সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ »আজকের পত্রিকার নিউজ » দৌলতপুরে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভগ্নিপতিকে হত্যার অভিযোগ হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার:শরীরে আঘাতের চিহ্ন


দৌলতপুরে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভগ্নিপতিকে হত্যার অভিযোগ হাত বাঁধা ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার:শরীরে আঘাতের চিহ্ন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.09.2018


মাসুদ আলম
কুমিল্লা শহরতলীর দৌলতপুরে গিয়াসউদ্দিন (৫০) নামের এক গৃহকর্তার হাত বাঁধা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদকে কেন্দ্র করে স্ত্রী ও স্ত্রী’র বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম গিয়াসউদ্দিনকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অপর দিকে স্ত্রীর স্বজনদের ভাষায় গিয়াসউদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।
সূত্র জানায়, নিহত গিয়াসউদ্দিন বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকার দুর্গাপুর (নোয়াপাড়া) গ্রামের তোফায়েল আহম্মেদের ছেলে। বেশ কয়েক বছর আগে গিয়াস দৌলতপুর ছায়া বিতান রেল-লাইনের পশ্চিম পাশে ‘সৌদিয়া হাউজ’ নামক তিন তলা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তিনি ওই বাড়ির নিচতলায় ‘সৌদিয়া টেইলার্স’ নামের দোকান খুলে দর্জির কাজ করতেন। তার বাড়ির পশ্চিম পাশ ঘেষে যৌথ সিঁড়িতে রয়েছে স্ত্রী’র বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলমের চার তলা ‘মোল্লা হাউজ’ নামের বাড়ি। মাহে আলম কুমিল্লা সদর উপজেলার হরিপুর গ্রামে মৃত আবদুল মালেকের ছেলে। তিনি বর্তমানে লক্ষীপুর একটি ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান তার স্ত্রী খোদেজা আলম।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে গিয়াসউদ্দিন ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগমের সাথে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রী ও তার বড় ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম মিলে গিয়াসকে মারধর করে হাত বেঁধে বাসার সামনে ডোবার (রেলওয়ের জায়গার পানি জমে থাকা গর্ত) মধ্যে ফেলে রাখে। দুপুর ১টার দিকে বাড়ির নিচতলায়‘সৌদিয়া টেইলার্স’ থেকে হাত বাঁধা গিয়াসউদ্দিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গিয়াস উদ্দিনের এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়ে বিবাহিত ও শিশু পুত্র অশোকতলা ইকরা স্কুলে পড়াশুনা করে।
পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলমের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।
তবে তার স্ত্রী খোদেজা আলম জানান, গিয়াসউদ্দিন মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। সে প্রায়ই স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ করত। আজ (মঙ্গলবার) সকালে তারা আবারো ঝগড়া করে। সে আমার ননদকে (সাজেদা বেগম) মারধর করে। আমার স্বামী তার বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান, ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রী তাকে মারধর করে হাত বেঁধে ডোবায় পেলে রাখে। সেই রাগে-ক্ষোভে গিয়াসউদ্দিন সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।
নিহতের ভাই কবির হোসেন জানান, আমার ভাইকে হত্যা করেছে তার স্ত্রী সাজেদা বেগম ও তার ভাই পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম। গত কিছু দিন আগে বোনের স্বামী গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা মাহে আলম বাড়ির জায়গা ক্রয় করে। দীর্ঘদিন হয়ে গেলও সম্পত্তির কোন টাকা দেয়নি। সকালে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাখে। তারপর তাকে হত্যা করে পাখার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। ঝুলন্ত অবস্থায় তার হাত বাঁধা ছিলো। হাত বাঁধা অবস্থায় কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না। এছাড়া তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তারা নাকি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সাথে কথা বলেছে।
কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন জানান, দুপুরে কুমিল্লা দৌলতপুর রেলওয়ে রোড এলাকার একটি বাসা থেকে এক গৃহকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আত্মহত্যা না হত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে ফেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে এই ঘটনায় মৃত গৃহকর্তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।