সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮


সুরে ছন্দে উদ্বেলিত হলো কুমিল্লাবাসী-


আমাদের কুমিল্লা .কম :
09.09.2018

মাহফুজ নান্টু:
বেলা আড়াইটা। কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের সবগুলো ফটকের আশেপাশে কিশোর-কিশোরী তরুণ-তরুনীদের ভীড়। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ বেলা চারটায় (গতকাল) “অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ” শিরোনামে উন্নয়ন কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। তার আগেই পুরো স্টেডিয়ামের গ্যালারী মাঠে দর্শকে তিল ধারণের ঠাই নেই। বেলা সাড়ে চারটায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া উন্নয়ন কনসার্টে লেজার শো-আঁতশবাজির আলোকচ্ছটা ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের গানের সুরে ছন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠে গোটা স্টেডিয়াম এলাকা।

বিকেল সাড়ে চারটা। অনুষ্ঠান শুরু হয় । উন্নয়ন কনসার্ট। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে প্রথম অংশে স্থানীয় শিল্পীরা পারফর্ম করেন। নাট্যভিনেত্রী তানিয়া তার সাথে ফুয়াদের সঞ্চালনায় মঞ্চে আসেন অতিথী শিল্পীরা। বাউল শিল্পী পিন্টু ঘোষের গানে বিমোহিত করে। শরতের শেষ বিকেলে বাউল শিল্পী পিন্টু পরিবেশন করেন যাবে যদি উড়ে দূরে নীল অজানাতে,সোনার ময়না ঘরে থুইয়া বাইরে তালা লাগাইছে,তোমার দিলকি দয়া হয় না গানগুলো দর্শক হৃদয় ছুয়ে যায়।তারপর সন্ধ্যা নামে। বিরতি দেয়া হয় মাগরিবের নামাজের। তারপরেই আসেন এলআরবি খ্যাত ব্যান্ডদল। গিটারের তার ছুয়ে এলআরবির ভোকাল আইয়ুব বাচ্চু শুরু করেন মেয়ে তুমি কি আকাশ চেনো-মন চাইলে মন পাবে গানগুলো তরুন-তরুনীদের উদ্বেলিত করে। এরপর আসে কনা। নেচে গেয়ে জোয়ার উঠে গোটা স্টেডিয়ামে।

সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত উন্নয়ন কনসার্টে বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আ.ক.ম বাহা উদ্দিন,সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস,জেলা প্রশাসক মো:আবুল ফজল মীর,পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি সদর আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাজী আ.ক.ম বাহা উদ্দিন বলেন আজ আমরা কুমিল্লাবাসী যে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান উপভোগ করছি সে স্টেডিয়ামটি কুমিল্লার সন্তান যিনি প্রথম পাকিস্থানের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবী জানিয়েছেন। এই কুমিল্লা থেকে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয়। তিনি আরো বলেন আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে চলে যেত। কুমিল্লা শচিন দেব বর্মণের, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ ,নজরুলের কুমিল্লা সমৃদ্ধ মহাত্মা গান্ধির পদচারণায়-ওস্তাদ আয়াত আলীর খানের। এই কুমিল্লা এখন ইভটিজিং-সন্ত্রাসমুক্ত।একদিন যেই পাকিস্থান আমাদের শোষণ করেছিলো আজ সেই পাকিস্থান উন্নত দেশ নয় তারাও এখন বাংলাদেশ হতে চায়। পরে তিনি জাতির জনকের নামে সম্মিলিত সুরে স্লোগান দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মান্নান ইলিয়াস সংস্কৃতি মন্ত্রী আছাদুজ্জামানের পক্ষ থেকে কুমিল্লাবাসীকে ধন্যবাদ দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আজকের এই দিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কথা মনে পড়ে। যিনি এই স্বপ্নের সোনার বাংলা দেখতে চেয়েছেন। আজ আমরা জলে স্থলে অন্তরীক্ষে আমাদের নাম লেখাতে সামর্থ্য হয়েছি।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, আজ কুমিল্লাবাসীকে ধন্যবাদ জানাই এত সুশৃংখলভাবে অনুষ্ঠানে অবস্থান করার জন্য। কুমিল্লা যে শিক্ষা সংস্কৃতির পাদপীট তা আজ আবারও প্রমান হলো।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডগুলো এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো ভিডিও আকারে পরিবেশন করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন সময়ের ভাষণগুলো পরিবেশন করা হয়। বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ দেশ নয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণও সম্প্রচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভাষনে বলা হয় বঙ্গবন্ধু বেঁেচে থাকলে অনেক আগেই উন্নত দেশের কাতারে চলে যেত বাংলাদেশ।

পরে রাত সাড়ে নটায় আঁতশবাজি ও লেজার শো অনুষ্ঠিত হয়। তারপরেই পরে মঞ্চে আমন্ত্রন জানানো হয় নগর বাউল খ্যাত ব্যান্ডদলকে। ব্যান্ডদলের প্রধান মাহফুজ আনাম জেমস তার গান পরিবেশন করেন। গান পরিবেশন করেন অন্যান্য আমন্ত্রিত শিল্পিরা।