সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ »sub lead 1 » নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হোমনা-মেঘনায় থামেনি ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন


নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হোমনা-মেঘনায় থামেনি ডিমওয়ালা ইলিশ নিধন


আমাদের কুমিল্লা .কম :
28.10.2018

মোর্শেদুল ইসলাম শাজু, হোমনা ।।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কুমিল্লার হোমনা-মেঘনা উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী আরও দুইটি উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীতে নির্বিঘেœ চলেছে ডিমওয়ালা ইলিশ ও জাটকা শিকার। কুমিল্লার হোমনা, মেঘনা, নারায়ণগঞ্জ জেলার- আড়াইহাজার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এক শ্রেণির অসাধু ও অতি লোভি জেলেরা নিয়মিত কারেন্ট জাল ফেলে নিধন করছে এ সব ডিমওয়ালা মা ইলিশ ও জাটকা। পাশাপাশি প্রশাসনের অভিযানও ছিল। বিভিন্ন সময়ে হোমনা ও মেঘনা উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত অভিযানে ২১ কেজি ইলিশ মাছ, পাঁচ হাজার সাত শ’ মিটার জাল জব্দ ও ধংস করাসহ পাঁচ জন জেলেকে ভ্রাম্যামাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং তাদের ব্যবহৃত চারটি নৌকা আটক করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আগামীকাল সোমবার।
সরজমিন গত দুই তিন দিনে হোমনা ও মেঘনা উপজেলার পার্শ¦বর্তী এলাকাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে গিয়ে দেখা গেছে, জেলেরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে নদীতে অবাধে জাল ফেলে মাছ শিকারে ব্যস্ত রয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা ছবি উঠাতে গেলে- ওই সব অসাধু জেলেরা তাদের জাল ফেলে তরিঘড়ি করে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়। হোমনা উপজেলার- শ্রীমদ্দি, চরেরগাঁও, লটিয়া, মেঘনা উপজেলার- তালতলী, চন্দনপুর, শাপমারা, মুগারচর, পাড়ারবন্দ, মহিশারচর, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার- কানাইনগর, কড়িকান্দি, খাশনগর, বাহেরচর, মায়ারামপুর, আড়াইহাজার উপজেলার- কদমীরচর, কালাপাহাড়িয়া, খালিয়ারচর, মধ্যারচর এলাকায় জেলেরা দিনে-রাতে এ সব মা ইলিশ ও জাটকা শিকার করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানায়, দুইশ থেকে ৫শ গ্রাম ওজনের ইলিশের সঙ্গে দেশীয় নানান প্রজাতির ছোট বড় অনেক মাছও ধরা পড়ছে। তবে জাটকা ইলিশের পরিমান ছিল বেশী। আবার এদের মধ্যে প্রায় সবগুলোই ছিল ডিমওয়ালা। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানও ছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তবে প্রশাসনের নজরদারি ছিল অপ্রতুল। এরপরও থেমে থাকেনি ডিমওয়ালা ইলিশ ও জাটকা নিধন।
স্থানীয় এক বৃদ্ধ জানায়, অবৈধভাবে শিকার করা ওই সব জাটকা ও ডিমওয়ালা ইলিশগুলো জেলেরা নিজে অথবা ফরিয়াদের মাধ্যমে গ্রামে-গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় হেঁটে হেঁটে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করছে। দুই শ’ থেকে আড়াই শ’ গ্রামের জাটকা ইলিশ ১শ থেকে দেড় শ টাকা হালি, ৪শ-৫শ গ্রামের ওজনের ইলিশ মাত্র তিন শ’ থেকে চার শ’ টাকা হালিতে বিক্রি করছে। এই সময়ের মধ্যে যদি কেউ ওই সব ইলিশ মাছগুলো জেলেরা না ধরত তাহলে, বিশ দিনেই তা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের মাছের চাহিদা পূরণ করে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
হোমনা উপজেলা মৎস্য অফিসার কারিশমা আহমেদ জাকসি জানান, আমরা কয়েক দিন নদীতে অভিযান চালিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫ কেজি ইলিশ মাছসহ ৫ জন জেলেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, পাঁচ হাজার সাত শ’ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও ধংস করে তাদের ব্যবহৃত ব্যবহৃত চারটি নৌকা আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি বলেন, আমরা কয়েক দিন নদীতে অভিযান চালিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলীর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫ কেজি ইলিশ মাছসহ ৫ জন জেলেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, পাঁচ হাজার সাত শ’ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও ধংস করাসহ তাদের ব্যবহৃত ব্যবহৃত চারটি নৌকা আটক করেছি।
মেঘনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সজীব ভট্টাচার্য জানান, আমাদের লোকবল কম হওয়ায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এ মাসে চারদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম মোসা’র সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ষোল কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে তা এতিম খানায় দিয়ে দিয়েছি। এছাড়া নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করেছি।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ইলিশ শিকার, বিক্রয় ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। আগামীকাল সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে।