সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ »sub lead 2 » অনলাইন সেবায় নতুন দিগন্তে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড


অনলাইন সেবায় নতুন দিগন্তে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড


আমাদের কুমিল্লা .কম :
13.09.2018

তৈয়বুর রহমান সোহেল।।
অনলাইন সেবায় নতুন দিগন্তের সূচনা করছে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। গত দুই বছরের প্রচেষ্টায় বোর্ডের সেবা কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। অনলাইনে পরীক্ষক নিয়োগ, অনলাইনে পরীক্ষকদের বেতন ও অনলাইনের ফরম পূরণসহ বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে এ শিক্ষাবোর্ডে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সকল সেবাকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে যাচ্ছে বোর্ড। অনলাইন সেবার পাশাপাশি অন্যান্য খাতেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে। বেড়েছে পরীক্ষকদের সম্মান ও সম্মানীভাতা।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষার প্রধান পরীক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়েছে। অনলাইনে নিয়োগপত্র প্রদান ও মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পাদন হয়। ২০১৫ সালের জেএসসি হতে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের সম্মানী সোনালী ব্যাংকের অনলাইন হিসেবের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের জেএসসি, ২০১৬ ও ২০১৭ সালের এসএসসি এবং ২০১৬ ও ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পারিশ্রমিক ব্যাংকের মাধমে দেওয়া শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের এসএসসি হতে সকল প্রশ্নপ্রণেতা মডারেটর, প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক ও নিরীক্ষকদের পারিশ্রমিক অনলাইনে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ২০১৭ সালের এইচএসসি ও ২০১৮ সালের ব্যবহারিক পরীক্ষার বিলও কেন্দ্রে পরিশোধ করা হয়েছে। প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক ও নিরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা ২০১৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি থেকে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন, ফরম পূরণের পর ফি ও প্রিন্ট আউটের কোনো হার্ডকপি বোর্ডে জমা নেওয়া হয় না, যার কারণে শিক্ষকদের হয়রানি ও অর্থিক ক্ষতি কমেছে। ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষা হতে সকল বোর্ড পরীক্ষায় উত্তরপত্র মনোগ্রামযুক্ত চটের ব্যাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে। সূত্র আরো জানায়, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত জেএসসির ২৬ হাজার ৭২১জন পরীক্ষক, ১হাজার ৬১৪ জন প্রধান পরীক্ষক ও ১ হাজার ৬৯ জন নিরীক্ষক; ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসএসসির ২৩ হাজার ৮১৩জন পরীক্ষক, ১৪১২ জন প্রধান পরীক্ষক ও ৯৪১ জন নিরীক্ষক এবং এইচএসসির ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৬ হাজার ২৭১জন পরীক্ষক ও ৪৯০ জন প্রধান পরীক্ষকের সম্মানী সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সেবার মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ৩ হাজার ২৫২ জন পরীক্ষক, ২৩৮ জন প্রধান পরীক্ষক ও ৪৫৯ জন নিরীক্ষকের সম্মানী অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অনলাইনে ই-নথি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গত ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। বোর্ড পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র উত্তোলন ও সংশোধনের বিলও অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ব্যাংকে অনলাইনের মাধ্যমে সম্মানী প্রাপ্তির বিষয়ে শ্রীবাস চন্দ্র দাস নামে গণিতের এক পরীক্ষক জানান, বোর্ডের অনলাইন সেবার কারণে বিল পেতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। এতে করে হয়রানি কমেছে। বোর্ডের সেবা কার্যক্রমকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রশংসার দাবিদার।
ইংরেজির পরীক্ষক এবিএম শাজাহান বাহাদুর জানান, বোর্ডের অনলাইন কার্যক্রম চমৎকার। তবে ভ্যাটের হার আরেকটু কমালে শিক্ষক সমাজ উপকৃত হতো।
সোনালী ব্যাংক কুমিল্লার বিআইএসই ব্রাঞ্চের ম্যানেজার বিপ্লব বণিক জানান, আগে বিল পরিশোধ করতে আমাদের খুব চাপে পড়তে হতো। এখন অনলাইনে বিল পরিশোধের কারণে আমাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমে গেছে।
বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানান,অনলাইনে সেবা দেয়ায় দুর্গম হাতিয়া,নাসিরনগর কিংবা নবীনগরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমেছে। এই কার্যক্রম শুরুর সময় আমরা নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়ি। চেয়ারম্যান মহোদয়সহ বোর্ডের সকল কর্মকর্তার আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সহযোগিতার কারণে আমরা অনলাইন সেবায় অগ্রগতি পেয়েছি। পুরো প্রক্রিয়াটিকে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে শতভাগ সফল হবো। যার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ বিষয়ে কথা হলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, এ বোর্ডে ডিজিটাল সেবা কার্যক্রম পরিচালনা বর্তমান সরকারের বিশাল সফলতার উল্লেখযোগ্য অবদান। অনলাইনের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাগণ প্রতিষ্ঠান বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে তাদের শ্রম, অর্থ ও সময় সবকিছুই সাশ্রয়ী হবে। তারা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম হবে। চেষ্টা করবো আগামী ৬ মাসের মধ্যে বোর্ডের সকল কার্যক্রম ডিজিটাল অটোমেশনে নিয়ে আসার জন্য। আমাদের লক্ষ হচ্ছে, একজন শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থেকে শুরু করে তার যাবতীয় কাগজপত্রসহ পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা অনলাইনের মাধ্যমে অবহিত করা। আমরা ই-ফাইলিং কার্যক্রমও হাত নিয়েছি। আশা করছি ৬ মাসের মধ্যে ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে বোর্ডের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সেবা দ্রুততম সময় এবং আর্থিক সাশ্রয়ের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারবো।