শুক্রবার ১৪ অগাস্ট ২০২০


নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট


আমাদের কুমিল্লা .কম :
12.11.2018

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ রবিবার (১১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ড. কামাল হোসেন এই ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ড. কামাল বলেন, ‘আমরা জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিচ্ছি। আমাদের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তারা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। ইনশাল্লাহ এবারও হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হবে। সবচেয়ে বড় দাবি পরিবর্তন। সংবিধানের মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে এই ঐক্য গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই ঐক্য।’
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে আজ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দুপুর সোয়া ১টায় ওই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। ড. কামালের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছে। কিন্তু সংলাপের পর সরকারি দল সমঝোতার কোনও মনোভাব দেখায়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সরকারের কাছে যে সাত দফা দাবি দিয়েছি, তার প্রায় সবগুলো তারা পূরণের কোনও আশ্বাস তো দেনইনি, উপরন্তু কয়েকটিকে অসাংবিধানিক অভিহিত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বলেছিলেন আমরা সভা করলে কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না। এছাড়া গায়েবি মামলায় বিএনপি নেতাদের ধরপাকড় বন্ধ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। রাজশাহীতে বিএনপির জনসভায় নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একদিনেই প্রায় ৫২ জনেরও বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।’
বর্তমান সরকারের চাহিদা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের তফসিল পেছানোর আহ্বানে সরকার সাড়া দেয়নি। আর নির্বাচন কমিশনার সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণা করেছে। তড়িঘড়ি করে একাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা প্রমাণ করে সরকার সংলাপের পর কোনও সমঝোতায় যায়নি। কোনও শর্তই সরকার পালন করেনি। এই পরিস্থিতিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া অসম্ভব ব্যাপার। তারপরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি নির্বাচনের তারিখ এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশন ও সরকারের তৎপরতার প্রতি কড়া নজর রাখবে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একক কোনও প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কিনা- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ও কামাল জানান, এই সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।