ্ঠ এক অপরিপক্ক সন্তানকে বাঁচানোর জন্য ভর্তি করান। ছয় দিনে প্রায় একলাখ টাকার বিল দেখে দরিদ্র শাহ আলম ও রোকেয়া বেগম দম্পত্তি তাদের সন্তানকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পালিয়ে যাওয়া বাবা-মা’র সন্ধানে নামে পুলিশ। এদিকে শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল ব্যয় নির্বাহের আশ্বাস দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো.আবুল ফজল মীর,পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও জেলা সিভিল সার্জন ডা.মুজিবুর রহমান।
সন্তানকে কেন ফেলে রেখে চলে গেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে শিশুটির মা রোকেয়া বেগম বলেন,আমার স্বামী দিন মজুর। ২০০৭ সালে আমাদের বিয়ে হয়। তারপর আমাদের দুটি সন্তান হলেও একটি সন্তানও বাঁচেনি। প্রথম সন্তানটি জন্মের তিন পরেই মারা যায়,দ্বিতীয় সন্তানটি জন্মের দশ দিন পর মারা যায়। এবার যখন আমাদের তৃতীয় সন্তানটিও সাত মাসে জন্ম নেয়। তখন আমরা আমাদের সন্তানটিকে বাঁচানোর জন্য এই হাসপাতালে ভর্তি করাই। পরে হাসপাতালের ছয় দিনে চিকিৎসার বিল এক লাখ টাকার মত হয়। বিল বেশি হলে আমরা স্বামী স্ত্রী চিন্তায় পড়ি। দারিদ্রের কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে বাচ্চাটিকে রেখে আমরা চলে যাই। এছাড়াও আমাদের সন্তানটি বাঁচবে তাও ভাবতে পারিনি। আমাদের সন্তানটিকে হাসপাতালে রেখে লুকিয়ে চলে যাওয়ার সময় আমি ও আমার স্বামী পুরোটা রাস্তায় কান্না করেছিলাম। তারপর বাড়ি ফিরে আমার স্বামী অনেকটা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আল্লাহ আমার সন্তানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং সকলের সহযোগিতায় আমি আমার সন্তানটিকে ফিরে পেয়েছি এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
এদিকে হাসপাতালের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বদিউল আলম চৌধুরী এবং হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তানজিদা চৌধুরী সম্পা জানান, গত ১৮ আগস্ট হাসপাতালে এসেছিলেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের শাহ আলম ও রোকেয়া বেগম দম্পতি। এখানে রোকেয়া বেগমের ছেলে সন্তান জন্ম হয়। পরে ২৪ আগস্ট বিকেল বেলা থেকে এই দুজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চাটির তখন থেকে আমাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জানানোর পর বুধবার শিশুটির মা রোকেয়া বেগম সন্তানকে ফিরে পেতে হাসপাতালে আসেন। তবে শিশুটির বাবা শাহ আলম আসেননি।
এদিকে শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর,পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এবং জেলা সিভিল সার্জন ডা: মজিবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর জানান, বিষয়টি যখন গণমাধ্যমে জানলাম তখন থেকে জেলা পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলি। তারপর পুলিশ ওই দম্পতির ঠিকানা খুঁজে বের করেন। শিশুটির মা এসেছে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় বহন করবো।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, দারিদ্রের কারণে একটি শিশু সন্তানকে চিকিৎসার খরচ না চালিয়ে বাবা মা হাসপাতাল থেকে চলে যায়। বিষয়টি খুব নাড়া দেয়। আমরা কুমিল্লা পুলিশের কর্মকর্তারা এ শিশুটির চিকিৎসার জন্য একটি ফান্ড গঠন করেছি। শিশুটির চিকিৎসার জন্য এ দম্পত্তিকে আর ভাবতে হবে না।
জেলা সিভিল সার্জন ডা:মজিবুর রহমান জানান, এমন অপরিপক্ক বয়সের শিশুর চিকিৎসা খুব ব্যয় বহুল। সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকহীন শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেন। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাকে আশ্বস্থ করেছে সর্বনি¤œ ব্যয়ে চিকিৎসা দিবে শিশুটিকে। সেক্ষেত্রে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও সকল সহযোগিতা করা হবে।