শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
  • প্রচ্ছদ »sub lead 1 » লাকসামে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর


লাকসামে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর


আমাদের কুমিল্লা .কম :
25.11.2018


স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বাসা বাড়িতে হামলা, ভাংচুর এবং পিকআপ ভ্যান যোগে মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের চরবাড়ীয়া গ্রামে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর ও লুটপাট করে অভিযুক্তরা। এছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানকে বেধরক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ করছেন তার স্বজনরা।
লাকসামের বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান লাকসাম পৌরশহর সংলগ্ন নরপাটি বাজারের চা খাচ্ছিলেন। তখন স্থানীয় ছাত্রলীগের ২০/২৫ জনের একটি দল তাকে বেধরক পিটিয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে আটকে রাখে। পরবর্তীতে লাকসাম থানা পুলিশকে খবর দিয়ে আমানকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এদিকে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আবুল কালামকে লাকসাম পৌর সদরের জগন্নাথ বাড়ি এলাকায় যুবলীগ ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ তাকে আটক করে বেধম মারধর করে। এরপর কালামকে লাকসাম দৌলতগঞ্জ গরু বাজার এলাকায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে যায়।
আজগরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতার স্ত্রী ওম্মে কুলসুম অভিযোগ করেন, তার বাড়ি সাফিয়া মঞ্জিলে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী তা-ব চালায় ওই ইউপির চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আবুল মেম্বার, যুবলীগ নেতা সোহাগ, জসীম, ছাত্রলীগ নেতা জামসেদ, বিল্লালসহ ৪৫/৫০ জনের একটি দল। তারা হামলা চালিয়ে আলমিরা, সুকেচ, টিভি, সোফা,ও ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে ও লুটপাট চালিয়ে নগদ ৩০ লাখ টাকা, ২০ ভরি স্বর্ণ অলংকার নিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত আজগরা ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
লাকসাম উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ও লাকসাম পৌরসভার মেয়র মো. আবুল খায়ের বলেন, শুক্রবার যুবলীগ-ছাত্রলীগ কোথায়ও হামলা করেছে বলে আমার জানা নেই। আমরা এখন সবাই উৎসবের আমেজে নির্বাচনের কাজ করছি। বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই এবং একটি ইস্যু তৈরি করার জন্যই এমন মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলছে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোজ কুমার দে জানান, সাবেক ছাত্রদল নেতা আমান এলাকায় মারামারি করছিল। স্থানীয়রা ধরে পুলিশের কাছে দেয়। থানায় এনে রাতে আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করি। আর অন্য কোন স্থানে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা তিনি জানেন না, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান।