সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮


নাঙ্গলকোটে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা


আমাদের কুমিল্লা .কম :
04.11.2018


তাজুল ইসলাম,নাঙ্গলকোট
নাঙ্গলকোটে স্বামী স্ত্রী খালেদা আক্তারকে (২৩) গলা টিপে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার ভোর রাতে নাঙ্গলকোট পৌরসভার পূর্ব দৈয়ারা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত খালেদা আক্তার নাঙ্গলকোট পৌরসভার পূর্ব দৈয়ারা গ্রামের মোবারক হোসেনের মেয়ে। ঘাতক স্বামী মোজাম্মেল হোসেন রাজন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের ষাটিশক গ্রামের নুরে আলমের ছেলে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। একইদিন দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার হাসানপুর রেল স্টেশন এলাকা থেকে ঘাতক স্বামী মোজাম্মেল হোসেন রাজনকে আটক করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছর পূর্বে নাঙ্গলকোট পৌরসভার পূর্ব দৈয়ারা গ্রামের মোবারক হোসেনের মেয়ে খালেদা আক্তারের সাথে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ ইউনিয়নের ষাটিশক গ্রামের নুরে আলমের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন রাজনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় খালেদার পরিবার জমি বিক্রি করে যৌতুক হিসাবে মোজাম্মেল হোসেনকে নগদ এক লক্ষ টাকা ও আসবাবপত্র প্রদান করেন। বিয়ের পর থেকে মোজাম্মেল স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরালয়ে বসবাস করে আসছিলেন। খালেদা আক্তার বাপের বাড়ি থাকা নিয়ে প্রায় স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাধ লেগে থাকত। প্রতিদিনের ন্যায় শুক্রবার রাতে মোজাম্মেল হোসেন শ্বশুর বাড়ি এসে রাত্রি যাপন করেন। শনিবার ভোর রাতে মোজাম্মেল হোসেন তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির পাশর্^বতী পকুরে গোসল করতে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় মোজাম্মেল পুকুর পাড়ে খালেদাকে গলাটিপে হত্যা করে। এসময় মোজাম্মেল লাশ পুকুর পাড়ে রেখে পালিয়ে যায়। সকালে বাড়ির লোকজন পুকুর পাড়ে খালেদার লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। খালেদার মীম নামে চার বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
খালেদার পিতা মোবারক হোসেন বলেন, শুক্রবার রাতে মোজাম্মেল হোসেন রাজন আমাদের বাড়িতে আসে। খাবার খেয়ে রাজন ও খালেদা আমাদের আরেকটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। শনিবার ভোরে পুকুর পাড়ে খালেদার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পাশের বাড়ির লোকজন আমাদেরকে খবর দেয়। পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে রাজন আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। এব্যাপারে খালেদার পিতা মোবারেক হোসেন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছি। স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ চাঁদপুরে
আসছেন নৌ-মন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর
দীর্ঘ বছর প্রতিক্ষার পর আজ রোববার ৪ নভেম্বর চাঁদপুরে প্রস্তবিত আধুনিক নৌ-বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
আজ ৪ নভেম্বর চাঁদপুর স্টেডিয়ামে হেলিকাপ্টারে অবতরণ করে লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। এরপর বিকেলে চাঁদপুর লঞ্চঘাট পরিদর্শন এবং প্রস্তাবিত আধুনিক বন্দর ও টার্মিনালের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন।
গত ৩১ অক্টোবর চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরামের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডা. দীপু মনি এমপি তার বক্তব্যে এমন একটা ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছিলেন আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে চাঁদপুরে আধুনিক নৌ-বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে প্রায় ৪ একর ভূমির ওপর বর্তমান লঞ্চঘাট শহরের মাদ্রাসা রোডেই নির্মিত হচ্ছে আধুনিক লঞ্চঘাট। প্রায় ৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ লঞ্চঘাট নির্মাণ করা হবে।
২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর একনেকের সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। শহরের মাদ্রাসা রোডে বর্তমান লঞ্চঘাটটি ২ দশমিক ৪৮ একর জমির ওপর অবস্থিত। আরও দেড় একরসহ প্রায় ৪ একর জমির ওপর দ্বিতল ভবনের লঞ্চঘাট তৈরি করা হচ্ছে।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, দুইতলা বিশিষ্ট আধুনিক এই নৌ-বন্দরে ৬টি নতুন পন্টুন, ৬টি গ্যাংওয়ে, নৌ থানার স্থায়ী কার্যালয়, যাত্রী বিশ্রামাগার, নিশি বিল্ডিং এলাকার উত্তর পাশ দিয়ে ২০ ফুট চওড়া সড়কসহ দুটি ওয়ানওয়ে সড়ক হবে। এ ছাড়া ঘাটে ৪-৫শটি সিএনজি-অটোরিকশা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
চাঁদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার আধুনিক মানের স্থায়ী নৌ-টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে করে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, রায়পুর, লক্ষীপুর ও চাঁদপুরের ঢাকা ও দক্ষিণাঞ্চলগামী হাজার হাজার যাত্রী সুফল ভোগ করবে।