শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮


আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে নানা হিসাব


আমাদের কুমিল্লা .কম :
06.12.2018

কুমিল্লা -৬(সদর) আসন


মাহফুজ নান্টু: সিটি কর্পোরেশন,সেনানিবাস ও ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুমিল্লা সদর-৬ সংসদীয় আসন। পুরো জেলায় ১১টি আসনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর আসনের দিকে নজর থাকে সবার। দীর্ঘ বছর পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আসন্ন একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায় বেশ জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। সদর আসনে জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার ও দলীয় নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে দীর্ঘদিন নিজেদের দখলে থাকা আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপির প্রার্থী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। আর এ কারণেই নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময়ের আগে অনানুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। কৌশলে কুশল বিনিময়,চা-চক্র আর উঠোন বৈঠকে প্রধান দুই প্রার্থী নিজেদের জয়-পরাজয়ের হিসেব নিকেশ করে চলছেন। দু’প্রার্থীই ইতিমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কেন্দ্র কমিটি গঠন করেছেন। দু প্রার্থীর একই কথা। যত যাই হোক মাঠ ছাড়া যাবে না।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১০ ডিসেম্বর। ওই দিন থেকে প্রার্থীরা তাদের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে তার আগেই গত বেশ কয়েক দিন ধরে কুমিল্লা সদর আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে উঠোন বৈঠক,জনবহুল এলাকাগুলোতে করমর্দন-চা চক্রে সময় পার করছেন। হাজী বাহারের হয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতেও দেখা গেছে দলীয় নেতাকর্মীদের। বিশেষ করে উঠোন বৈঠকে মহিলা সমাবেশ ও তরুণ ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চলছে। সদর আসনে বিগত দিনে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে সে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাজী বাহার ও তার অনুসারী নেতাকর্মীরা।
প্রচার-প্রচারণা এবং নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে কথা হয় কুমিল্লা সদর আসনের আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহারের সাথে। তিনি জানান, আমি দলীয় মনোনীত প্রার্থী। দলের অন্য নেতাকর্মীদের দায়িত্ব রয়েছে। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবে। এখন আমি পুরোপুরি মনোযোগ দিয়ে রেখেছি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায়।
হাজী বাহার আরো বলেন, স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ সরকারে গত দুই মেয়াদে যত উন্নয়ন হয়েছে তা আর কোন সরকারের আমলে হয়নি। মহানগরী থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ,কালভার্ট ব্রিজ কোথায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিশেষ করে কুমিল্লা সদরের মাঝে প্রবাহিত গোমতী নদীর উপরে তিনটি ব্রিজ নির্মাণ করেছি। এই তিনটি ব্রিজ গোমতী উত্তর জনপদের সাধারণ মানুষের চলাচলে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা তৈরি করে দিয়েছি। এখন গোমতী উত্তর জনপদের সামাজিক অর্থনৈতিক জীবনমানে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে নগরী ও নগরীর বাইরে চাঁদাবাজি-ছিনতাই চুরি ডাকাতি অনেক অংশে কমিয়ে এনেছি। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মাদকের যে দুর্নামটি বয়ে বেড়িয়েছি তা এখন অনেকাংশে হ্রাস করেছি। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে নিয়ে আসবো।
এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পরে প্রচার-প্রচারণা করবেন বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক-কুমিল্লা কুমিল্লা (দ:) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বিএনপির প্রার্থী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। তিনি এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে। এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ডে গিয়ে কুশল বিনিময়,চা-চক্রের মাধ্যমে ধানের প্রতীকে ভোট চাইছেন। সেই সাথে এবারের নির্বাচনে তাদের দলীয় নেত্রীকে মুক্ত করা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নির্বাচন হিসেবে প্রচারণা চালয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পরিকল্পনা কিংবা জয়ের ব্যাপারে তাদের প্রত্যাশা কতটুকু এ বিষয়ে হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা,মানুষের ভোটের অধিকার,বাক স্বাধীনতার অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। আশা করি অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা একটি স্বৈরশাসকমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবো।
তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন,নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেবে নতুন ভোটার। তবে তার আগে অন্তত সদর আসনে একটি বড় বিষয় হলো দলীয় কোন্দল। যা বিগত নির্বাচনে দু’দলই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠে। যে দল কোন্দল মিটিয়ে নির্বাচনের মাঠে অবস্থান করবেন মূলত জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ঝুঁকতে পারে।