সোমবার ২২ জুলাই ২০১৯


কুমিল্লার দুই উপজেলায় তিন গৃহবধূকে হত্যা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
24.10.2018

স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার দেবিদ্বার ও তিতাসে তিনজন গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীর পরিবারের নির্যাতনে সাহিদা বেগম নামের এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের আসরা গ্রামের গাজী বাড়িতে।
ওই ঘটনায় নিহতার ভাই খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে নিহতের স্বামী আবু কাইছার মিয়া(৩০), দেবর শাহ আলম(২৭), শাশুড়ি জামিলা বেগম(৫৫), শ্বশুর মনু মিয়াকে(৬০) অভিযুক্ত করে মঙ্গলবার দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দেবর, শাশুড়িকে গ্রেফতারের পর কোর্ট হাজতে চালান করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত গৃহবধূ সাহিদা বেগম(২১) উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের আসরা গ্রামের গাজী বাড়ির আবু কাউছারের স্ত্রী। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিসহ নানা কারণে পারিবারিক কলহ লেগে ছিল। সোমবার সাহিদা তার মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার সময় জানতে পারেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত তার পিতার শারিরীক অবনতি ঘটলে সাহিদাকে শেষবারের মতো দেখে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। সাহিদা মঙ্গলবার সকালে পিতাকে দেখতে আসবে বলেও জানিয়ে দেন। ওই ফোনালাপ শুনে সাহিদার স্বামী পিতার বাড়িতে যেতে নিষেধ করেন। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্বামী তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে দেবর, ভাসুর, শ্বশুর, শাশুড়িও আরেক দফা মারধর করেন। কথা না শোনায় স্বামী কাউছার আবারো তাকে এলোপাথারী মারধর করে গলা টিপে ধরায় এক পর্যায়ে সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

দেবিদ্বার থানার ওসি মোঃ জহিরুল আনোয়ার বলেন, ছোরতহাল রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রাপ্তির পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে কুমিল্লার তিতাসে এক গৃহবধূকে হত্যা এবং অন্য গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পৃথক স্থান থেকে মঙ্গলবার দুই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে তিতাস থানা পুলিশ। উপজেলার উলুকান্দি গ্রামের জর্ডান প্রবাসী আলেক মিয়ার স্ত্রী শাহিনা আক্তার (৩৮) এবং রাইপুর গ্রাম থেকে আব্দুল করিমের স্ত্রী আলেয়া বেগমের (৫০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সরজমিনে এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের জর্ডান প্রবাসী অলেক মিয়ার স্ত্রী মোসা. শাহিনা আক্তার তার অজ্ঞাত কারণে ছোট বোনের স্বামী নাজমুল হোসেনের বাড়ির রান্না ঘরের খুঁটির সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, এটি আত্মহত্যা নয়; হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে সোমবার রাতে উপজেলার রায়পুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন সওদাগরের গাছের ডাব চুরি করে পুরানবাতাকান্দি গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে আল আমিন (৩০), আলমগীরের ছেলে মো. শাকিল (২৯), এবং রাজের ছেলে আবুল কালামসহ ৭/৮ জন। এতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে গিয়াস উদ্দিন সওদাগরের স্ত্রী মেনোয়ারা বেগম (৫২), তার ছেলে জাহাঙ্গীর (৩২), আনিস (২৯) ও মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২৫) এবং আব্দুল করিম সওদাগরের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫০) পিটিয়ে আহত করে। এদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে আলেয়া বেগম মারা যায়। অন্যদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ ব্যাপারে তিতাস থানার ওসি সৈয়দ মো. আহসানুল ইসলাম জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে থানা আনা হয়েছে। বৃদ্ধ মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। শাহিনা আক্তারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হলেও বৃদ্ধ মহিলা মৃতে্যুর ঘটনায় কোন অভিযোগ দাখিল করেনি।