শুক্রবার ৩ জুলাই ২০২০


জাপার দুই এমপি‘র সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুণ


আমাদের কুমিল্লা .কম :
07.12.2018


মহিউদ্দিন মোল্লা
কুমিল্লার জাপার দুই এমপি‘র সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুণ। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জমা দেয়া হলফনামা থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৯জন আওয়ামী লীগ থেকে এবং বাকী দুইজন জাতীয় পার্টি(এরশাদ) থেকে এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের এমপিদের সাথে জাপার দুই এমপি নুরুল ইসলাম মিলন ও আমির হোসেনের সম্পদও বেড়েছে কয়েকগুণ।
কুমিল্লা-২(হোমনা তিতাস) আসন থেকে নির্বাচিত হন মো. আমির হোসেন। আগের হলফনামায় ব্যবসা থেকে তাঁর বাৎসরিক আয় ছিলো,আড়াই লাখ টাকা,তা এবার দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৬২হাজার ২৬২টাকায়। গতবার তাঁর নিকট নগদ টাকা ছিলো দেড় লাখ টাকা,এবার তা দাঁড়িয়েছে ৪১লাখ ৪২হাজার ৪৪৫টাকায়। আগে তাঁর বৈদেশিক মুদ্রা ছিলো না। এবার তা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ডলারে। আগে তাঁর গাড়ি ছিলো না, এবার তাঁর গাড়ির মূল্য ৫৮লাখ ৫০হাজার ২২৯টাকা। তার স্বর্ণের পরিমাণও বেড়েছে,গতবার ছিলো সাত ভরি,এবার আছে ২০ তোলা। গতবার ৬০হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য ছিলো,এবার আছে এক লাখ ২০হাজার টাকার। আসবাবপত্র ছিলো তিনটি খাট এবং একটি সোফা সেট। এবার হলফনামায় তাঁর কোনো আসবাব পত্রের কথা উল্লেখ নেই। তার কৃষি জমির পরিমাণ বাড়েনি,১৫শতক কৃষি জমি রয়েছে। অকৃষি জমি কিনেছেন নয় শতক ১৯লাখ ১০হাজার টাকা দিয়ে। ২০লাখ ৫০হাজার টাকা খরচ করে বিল্ডিং করেছেন। তার ঋণ ও মামলা কোনটাই নেই।
এদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জমা দেয়া হলফনামায় আমির হোসেন উল্লেখ করেন তিনি এসএসসি পাশ,একাদশে উল্লেখ করা হয় তিনি আলিম পাশ(মাদ্রাসা লাইনে এইচএসসি)। মাদ্রাসা শিক্ষকদের দাবি জেনারেল লাইনে এসএসসি পাশ করা কেউ মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করার কথা নয়।
এই বিষয়ে আমির হোসেন বলেন,তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলিমের সার্টিফিকেট হাতে পাননি তাই এসএসসি উল্লেখ করেছেন। তিনি জেনারেল লাইনে এসএসসি পাশ করার পরম মাদ্রাসা লাইনে আলিম পাশ করেছেন বলেও জানান।
কুমিল্লা-৮(বরুড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হন নুরুল ইসলাম মিলন। আগের হলফনামায় কৃষিখাত থেকে তাঁর কোনো আয় ছিলো না। এবার কৃষিখাতের আয় দুই লাখ টাকা। গতবার তার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা থেকে আয় ছিলো নয় লাখ ৯০ হাজার। এবার তা দাঁড়িয়েছে ১২লাখ টাকায়। সঞ্চয়,শেয়ার,ব্যাংক আমানত থেকে তার নতুন করে আয় বেড়েছে তিন লাখ টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী পান ২৩লাখ ৭৫হাজার টাকা। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান দেড় লাখ টাকা। গতবার তাঁর নিকট নগদ টাকা ছিলো ৫০হাজার টাকা,এবার তা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ টাকায়। আগে তাঁর গাড়ি ছিলো না, এবার তাঁর গাড়ির মূল্য ৪০লাখ টাকা। আগে স্থায়ী আমানত ছিলো না,এবার সেভিংস সঞ্চয়পত্রে রয়েছে তিন লাখ টাকা। তার স্বর্ণের পরিমাণ বেড়েছে,গতবার ছিলো ১০ ভরি,এবার হয়েছে ২৫ভরি। গতবার ২০হাজার টাকার ইলেকট্রনিক্স পণ্য ছিলো,এবার আছে তিন লাখ টাকার পণ্য। তার কৃষি জমির পরিমাণ বাড়েনি,৬০একর কৃষি জমি রয়েছে। অকৃষি জমি কিনেছেন এক একর, ১০লাখ টাকা দিয়ে। এক লাখ টাকা খরচ করে গ্রামে বিল্ডিং করেছেন। এবার উল্লেখ করেছেন দুই লাখ টাকা খরচ করে বাড়ি তৈরি করেছেন। আগে উল্লেখ করেছেন ঢাকার কলবাগানে ৬০লাখ টাকায় বাড়ি করেছেন। এবার সেখানে ৭০লাখ টাকা উল্লেখ করেছেন। আগে তার সাড়ে ১৫লাখ টাকার ঋণ ছিলো। এবার তার কোনো ঋণ নেই। একটি মামলা থাকলেও সেটি প্রত্যাহার করা হয়।